ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

জীবনযাপন, রাজশাহী মুক্তিযোদ্ধা বাঘা মাঝি’র কপালে জোটেনি সম্মানী ভাতা

মুক্তিযোদ্ধা বাঘা মাঝি’র কপালে জোটেনি সম্মানী ভাতা

সাইদুজ্জামান সাগর,নিরাপদনিউজ: নওগাঁর রাণীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝি স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও তার কপালে জোটেনি এখনও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা। উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহ মাঝি’র ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোবারক মাঝি ওরফে বাঘা মাঝি (১০২) অভাব অনাটনের সংসারে জীবনের শেষ মহুর্তে খেয়ে না খেয়েই চলে তার জীবন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকা সত্বেও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা থেকে বাঘা মাঝি আজও বঞ্চিত। সরকারি বরাদ্দকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা চালু করার জন্য কর্তাব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিয়েও অদ্যবধি সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্মেলিত বজ্রকন্ঠ নামক বই হাতে নিয়ে তার নিজ গ্রাম ভবানীপুর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় মুক্তিযোদ্ধা বাঘা মাঝি। তিন ছেলে এক মেয়ে থাকলেও তাদের বিবাহের পর সবাই পৃথক ভাবে ঘর-সংসার করে। তার স্ত্রী মেয়ের বাড়িতে থাকার কারণে অনেক সময় নিজেই রান্না করে খেতে হয়। কিছু পৈতিক সম্পত্তি থাকলেও একটু সুখের আশায় ছেলে-মেয়েদের লেখে দেওয়ার পর তার প্রতি তেমন আর কেউ লক্ষ্য রাখে না। ছোট ছেলে কিছুটা সহযোগিতা করলেও তার আর্থিক অভাব-অনাটনের কারণে পিতার প্রতি সকল দ্বায়-দায়িত্ব পালন করতে পাড়ে না। বয়সের ভারে আর শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে সে কোন কাজ-কর্মও করতে পাড়ে না। ১০২ বছর রয়সেও তার কপালে জেটেনি বয়স্ক ভাতা।

১৯৭১ সালের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐত্যিহাসিক ৭মার্চ ভাষণে উদ্ধবধ্য হয়ে দেশমাতৃকাকে শুক্রর হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে রাণীনগর উপজেলার ভবানীপুর, ঘোষগ্রাম, কুজাইল, দূর্গাপুর, আত্রাই উপজেলার চাপড়া, সাহাগোলা গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বেশ কিছু লোকজনকে জোর করে কয়েক দফায় নিজে গাইড দিয়ে জেলার বদলগাছী উপজেলার গোবরচাপা হয়ে ভারতে পৌছে দিতো। এই রকম সাহসী ভূমিকার কারণে তার বন্ধ-বান্ধব এবং এলাকাবাসী মোবারক মাঝিকে ‘বাঘা মাঝি’ উপাধী দিয়ে ডাকতো। সেই থেকেই এলাকায় তিনি বাঘা মাঝি হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার সুবাদে তিনিও সেখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল জলিল এবং স্বাধীন বাংলার প্রথম ডেপুটি স্পিকার মরহুম বয়তুল্লাহ তাকে পৃথক ভাবে সার্টিফিকেট প্রদান করেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা অর্ন্তভূক্তি তালিকার ৪০ নাম্বারে রয়েছে তার নাম।

দেশকে পাক-হানাদার বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা করে স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা, সার্বভৌমত্ব, মানচিত্র, গণতন্ত্রের স্বাদ পেলেও নিজের জীবনযুদ্ধে পরাজিত এই বীর সৈনিকের এখনো প্রতিনিয়ত অভাব অনাটন আর শারীরিক অসুস্থ্যতায় রাত কাটে ছোট্ট ঘরে। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা সহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাঘা মাঝি।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন জানান, বাঘা মাঝি আমাকে ও এই এলাকার বেশকিছু মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওনোর জন্য নিজে গাইড দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছে। কি কারণে আজ পর্যন্ত তার কপালে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা জুটলো না তা সত্যই দুঃখজনক। রাণীনগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ্যাড: মো: ইসমাইল হোসেন জানান, বাঘা মাঝিকে আমি চিনতে পারছি না। তবে তার কাছে যে সব কাগজপত্র আছে সেগুলো নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ হারুন অল-রশিদ জানান, বাঘা মাঝির দুইটি সার্টিফিকেটই আমি দেখলাম। সব ঠিক আছে। কিন্তু তিনি কেন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)