আপডেট ১৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৫ রমযান, ১৪৪০

চট্টগ্রাম, নারী ও শিশু সংবাদ মৃত্যু পথযাত্রী রাঙামাটির জিতনি তংচঙ্গ্যা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ফিরে পেলেন জীবন

মৃত্যু পথযাত্রী রাঙামাটির জিতনি তংচঙ্গ্যা সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ফিরে পেলেন জীবন

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ: চারদিন ধরে প্রসব বেদনায় ছটফট করার পর মৃত্যুর পথযাত্রী রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালীর দূর্গম পাহাড়ীয় এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রসূত এক নারীকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তির পর অবশেষে সেই প্রসূতি নারী জিতনি তংচঙ্গ্যা (২৩) একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে ওই প্রসূতিকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। জিতনি তংচঙ্গ্যা রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী গ্রামের ঈশ্বরচন্দ্র তংচঙ্গ্যার স্ত্রী।

৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৭টায় জিতনি তংচঙ্গ্যা তার সন্তান জন্ম দেন বলে সিএমএইচ সুত্র নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে মা ও শিশু সুস্থ্য রয়েছেন বলে চিকিৎসকদের বরাদ দিয়ে সুত্রটি জানান। জানাগেছে, রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালীর দুগর্ম পাহাড়ী গ্রাম। শহর থেকে নৌপথে সাতদিনের রাস্তা। সেই গ্রামে চারদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রসূতি নারী জিতনি তংচঙ্গ্যা। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে তাকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে প্রাণে বাঁচিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, চারদিন ধরে নিজ ঘরে প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন জিতনি তৎচঙ্গ্যা। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় ভাবে ডাকা হয়েছিল ধাত্রী ও ওঝাকে। কিন্তু চারদিন ধরে ধাত্রী তার প্রসব করাতে ব্যর্থ হয়।

এদিকে কাছাকাছি কোনো হাসপাতাল না থাকায় একপর্যায়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না বলেই ধরে নিয়েছিল তার পরিবার। বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে মঙ্গলবার সকালে তাকে বগাখালীর বিজিবির সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এই প্রসূতিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। দুপুর ২টার দিকে হেলিকপ্টার সেনানিবাসে অবতরণের পর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে জিতনিকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছিল। জিতনির শারীরিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হলেও চিকিৎসার পর তার সে সংকটাপন্ন অবস্থা কেটে সুস্থ্য হয়ে উঠেন এবং মঙ্গলবার সকাল ৭টায় একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)