ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ২০, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০

ঢাকা ভৈরবে অগ্নিদুর্যোগ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ

ভৈরবে অগ্নিদুর্যোগ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ

মোঃ আলাল উদ্দিন,নিরাপদ নিউজ:  “প্রতিরোধ করি অগ্নিদুর্যোগ, লাঘব করি মানব দুর্ভোগ” এ শ্লোগানে অগ্নিদুর্যোগ প্রতিরোধে ইউনিয়ন ও পৌরসভাভিত্তিক ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ ও ভলান্টিয়ার তৈরী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ২০ মে দুপুর ১২ টার দিকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর নিচে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালার উদ্যােগ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন ও সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. আনিসুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. জিল্লুর রহমান রাশেদ ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন,দেশে প্রতি বছর প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ লোক ছোট-বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন। ৪ থেকে ৫ লাখ লোক বড় ধরনের অগ্নিদগ্ধতার শিকার হন, যাদেরকে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। অগ্নিদগ্ধ অন্তত ৬ হাজার লোক প্রতিবছর মারা যান। আর এর মধ্যে ২ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে বৈদ্যুতিক শট সার্কিটে। সাড়ে তিন হাজার লোক বিভিন্ন ধরনের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আর এসবের পেছনে রয়েছে জনসচেতনতার অভাব। এটা দূর করা গেলে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা কমে আনা সম্ভব। আর মানুষের মধ্যে এ সচেতনা ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যেগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন এই কর্মশালার মাধ্যামে পৌরসভাসহ প্রত্যেকটা ইউনিয়নে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভলান্টিয়ার তৈরী করা হবে যেন তারা তাদের একালায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে।

এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুজ্জামান বলেন ,উন্নত বিশ্বে ফায়ার সায়েন্স অ্যান্ড পাবলিক সেফটি ইন্সটিটিউটের কর্মীরা শুধু অগ্নিনির্বাপনেই অংশ নেয় না, তারা অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শহরে-গ্রামে কাজ করে থাকে। বাংলাদেশেও এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাতে হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে তাহলে এর মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. জিল্লুর রহমান রাশেদ বলেন, বিশ্বের বড় বড় দেশে বিশ্বমানের কৌশল প্রয়োগ করে অগ্নি দুর্ঘটনাও কমিয়ে এনেছে। বাংলাদেশে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এখনি সময় এই অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ব্যবস্থা নেওয়া ও জনসচেতনতা বাড়ানো।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা মুসা ভূঁইয়া বলেন,এখন প্রযুক্তির যুগ। আগের চেয়ে এখন অগ্নিকাণ্ডের ধরনও পাল্টেছে। তাই উন্নত বিশ্বে দেখা গেছে তারা অগ্নিকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করে থাকে। আমরাও উন্নত বিশ্বকেই অনুসরণ করবো। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অগ্নিকাণ্ডের ধরনগুলো মোকাবেলা করার জন্য নতুন করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভলান্টিয়ার তৈরী করা হবে।

পরে অগ্নিদুর্যোগে অগ্নিনির্বাপক করণে কী কী করণীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা তা মহরার মাধ্যামে জনগনকে দেখান। তাদের মধ্যে থেকে সেচ্ছায় ভলান্টিয়ার হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন ২২ জন। তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর রাখা হয়। পরে তাদের প্রত্যেককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করে সনদ প্রধান করা হবে বলে জানান।

তাদের মধ্যে একজন সেচ্ছাসেবী বা ভলান্টিয়ার হতে আগ্রহী সাকিব জানান, আমাদের দেশে এখন বেশি আগুন লাগছে, এ আগুনে অনেক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটাছে। আগুন লাগলে আমরা ফায়ার সার্ভিস খবর দিয়ে অপেক্ষায় থাকি তারা এসে উদ্ধার করবে।এতে করে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যায়।যদি আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া থাকে বা আমাদের মত সাধারণ মানুষের যদি অগ্নিনির্বাপক সম্পর্কে জানা থাকে তাহলে আমরা ও এই সব দুর্ঘটনায় সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারব। এতে করে অনেক আংশে ক্ষয়ক্ষতি সহ প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।এটি একটি মহৎ কাজ এই কাজে অংশ গ্রহন করতে পেরে আমি অনেক খুশি।সে আরো বলে আমার মত অনেকের উচিত এ মহৎ কাজে যোগদান করা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)