আপডেট ২৬ মিনিট ২১ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

জীবনযাপন, লিড নিউজ মিরসরাই ট্র্যাজেডি: স্বজনহারা মানুষগুলোর করুণ আর্তনাদ আজও থামেনি

মিরসরাই ট্র্যাজেডি: স্বজনহারা মানুষগুলোর করুণ আর্তনাদ আজও থামেনি

নিরাপদ নিউজ: দেখতে দেখতে কেটে গেছে সাতটি বছর। বুকের মানিক হারানোর সাতটি বছর। সবাই ভুলে গেলেও আজও নিরবে কাঁদেন মা আফরোজা বেগম। ভুলতে পারেন না ছোট্ট ফুটফুটে রফিকুলকে। আজ বেঁচে থাকলে যার বয়স হতো সতেরো। শুধু রফিকুলের মা আফরোজা নন, তার মতো আজও নিঃশব্দে নিরবে কাঁদেন আরও পঁয়তাল্লিশ জন মা। কাঁদেন ১১ গ্রামের শোকার্ত মানুষ।

মিরসরাই ট্র্যাজেডির সপ্তম বর্ষপূর্তি আজ। সেই হূদয়স্পর্শী ঘটনা আজও মিরসরাইবাসীর মনকে ব্যথিত করে তোলে। এ ঘটনার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের স্মৃতি যেন এতটুকু পরিমাণ মুছে যায়নি।

স্বজনহারা মানুষগুলোর করুণ আর্তনাদ আজও থামেনি। যেন আবুতোরাবের পিচঢালা পথে লেপ্টে আছে শোকচিহ্ন। মিরসরাইয়ের ১১ গ্রামের আজও ভেসে আসে শোকার্ত মানুষের কান্না। যে কান্নার রোল থামানোর সাধ্য কারো নেই। এই দিনে মিরসরাইবাসী হারিয়েছিল ৪৫টি উজ্জ্বল নক্ষত্র। যে নক্ষত্রগুলো হয়তো একসময় আলোকিত করতো এই জনপদকে।

সেদিন যা ঘটেছিল :

২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে একটি মিনি ট্রাকে করে বিজয়ী এবং বিজিত উভয় দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা আবুতোরাব এলাকায় যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ডোবায় উল্টে যায় মিনিট্রাকটি। এরপর ডোবা থেকে উঠানো হয় ৪৫টি মৃতদেহ। রচিত হয় মিরসরাই ট্র্যাজেডি।

সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয় আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩ শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। এছাড়া আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার ২, প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজের ২ এবং আবুতোরাব এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষার্থী মারা যায়। এছাড়া একজন অভিভাবকও প্রাণ হারান।

নিহতদের স্মরণে কর্মসূচি :

নিহত শিশু–কিশোরদের স্মরণ করতে প্রতিবারের মত এবারও আবু তোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী কর্মসূচি রেখেছে। দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- কোরআনখানি, দোয়া, কালো ব্যাজ ধারণ, শোকযাত্রা, স্মৃতিফলক আবেগ-অন্তিম এ শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

মিরসরাইয়ের আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার জানান, শোকের সাত বছর পার করে আজ আমরা আমাদের সন্তানদের হারিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত পালনের দিনক্ষণে দাঁড়িয়ে। তবে এটি আমাদের শোক আর পরিতাপের।

দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি জানান, বুধবার (১১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সকাল ৯টায় স্কুলের সকল শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে। সাড়ে ৯টায় শুরু হবে শোক র্যালি। র্যালি শেষে প্রথমে দুর্ঘটনাস্থলে নির্মিত স্মৃতিফলক ‘অন্তিম’ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবে। এরপর স্কুল অভিমুখে নির্মিত স্মৃতিফলক ‘আবেগ’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ। সবশেষে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণসভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)