ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ৩১, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৫ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৮ জিলহজ্জ, ১৪৪০

ভ্রমন ভারতের শৈলশহর মুসৌরি বেশ মনোরম

ভারতের শৈলশহর মুসৌরি বেশ মনোরম

নাসিম রুমি, ৩১ জুলাই ২০১৯, নিরাপদ নিউজ : ভারতের পাহাড়রে রানী মুসৌরি। উচ্চতায় ৬,৫০০ ফুটের বেশি, দেরাদুনের থেকে ৩৫ কিমি দূরে। অন্ধকার নামলে তার বসতির আলোগুলি একে একে যখন জ্বলে ওঠে, মনে হয় গোটা মুসৌরি অতি যত্ব করে যেন কেউ তারা দিয়ে সাজিয়েছে। মুসৌরির প্রবেশদ্বার মূলত ২টি-গান্ধীচক ও পিকচার প্যালেস। শহরের মোটামুটি মাঝখানে ম্যাল।পিকচার প্যালেস থেকে লান্ডৌর বাজার হয়ে ৫ কিমি ওপরে তার সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ লালটিলা দূর থেকে তাকে রোদে মায়াতে মেশানো কেমন যেন মেঘের রাজ্য বলে মনে হয়। একটা খুব পুরনো লাইট হাউসও আছে সেখানে। দ্বিতীয় উচ্চ পয়েন্ট হল গানহিল। ম্যালের থেকেই গানহিলে যাওয়ার জন্য রোপওয়ে পাবেন। ভাড়া ৭০ টাকা। চলা শুরু হলে আর গন্তব্যে পোঁছেনোর কথাও মনে থাকে না, পুরো পথটাই পাগলপারা প্রকৃতির রূপের সৌন্দর্য্য। তার পর যখন পৌঁছেলেন, জানবেন পা দিলেন আরেক স্বপ্নরাজ্যে । পাহাড়ের গায়ে গায়ে মেঘের ভেলা। দূরে নীলের ঘনত্ব যেন আরও বেশি (পাহাড়ের রানী মুসৌরি) রূপ যতই দেখবেন, ততই দৃষ্টি ভাষা হারিয়ে ফেলে, সেখানেই মিশে যায়।

ভাট্র জলপ্রপাত

আঞ্চলিক পোশাক পরে ফটো তোলারও ব্যবস্থা আছে। যাকে না দেখলে মুসৌরি সফরটাই অধরা থেকে যাবে সেটি হল কেম্পটি ফলস,। মন্থর পর্বতশ্রেণীর মাঝেই সব বাকশূন্যতা ভেঙে উচ্ছল হেসে ঝরে পড়ে জলপ্রপাতটি। শুধু বসে তাকে দেখতে দেখতেই কীভেবে যে সময় কেটে যাবে বোঝাই যাবে না। সেই দেখা যেতে পারে লেক মিস্ট, মিউনিসিপ্যাল গার্ডেন, মুসৌরি লেক চুপচার বসে সময় কাটাতে, অথবা পরিবার-বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে পিকনিক করতে যদি জায়গা খুঁজতে চান, এদের জড়ি নেই, লেকগুলিতে প্যাডেল বোটিং-এর ব্যবস্থা আছে।

গানহিল ভিউপয়েন্ট থেকে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

গা ভাসাতেই পারেন। জলপ্রপাতের তালিকাও শুধু কেম্পাটিতেই শেষ নয়, রয়েছে- ভাট্র জলপ্রপাত, ঝরিপানি জলপ্রপাত, মসি জলপ্রপাত। ভাট্রাতে মনের সুখে জলে নেমে স্নানও করতে পারেন। হতে পারে ভাট্রা অত বড়সড় নয়, কিন্তু কেম্পটির থেকে অনেক সুন্দর। এ ছাড়াও এখানে দেখার আছে হ্যাপি ভ্যালি, ধনৌলটি, মুসৌরি হেরিটেজ সেন্টর, তেহরি ড্যাম। লাইব্রেরি পয়েন্ট থেকে শুরু করে কুলরি বাজার পর্যন্ত ৩ কিমি জায়গাটাকে বলা হয় ক্যামেল ব্যাক রোড। গোটাটা দেখতে ঠিক একটা উটের পিঠের মতো। পাহাড়গুলো প্রাকৃতিকভাবেই এমনভাবে রয়েছে যে দেখলে উটের পিঠের কুঁজের মতো মনে হয়। মুসৌরি পাবলিক স্কুলের কাছে উঠলে এটা পরিস্কার দেখতে পারেন। একটানা অক্লান্তভাবে হাটঁতে হবে এমন ভয়ও নেই, মাঝে মাঝেই ভিউ পয়েন্টগুলিতে বসরা ব্যবস্থা করা আছে।

কিভাবে যাবেন:
দিল্লী থেকে বাসে সাত ঘন্টা সময় লাগে মুসৌরি পোঁছতে। দেরাদুন হয়ে মুসৌরীতে যেতে হয়। মুসৌরিতে বিভিন্ন মানের অসংখ্য হোটেল রয়েছে। হাওড়া থেকে দূন এক্সপ্রেস ধরে দেরাদুন পৌঁছনো যায়। দিল্লী থেকেও ট্রেনে দেরাদুন যাওয়া যায়। দেরাদুন থেকে বাসে বা প্রাইভেট কারে মুসৌরী যাওয়া যায় সময় লাগে ৩৫ মিনিট। দেরাদুনেও পর্যকদের আকৃষ্ঠ করে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)