আপডেট ১৬ মিনিট ১২ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৪ শাওয়াল, ১৪৪০

ভ্রমন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল কেল্লা বর্তমানে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র

ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল কেল্লা বর্তমানে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ:  দিল্লির লাল কেল্লা ভারতের সকল স্থাপনাগুলির অন্যতম একটি জায়গা, এটি অন্যতম সর্বাধিক পরিদর্শনীয় স্থাপনা। লাল কেল্লা খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রাচীর-বেষ্টিত পুরনো দিল্লি শহরে মুঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত একটি দুর্গ। ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই দুর্গটি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। এরপর ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করলে ভারতের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই দুর্গটিকে একটি সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক: প্রতি বছর ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লার লাহোরি গেট সংলগ্ন একটি স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন। ২০০৭ সালে এই কেল্লাটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

অটোমোবাইল অ্যসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার আমন্ত্রণে ট্রাফিক আইন নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ এবং ভারতের দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শনে যাওয়া হয়। অটোমোবাইল অ্যসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার আহবানে ভারতের এ অন্যতম সর্বাধিক পরিদর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সেখানের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা এবং দর্শনীয় স্থাপনাগুলো প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা মনে থাকবে আজীবন। আনন্দভ্রমণ বিষয়ে কথা হবে অন্য সময়। ফিরে যাওয়া যাক মূল বিষয় ভারতের অসাধারণ স্থাপনা পুরনো দিল্লি শহরে মুঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত লাল কেল্লা দুর্গের কথা প্রসঙ্গে।

যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত দিল্লি অঞ্চলে জনবসতির উন্মেষ ঘটে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। দিল্লি সুলতানির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি উত্তর-পশ্চিম ভারত ও গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের মধ্যস্থলে অবস্থিত এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক নগররূপে বিকশিত হয়ে ওঠে। দিল্লি অঞ্চলে একাধিক প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সৌধ, প্রত্নস্থল ও প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের দেখা মেলে। ১৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট শাহজাহান শাহজাহানাবাদ নামে দিল্লিতে একটি দূর্গনগরী স্থাপন করেন। এই শহর ১৬৪৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ অবধি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের পর কলকাতায় রাজধানী স্থানান্তরিত হয়। কোম্পানির শাসনকালে ও পরে ব্রিটিশ রাজত্বে দীর্ঘকাল কলকাতা ছিল ভারতের রাজধানী। ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জ পুনরায় দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। ১৯২০-এর দশকে পুরনো দিল্লির দক্ষিণে নতুন দিল্লি নামে এক নতুন রাজধানী শহর নির্মিত হয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর নতুন দিল্লি ভারতের রাজধানী তথা সরকার কেন্দ্র বলে ঘোষিত হয়। ভারতীয় সংসদ সহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় নতুন দিল্লিতে অবস্থিত।

বর্তমানে সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষা ও জাতির মানুষ দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করায় দিল্লি একটি বহুজাতিক মহানগরে পরিণত হয়েছে। দ্রুত উন্নয়ন ও নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে দিল্লিবাসীদের গড় আয় তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বর্তমানে দিল্লির অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আজ দিল্লি ভারতের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

লাল কেল্লা খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রাচীর-বেষ্টিত পুরনো দিল্লি (অধুনা দিল্লি, ভারত) শহরে মুঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত একটি দুর্গ। ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই দুর্গটি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। এরপর ব্রিটিশ ভারতীয় সরকার মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করলে ভারতের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই দুর্গটিকে একটি সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক: প্রতি বছর ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল কেল্লার লাহোরি গেট সংলগ্ন একটি স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে থাকেন। ২০০৭ সালে এই কেল্লাটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহান সুবৃহৎ এই কেল্লাটির নির্মাণকার্য শুরু করেন। নির্মাণকার্য শেষ হয় ১৮৪৮ সালে। প্রথম দিকে এই দুর্গের নাম ছিল “কিলা-ই-মুবারক” (“আশীর্বাদধন্য দুর্গ”); কারণ এই দুর্গে সম্রাটের পরিবারবর্গ বাস করতেন। দুর্গটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীর জলেই পুষ্ট হত দুর্গপ্রকারের পরিখাগুলি। দুর্গের উত্তর-পূর্ব কোণের প্রাচীর সালিমগড় দুর্গ নামে অপর একটি প্রাচীন দুর্গের সঙ্গে সংযুক্ত। ১৫৪৬ সালে ইসলাম শাহ সুরি এই প্রতিরক্ষা দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। লাল কেল্লার পরিকল্পনা ও সাজসজ্জা শাহজাহানের শাসনকালে মুঘল স্থাপত্য ও চিত্রকলার উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রকৃতপক্ষে লাল কেল্লা ছিল দিল্লি ক্ষেত্রের সপ্তম নগরী তথা শাহজাহানের নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের রাজপ্রাসাদ। পরবর্তীকালে অবশ্য তিনি দিল্লি থেকে আগ্রা শহরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেছিলেন। ১৭৮৩ সালের ১১ মার্চ শিখরা সাময়িকভাবে লাল কেল্লায় প্রবেশ করে দিওয়ান-ই-আম দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছিল।

লাল কেল্লায় বসবাসকারী শেষ মুঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার পর ১৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর লাল কেল্লা পরিত্যাগ করেন। পরে তিনি ব্রিটিশ বন্দী হিসেবে এই দুর্গে ফিরে আসেন। এখানেই ১৮৫৮ সালের ২৭ জানুয়ারি তাঁর বিচার শুরু হয় এবং ৭ অক্টোবর তাঁকে নির্বাসন দণ্ড দেওয়া হয়। এরপর লাল কেল্লার কর্তৃত্ব ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। তারা এটিকে একটি ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে। ১৯৪৫ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের পরাজয়ের পর লাল কেল্লাতেই যুদ্ধবন্দীদের বিচার হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই কেল্লাটি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।

লাল কেল্লার অলংকরণ ও শিল্পকর্ম অতি উচ্চমানের। পারসিক, ইউরোপীয় ও ভারতীয় শিল্পকলার সংমিশ্রণে সৃষ্ট এই অভিনব শিল্পকলা ব্যঞ্জনাময়, বর্ণময় এবং স্বতন্ত্রতার দাবিদার। দিল্লির লাল কেল্লা ভারতের সেই সকল স্থাপনাগুলির অন্যতম যার সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের যোগ ঐতিহাসিক সূত্রে গ্রথীত। স্থাপত্য সৌকর্যের বিচারেও এই দুর্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে ১৯১৩ সালে লাল কেল্লা জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা রূপে ঘোষিত হয় এবং সরকার কেল্লার রক্ষণাবেক্ষণের ভার স্বহস্তে গ্রহণ করে।

দুর্গের প্রাচীর মসৃণ এবং দৃঢ়। দুর্গের দুটি প্রধান দরজা – দিল্লি গেট ও লাহোর গেট। লাহোর গেট হল প্রধান দরজা। এই গেট দিয়ে ঢুকলে একটি লম্বা আচ্ছাদিত বাজার পথ পড়ে। এর নাম চট্টা চক। এই পথের দুদিকের দেওয়াল দোকানের মতো করে স্টল দিয়ে সাজানো। চট্টা চক ধরে সোজা এলে উত্তর-দক্ষিণ পথ পাওয়া যায়। এই পথটি আসলে দুর্গের পশ্চিমের সামরিক ক্ষেত্র ও পূর্বের রাজপ্রাসাদের সীমানা। এই পথের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দরজাটিই হল দিল্লি গেট। তথসুত্র- উইকিপিডিয়া।

লেখক : শফিক আহমেদ সাজীব, সাধারণ সম্পাদক নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)