আপডেট মে ১০, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৫ রমযান, ১৪৪০

ফিচার ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুফি সাধক খাজা বাবার পবিত্র ভূমি আজমীর শরীফ

ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুফি সাধক খাজা বাবার পবিত্র ভূমি আজমীর শরীফ

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ:  আজমীর শরীফ দেখতে মন ব্যাকুল হলো জয়পুরে পৌঁছেই। রাতটা কাটিয়ে পরদিন সকালেই প্রস্তুতি নিলাম খাজা বাবার আজমীর শরীফ গিয়ে যদি একটু দোয়া মেলে তবেই তো জীবনটা হবে সার্থক।

এ কথা ভাবতে ভাবতে জয়পুর থেকে যাওয়া আজমীর শরীফে। শহর ছাড়িয়ে এগিয়ে চলছে কার। যে দিকে চোখ যায় মনে হয়, এ যেনো মরু অঞ্চল। তখনতো প্রচন্ড হাড় কনকনে শীত। ছিল ফেব্রুয়ারি মাস। শীতের সকাল! চোখ বুজলেই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে একটি দৃশ্য। হাড় কনকনে শীতে জবুথবু একটি ভোর। যতোই কনকনে শীতে অস্থির হই না কেন- তবুও মনে বড় আশা, কখন গিয়ে যে পৌঁছবো আজমীর শরীফে।

সকাল ৭টায় ছেড়ে যাওয়া কার ৪ ঘণ্টা পরে ১১টায় গিয়ে পৌঁছলো আজমীর শরীফে। যে দিকে তাকাই মনে হয়- এ যেনো এক পবিত্র ভূমি। কত না মানুষের মনে স্বপ্ন জাগে, আজমীর শরীফে আসার।

কারো স্বপ্ন পূরণ হয়, কারো বা পূরণ হয় না! বাহ তবুতো এসেছি। ভাবছি আর ভাবছি- কোথায় আমার বাংলাদেশ আর কতই না দূরে এই আজমীর শরীফ!

আজমির শরীফে আমাদের অভ্যর্থনা জানান ভারত সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদস্য মুনাওয়ার খান এবং তার সহযোগিতায় জেয়ারত করলাম। এসময় তিনি আমাদের আজমির শরীফ ঘুরে দেখতে আন্তরিক ভাবে সহযোগিতা করেন।

ধর্মের গুরুত্বের বিচারে মক্কা-মদিনার পরেই এই দরগা শরীফের স্থান। জানেন, সেই মোগল আমলে মোগল সম্রাট আকবর আগ্রা থেকে তীর্থযাত্রীদের নিয়ে এখানে আসতেন। শহরের গলিপথের মধ্য দিয়ে হেঁটেই দরগায় পৌঁছানো যায়। ভ্রমণ করতে মন চায় না এমন লোক খুঁজে পাওয়া সত্যি অনেক কঠিন ব্যাপার। ঠিক তেমনি অনেকের অনেক কিছুই কাছ থেকে দেখার জন্য চেষ্টা করে কেউ পারে আর কেউ হয়তো পারে না শুধু অতৃপ্তিই রয়ে যায়।

খাজা মইনুদ্দিন চিশতী হলেন চিশতীয় ধারার ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুফি সাধক। তিনি ১১৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১২৩৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি গরিবে নেওয়াজ নামেও পরিচিত। মইনুদ্দিন চিশতীই উপমহাদেশে প্রথম এই ধারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত করেন। তিনি ভারতে চিশতী ধারার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ধারা বা সিলসিলা এমনভাবে পরিচিত করেন ;পরবর্তীতে তাঁর অনুসারীরা যেমন, বখতিয়ার কাকী, বাবা ফরিদ, নাজিমদ্দিন আউলিয়াসহ আরো অনেকে ভারতের ইতিহাসে সুফি ধারাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।

ধারনা করা হয়,খাজা মইনুদ্দিন চিশতী ৫৩৬ হিজরী/১১৪১ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পারস্যের সিসটান রাজ্যের চিশতীতে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি পারস্যে বেড়ে উঠেন। পনেরো বছর বয়সে তার পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে একটি বাতচক্র (উইন্ডমিল) ও একটি ফলের বাগান উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন। কিংবদন্তী অনুসারে, একদিন তিনি তাঁর ফলবাগানে পানি দিচ্ছিলেন তখন তার ফলবাগানে আসেন বিখ্যাত সুফি শেখ ইবরাহিম কুন্দুজী (কুন্দুজী নামটি জন্মস্থান কুন্দুজ থেকে এসেছে)। যুবক মইনুদ্দিন তটস্থ হয়ে যান এবং কুন্দুজীকে কিছু ফল দিয়ে আপ্যায়ন করেন। এর প্রতিদানস্বরূপ কুন্দুজী মইনুদ্দিনকে এক টুকরা রুটি দেন ও তা খেতে বলেন। এই পর তিনি তার সম্পত্তি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র গরীবদের মাঝে বিতরণ করে দেন। এরপর তিনি বিশ্বের মায়া ত্যাগ করে জ্ঞানার্জন ও উচ্চ শিক্ষার জন্য বুখারার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

আজমীর শরীফ যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে ঢাকা থেকে কলকাতা। কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে সরাসরি আজমীরের ট্রেন পাওয়া যায়। এর মধ্যে অনন্যা এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। এই ট্রেনে যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা। এছাড়াও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে আজমীর সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেসে যেতে পারেন। সময় লাগবে ২৭ ঘন্টা ৪০ মিনিট। ভাড়া এসি থ্রী-টায়ার ২৮০০ রুপি। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে রাত ১১.০৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। ক্ষেত্রবিশেষে সময় বেশিও লাগতে পারে। ট্রেনটি আজমীরের রেল স্টেশনে নামিয়ে দেওয়ার পর মাজার সড়কে যেতে অটো রিকশায় ৩০ রুপি, রিকশায় ২০ রুপি লাগবে। এছাড়াও জয়পুর থেকে প্রাইভেট গাড়ী ভাড়া করে যেতে পারেন। সময় লাগবে ২ ঘন্টা।

লেখক : নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)