আপডেট ৫০ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০

চট্টগ্রাম ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কঠিন হলেও সমন্বিত উদ্যোগে সফলতা আসবে’

‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কঠিন হলেও সমন্বিত উদ্যোগে সফলতা আসবে’

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ: মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কঠিন হলেও জনগণ সহযোগিতা করলে সমন্বিত উদ্যোগে সফলতা আসবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার মো. গোলাম ফারুক। ২৬ জুন ২০১৯ সকালে নগরের মোটেল সৈকতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম মেট্রো উপ অঞ্চল এ সভা আয়োজন করে। ডিআইজি খন্দকার মো. গোলাম ফারুক বলেন, মাদক হচ্ছে সব অপরাধের মা। মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, নির্মূল কঠিন কাজ। বিভিন্ন দেশ মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফিলিপাইন, কলম্বিয়ায় লাখো মানুষ মারা গেছে। চীন দুইবার আফিম যুদ্ধ করেছে। বাস্তবতা কঠিন। মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে পপি ফুলের চাষ হয়। মাদক ব্যবসা হলো তাদের আয়ের বড় উৎস। তারা পর্দার জন্য মেয়েদের গায়ে আলকাতরা মাখতে পেরেছে কিন্তু পপি ফুলের চাষ বন্ধ করতে পারেনি। পাকিস্তান মাদকের করিডোর। মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার মাফিয়া ডনদের বড় ব্যবসা। সারা বিশ্বের নারীদের পতিতালয়ে পাচার করে তারা।


ডিআইজি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আবেগপ্রবণ। যদি চায়-যেকোনো অসাধ্য সাধন করতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দমিয়ে রাখতে পারেনি। হলি আর্টিজান, শোলাকিয়া, পুরোহিত হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জঙ্গিদের আস্তানার খবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছিল জনগণই। তারা জঙ্গিবাদ রুখে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে উদ্যোগ নিলে মাদকবিরোধী যুদ্ধে বিজয় আসবে। দেশপ্রেমের অভাবে আমরা মিয়ানমারের কাছে পরাজিত হচ্ছি। তারা ১২ লাখ রোহিঙ্গা চাপিয়ে দিয়েছে। তারা ইয়াবা দিয়ে এ দেশ থেকে টাকা পাচার করছে।

ঢাকার উচ্চশিক্ষিত, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে ঘোড়াকে ইয়াবা খাওয়ানো হয়। এটা সেবন করলে ক্ষুধা লাগে না, ঘুম আসে না।

মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনে ২৫ গ্রাম ইয়াবাসহ ধরা পড়লে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তাই সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে চাহিদা কমে যাবে। চাহিদা কমলে সরবরাহ কমে যাবে। মাদকসেবীদের চিকিৎসা করাতে হবে। মালয়েশিয়া অদ্ভুত স্টাইলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করেছে। আমাদের মাদক নিরাময় কেন্দ্র বাড়াতে হবে। এখন যে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে সেগুলোতে সমস্যা অনেক। হয় মাদক তুলে দিচ্ছে নয়তো নির্যাতন করছে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. হাবিবুর রহমান, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা, র্যা ব-৭ এর উপ অধিনায়ক মেজর মো. মেহেদী হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটওয়ারী।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)