আপডেট ৮ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, রাজধানী সংবাদ, লিড নিউজ মহাসড়কের ইন্টারসেকশন সমূহে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মহাসড়কের ইন্টারসেকশন সমূহে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিরাপদ নিউজ: সিরডাপ মিলনায়তনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষ্যে মহাসড়কের ইন্টারসেকশন সমূহে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা  আজ সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়। ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহের আজ ৬ষ্ঠদিনে মহাসড়কের ইন্টারসেকশন সমূহে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান,প্রধান প্রকৌশলী সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর -এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মো: নজরুল ইসলাম, সচিব-সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর মানসম্পন্ন, নিরাপদ টেকসই মহাসড়ক এবং সিশ্লিষ্ট অবকাঠােমা বিনির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে মোট ৭৫৪টি ইন্টারসেকশন আছে এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে রয়েছে ৩৯৪টি আঞ্চলিক মহাসড়কে আছে ৩৬০টি। এই ঝুঁকির্পণ্য মোড় সনাক্ত করণ ও প্রতিকারের উদ্দেশ্যে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এর তত্যাবধানে গবেশনা পরিচালিত করে প্রধান সমস্যগুলো চিহ্নিত করে তার প্রতিকার বাস্তবায়ন করা হবে। এই উদ্দেশ্যে আজ একটি গবেশনামুলক তথ্য সেমিনারে জমা দেয়া হয়। এই গবেশনা তথ্যটি পরামর্শ সংস্থ্যা প্রয়োজনে নতুন নকশা প্রনয়ন করবেন এবং সমস্যা হ্রাসকল্পে নানা কর্মশালা ও প্রশক্ষিণ কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে মহাসড়ককে নিরাপদ করে তোলা হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন আয়োজক প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। মহাসড়ক এর সম্যাগুলো চিহ্নিত করে গবেশনামুলক তথ্য উপথ্যাপন করায় তিনি বলেন,এই গবেশনাটি যদি বাস্তবায়ন করা হয় তবে দেশ থেকে অনেকাংশে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে। তিনি আরো বলেন, মহাসড়কের পাশের অস্থায়ী হাটবাজার সরানো জরুরি। নিরাপদ সড়কের জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক বিধি সংযোজন করতে হবে। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার ও যত্রতত্র রাস্তা পারাপার বন্ধে আরো কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। মহাসড়কের ইন্টারসেকশনগুলোকে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আনতে হবে। দূর করতে হবে সড়কের নির্মাণজনিত ক্রুটি। ইলিয়াস কাঞ্চন আরো জানান, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে তাকে ইনফর্মেশন দিয়েছে যে, দেশের ৬০% এতিম শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় তারা তাদের মা-বাবাকে হারিয়েছে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দেশে ৬০% শিশু এতিম হচ্ছে যা সত্যিকার অর্থে দু:জনক একটি ঘটনা। ইলিয়াস কাঞ্চন দেশের উন্নয়নে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেবার জন্য জরুরীভাবে সকলকে আহবান জানান। সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয় পুরো জাতির ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন,সড়ক দুর্ঘটনা রোধ না করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা ভবিষৎ এ একটি ভয়ংকর আকার ধারন করবে।

সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। মহাসড়কের নির্মাণ তথা প্রকৌশলজনিত ত্রুটি দূর করতে প্রকৌশলীরা সচেষ্ট। এর পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সমীক্ষার তথ্য পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করা হবে।

দিনব্যাপী কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন, প্রকৌশলী আব্দুল ওয়াহিদ ও প্রকৌশলী ফজলুল করিম।

এছাড়া সড়ক প্রকৌশলীসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, হাইওয়ে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে প্রশ্নউত্তর পর্বে অংশ গ্রহণ করেন নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল,সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ ফিরোজ আলম মিলন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)