সংবাদ শিরোনাম

২৬শে জুন, ২০১৭ ইং

00:00:00 মঙ্গলবার, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বর্ষাকাল, ৩রা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী
লিড নিউজ, শিক্ষা ভাস্কর্য তছনছে তোলপাড় রাবি

ভাস্কর্য তছনছে তোলপাড় রাবি

পোস্ট করেছেন: মোবারক হোসেন | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৮, ২০১৭ , ৭:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: লিড নিউজ,শিক্ষা

তবে তাদের এ কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

১৮ এপ্রিল, ২০১৭, নিরাপদনিউজ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদে শতাধিক ভাস্কর্য উল্টে রাখার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। দাবি আদায় এবং নিরাপত্তার দাবিতে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের একদল শিক্ষার্থী ‘অভিনব’ এ প্রতিবাদ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের এ কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার গভীর রাতে সবার অগোচরে ৬/৭ জন শিক্ষার্থী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি। মঙ্গলবার সকালে চারুকলা চত্বরে শিক্ষার্থীদের তৈরি করা ভাস্কর্যগুলো এলোমেলো পড়ে থাকতে দেখে অন্য শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জানাজানি হলে গোটা ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভাগে গিয়ে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের মাস্টার্সের ওই শিক্ষার্থীরা ঘটনায় নিজেরা জড়িত বলে স্বীকার করেন। তাদের দাবি, অনুষদ চত্বরে সীমানা প্রাচীরসহ সার্বিক নিরাপত্তা ও বিভাগের উন্নয়নের দাবিতে তারা এ কাজ করেছেন।

জড়িত শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী স্বাধীন ও ইমরান হোসেন রনি জানান, চারুকলা চত্বরে নিয়মিত বহিরাগতরা এসে নেশা করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। মাঝে মধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বেও জড়িয়ে পড়ে তারা। এজন্য সীমানা প্রাচীরসহ অন্য দাবিতে তারা এটা করেছেন বলে জানান।

রাতের অন্ধকারে ভাস্কর্য তছনছের বিষয়ে ইমরান হোসেন রনি বলেন, ‘দিনের বেলায় এসব করলে স্যাররা বাধা দিতেন। তাই রাতে করা হয়েছে। আমরা ৩০/৪০ ছিলাম। আমরা আমাদের শিল্পকর্মের নিরাপত্তা চাই।’

তবে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সঞ্জয় বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবির সঙ্গে একমত। কিন্তু তার জন্য এভাবে শিল্পকর্মের অবমাননা করা উচিত হয়নি।’ তিনি জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সবাই একমত না। গুটি কয়েক শিক্ষার্থী নিজেদের সিদ্ধান্তে এসব করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাবির ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্যব্যক্তিত্ব মলয় কুমার ভৌমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কখনও আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না। আন্দোলনের নামে শিল্পকর্মের অবমাননা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দাবি আদায়ের অনেক পথ খোলা রয়েছে। সেসব বাদ রেখে ভাস্কর্য উল্টে রাখা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।’ জানতে চাইলে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তফা শরিফ আনোয়ার বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থীর এই কাণ্ডে বিভাগ তথা গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এটা কখনও প্রতিবাদের ধরন হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘কেন এটা করা হল, জানতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা বসেছি। তাদের কথা শুনছি। যথাযথ উত্তর দিতে না পারলে অবশ্যই তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’ চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন ছাত্র এটা করেছে। তাদের মধ্যে সামান্য অসন্তোষ ছিল। তেমন কিছু করেনি, এলোমেলো করে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই তো একরকম হয় না। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা তাদের দাবি শুনেছি। ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us