ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় মহুর্মুহু গুলির শব্দে কাঁপছে সীমান্ত: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কোথায়?

মহুর্মুহু গুলির শব্দে কাঁপছে সীমান্ত: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কোথায়?

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ : মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিতে সে দেশের মুহুর্মুহু গুলির শব্দে সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে। কাঁপছে গোটা সীমান্ত এলাকা। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থেমে নেই। সোমবার ১৪১ জন রোহিঙ্গাসহ গত চার দিনে চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড। সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের টহল জোরদার থাকায় ঢালাও ভাবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ রয়েছে। তবে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে শতশত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

২৮ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংলগ্ন টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমার সীমান্তে রাতের বেলায় আরকান রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিকান্ডে আগুনের লেলিহান শিখা সীমান্ত এলাকা থেকে দেখা যাচ্ছে। রাতে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ভেসে আসছে। বিরোধপুর্ণ এলাকার সীমান্তে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে ও সেন্টমার্টিনের অদুরে জাহাজ যাতায়ত করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মিয়ানমার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সাংবাদিকদের জানান, সামরিক হেলিকপ্টারটি মিয়ানমার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় একটি ক্যাম্পে নামে। ঘন্টা দেড়েক পর আবার চলে যায়। হেলিকপ্টারটি চলে যাওয়ার পর মিয়ানমার সেনারা নির্যাতন আরও বৃদ্ধি করেছে।

সেন্টমাটিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে মিয়ানমারের মেরুল্লা ও হাইসসুরাতা এলাকায় ব্যাপক আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। বঙ্গোপসাগরে দেখা গেছে মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর ৩টি জাহাজ। ফলে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশী বাসিন্দারা। বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যরা সীমান্তের স্থল ও নাফ নদের জলপথে অতিরিক্ত টহল জোরদার রেখেছে এবং সতর্ক পাহারায় রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশও টহল জোরদার করেছে। সীমান্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গত রবিবার বিজিবির মহাপরিচালক মেজর কর্ণেল আবুল হোসেন ঘুমধুম এলাকার সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন।

অপরদিকে প্রাণ বাঁচাতে আরকান রাজ্যের রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। উখিয়ার ঘুমধুমের জলপাইতলী এলাকায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে। তাদেরকে বিজিবি অনুপ্রবেশে বাধা দিয়ে মিয়ানমারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এছাড়া টেকনাফ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ কালে রবিবার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ১৪১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি ও পুলিশ। হোয়াইক্যং ও উনছিপ্রাং সীমান্ত এলাকা থেকে এসব রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়। পরে স্ব স্ব সীমান্ত দিয়ে আটক রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয় ।

গত শুক্রবার থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরা পুরুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করছে। মহিলাদের ধর্ষন করা হচ্ছে। ঘরবাড়ীসহ পুরো এলাকায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।

খুরশিদা বেগম একজন জানান, তার স্বামীকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। চারমাসের একমাত্র শিশুপুত্রকে নিয়ে এলাকার অন্যান্যদের সাথে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসি। কিন্তু এখানেও বিজিবি বাধার মুখে রয়েছি। বর্তমানে অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছি। তিনি আরো বলেন, একদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন, অন্যদিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা। আমরা রোহিঙ্গাদের শেষ আশ্রয়স্থল কোথায়?

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)