ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০

সম্পাদকীয় মুদ্রানীতি

মুদ্রানীতি

নিরাপদ নিউজ: মুদ্রানীতি অর্থনীতিকে খুব একটা প্রভাবান্বিত করতে পারে এমনটা নয়। তবে এই মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বা কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যে কোন অর্থনীতির জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শেষ বা দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতির লক্ষ্য অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক থাকলেও বাস্তবায়ন করাটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময়। অবশ্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই লক্ষ্য পূরণ করা অসম্ভব নয়। ঘোষিত নীতি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও অনেক বিশেষজ্ঞ তা বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখছেন। বেসরকারী খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে যে তারল্য সরবরাহ থাকা দরকার, বর্তমান বাজারে তা নেই। ফলে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো কঠিন। অন্যদিকে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে গেলে সুদহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেজ্ঞরা মনে করছেন মুদ্রানীতি যেভাবে সাজানো হয়েছে তা ঠিক আছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে বাস্তবায়ন। কারণ বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা আনার কথা বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক দিন ধরেই বলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় না। আবার বেসরকারী খাতে ঋণপ্রবাহ ও ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কাজটি কঠিন। এক বছর ধরে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ নয় শতাংশের নিচে। হঠাৎ তা বাড়ানো ‘চ্যালেঞ্জিং’। নিট বৈদেশিক সম্পদে উৎসাহব্যঞ্জক পরিবর্তন নেই। লেনদেনের ভারসাম্যের দুর্বলতার কারণে এমন হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমছে। আগামীতে আরও কমবে। ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির মতে, মুদ্রানীতির লক্ষণগুলো অর্জন বেশ ‘চ্যালেঞ্জিং।’ কারণ ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তারল্য নেই। সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যাংকগুলো ঋণপ্রবাহ বাড়াতে চায়। কিন্তু আমানতে টানাপোড়েন থাকলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য বন্ড মার্কেটকে কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়া সঙ্গত। প্রয়োজনে প্রণোদনা প্রদান করা যায়। এমনিতেই মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতের ঋণে যে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে তা অর্জন বেশ কঠিন। কারণ কিছুদিন আগে সুদহার কিছুটা কমে এলেও এখন পুনরায় উর্ধমুখী। উচ্চ সুদে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো আমানত পাচ্ছে না। অনেকেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। ফলে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে হবে। মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতির চেয়ে শূন্য দশমিক তিন কমিয়ে ধরা হয়েছে। বেসরকারী খাতের এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। মুদ্রানীতি হচ্ছে প্রবৃদ্ধি অর্জনে কোন খাতে কতটা মুদ্রা সরবরাহ হবে তার একটা ব্যবস্থাপনা। এ ক্ষেত্রে শুধু লক্ষ্য ঠিক করলেই চলবে না, বাস্তবায়নেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারী খাতে ঋণের প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কমেছে। অনেকে এটাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে হয়েছে বলে মনে করলেও এর পেছনের কারণটা আরও গভীরে। ব্যাংকের ঋণের চাহিদার ক্ষেত্রেও সমস্যা ছিল। ঋণের জোগান থাকলেও অনেকে ঋণ নেয়নি। নয়া মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতের উন্নয়নে জোর দেয়া হয়েছে। নতুন সরকারের ঘোষিত প্রথম মুদ্রানীতি সে ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যায়। এরইমধ্যে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, অর্থনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। সত্যিকারার্থে নিজের ঘোষণা বাস্তবায়নে মন্ত্রী আন্তরিক হলে মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও গোটা আর্থিক খাতে এর প্রতিফলন দেখা যাবে। যেহেতু বৈশ্বিকভাবে অর্থনীতিকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারে না মুদ্রানীতি, সেহেতু অন্য প্রভাবকগুলো যেমন-মানি লন্ডারিং, খেলাপী ঋণ, ঋণ জালিয়াতি ও ব্যাংক অনিয়মের মতো গুরুতর সমস্যাগুলোর সমাধানে বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরী।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)