আপডেট ৩৭ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ সফর, ১৪৪১

নারী ও শিশু সংবাদ ভালোবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছেন না মুক্তা!

ভালোবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছেন না মুক্তা!

নিরাপদ নিউজ: ভালোবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছেন না মুক্তা মন্ডল (২০) নামে এক তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি পাঁচদিন ধরে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি গ্রামে স্বামীর বাড়ির ঘরের দরজায় বসে অনশন করছেন।

মুক্তা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদভিটা গ্রামের দরিদ্র ইজিবাইক চালক রান্টু মন্ডলের মেয়ে। দুই বছর আগে রাজৈর কদমবাড়ি গ্রামের বাবু রায়ের ছেলে সৈকত রায়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সৈকত রায় ঢাকার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

অনশনরত মুক্তা মন্ডল জানান, গত চার বছর আগে সৈকত রায়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে দুই বছর আগে পরিবারের অজান্তে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে থাকতেন তিনি। গত ৬ মাস আগে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় বাসা ভাড়া করে সৈকত তাকে নিয়ে যায়। তাদের সংসার ভালোই চলছিল। সৈকতের বাবা বাবু রায় ইতালী প্রবাসী। সৈকতের মা শেলী রায় সংসারের কর্তা। শেলী রায় যখন জানতে পারেন তার ছেলে বিয়ে করে ঢাকায় থাকে তখন থেকেই ছেলেকে কুপরামর্শ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মায়ের পরামর্শ অনুযায়ী সৈকত কিছুদিন আগে মুক্তাকে নির্যাতন করে ঢাকার বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং সৈকত বাসা ছেড়ে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করে।

মুক্তা আরও জানান, কোনো উপায় না পেয়ে গত শনিবার সৈকতের বাড়িতে এসে ওঠেন তিনি এবং স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ সময় সৈকতের মা শেলী রায় তাকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন এবং অরক্ষিত অবস্থায় রেখে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে আত্মগোপন করেন। শনিবার থেকে তিনি সৈকতদের ঘরের বাইরে সিঁড়ির ওপর একা বসে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সৈকতও আত্মগোপনে থেকে ভাড়াটিয়া গুণ্ডা পাঠিয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সৈকতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে তালা লাগানো এবং মুক্তা সিঁড়ির ওপর বসে আছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় মেম্বারদের নিয়ে সেখানে হাজির হন। মুক্তার মুখে বিস্তারিত শুনে তাকে বিচারের আশ্বাস দেন।

কদমবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, বাবু রায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরে তালা লাগানো। মেয়েটিকে বাবু রায়ের পরিবারের মুরব্বিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। দ্রুতই এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজৈর থানা পুলিশের ভারপ্রোপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান বলেন, ঘটনাটা আমার জানা নেই। তবে মেয়েটি যদি আইনের সাহায্য চায়, তাহলে তাকে আইনগত সহায়তা দেয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)