আপডেট ১২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০

ঢাকা ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় ব্যবসায়ী মৃত্যুর বিচার দাবীতে মানববন্ধন

ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় ব্যবসায়ী মৃত্যুর বিচার দাবীতে মানববন্ধন

মো: আলাল উদ্দিন,নিরাপদ নিউজ: ভৈরবের ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় পোল্ট্রি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়ার মৃত্যুর বিচার দাবীতে মানববন্ধন, প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। আজ রোববার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড দুর্জয়মোড় এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী ওইসব কর্মসূচী পালন করেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহণের তীব্র জট তৈরি হয়।

আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে নিহত জুয়েলের নিজ এলাকা চন্ডিবের গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দুর্জয়মোড়ে এসে অবস্থায় নেয়। এ সময় তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবীতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার, প্লে-কার্ড, ফেস্টুন বহণ করে। হাতে হাত রেখে মানববন্ধন তৈরি করে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো এলাকা।

ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে জেল-হাজতে থাকা মৃত্যু ঘটনা এবং দায়েরকৃত মামলার প্রধান অভিযুক্ত ডা: কামরুজ্জামান আজাদের জামিন বাতিল, অন্যান্য আসামীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, যথাযথ অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা ইত্যাদি দাবীতে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌরসভার মেয়র, বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আল মামুন, পৌরসভার কাউন্সিলর আওলাদ হোসেন সওদাগর, আরেফিন জালাল রাজিব, আওয়ামী লীগ নেতা মো: দেলোয়ার হোসেন, সাজ্জাদ ইবনে সুলায়মান, ক্রীড়া সংগঠক মো: রবিন মোল্লা, শিক্ষক নেতা মো: নজরুল ইসলাম রিপন, পৌর যুবলীগের সভাপতি ইমন প্রমূখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে দোষীদের অভিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবী জানান। অন্যথায় রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথ অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি দেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ভৈরব শহরের কমলপুর এলাকার ট্রমা এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙা হাতে ঢুকানো রড অপারেশন করে অপসারণের সময় পোল্ট্রি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়ার মৃত্যু হয়। তিনি এলাকার দক্ষিণ চন্ডিবের গ্রামের হাজী আলাল উদ্দিন মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর ভুল চিকিৎসায় জুয়েলের মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ এনে অর্থপেডিক চিকিৎসক ডা: কামরুজ্জামান আজাদকে অবরুদ্ধসহ হাসপাতালটিতে ভাংচুর চালায় ক্ষুব্ধ স্বজনসহ এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  আনিসুজ্জামানের উপস্থিতিতে পুলিশ, র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে ওই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই কামাল মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার বিকালে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা: কামরুজ্জামান আজাদ, এনেস্থিসিয়াস্টি ডা: মোহাম্মদ ইমরান, ওয়ার্ডবয় গৌরাঙ্গ এবং হাসপাতালের পরিচালক মোশারফ হোসেনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ হেফাজতে থাকা চিকিৎসক ডা: কামরুজ্জামান আজাদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত ওই চিকিৎসকের জামিন আবেদন বাতিল করে জেলে পাঠান।

এদিকে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: মো: হাবিবুর রহমান। শুক্রবার দুপুরে তিনি এই কমিটি গঠন করেন। গঠিত কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গঠিত কমিটির প্রধান করা হয় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বুলবুল আহম্মেদকে। সদস্য সচিব করা হয় কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মামন উর রশিদকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন এনেস্থিয়াসিস্ট ডা: মোহাম্মদ সফি উদ্দিন ও সার্জারি বিভাগের সহকারী সার্জন ডা: নিয়ামুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার দুপুরে গঠিত এই কমিটি গঠনাস্থল পরির্দশন করে স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। প্রত্যক্ষ করেন ভাংচুর হওয়া হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)