ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৩ মিনিট ২৭ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

নারী ও শিশু সংবাদ, বরিশাল মেধাবী ছাত্রী মীমের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নের পথে অনেক বাঁধা

মেধাবী ছাত্রী মীমের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নের পথে অনেক বাঁধা

রাসেল কবির মুরাদ, নিরাপদ নিউজ:  অর্থ সংকটে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে প্রাথমিকের গন্ডি পেরোলেও মানসুরা মীম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার সহপাঠীরা যখন বই খাতা নিয়ে স্কুলে যেতো, ঠিক সেই সময়ে তাকে যেতে হয়েছে সুতার কারখানায়। দুই বছর সুতার কারখানায় দিনরাত কাজ করার কারনে ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়া হয়নি মীমের। ক্ষুধা দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে দুই বছরের জমানো কিছু টাকা দিয়ে পরিবারের অসম্মতিতে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয় মীম।

কলাপাড়ার সাগর ঘেষা ধুলাসার ইউনিয়নের চর চাপলী গ্রামের রিকশা চালক নাসির হাওলাদারে মেয়ে মীম গ্রামে গ্রামে ঘুরে নিজ পড়ার ফাঁকে প্রাইভেট পড়িয়ে এক প্রকার যুদ্ধ করে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। প্রাইভেট পড়িয়ে জমানো ১২শ টাকা দিয়ে আলহাজ্ব জালালউদ্দিন কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হলেও আর্থিক সংকটে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

মীমের অসুস্থ্য মা জাকিয়া বেগম আর্থিক সংকটে ঘরে বসে কোন রকম চিকিৎসা নিয়ে এখন প্রায় মৃত্যুশয্যায়। বাবা রিকশা চালিয়ে মায়ের ঔষধ, দু’মুঠো ভাত যোগাড় ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়–য়া ভাইর লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে মীমকে কলেজে পড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তাই ঘরে রান্নার কাজ, অসুস্থ্য মায়ের সেবা শুশ্রুসা করে শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে গ্রামে ঘুরে ঘুরে কয়েকটি প্রাইভেট পড়িয়ে কলেজে ভর্তি হলেও এখনও বই কেনা হয়নি মীমের। নেই কলেজে যাওয়ার একটু ভালো পোষাক। তাই মেধাবী মীমের স্বপ্ন হয়তো থেমে যাবে উচ্চ শিক্ষা শুরুর মাঝ পথেই।

এ প্রতিবেদককে মীম জানায়, নিজ ইচ্ছা না থাকলে এখন আমি হয়তো কোন কারখানার শ্রমিক হতাম। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার চোখে-মুখে। কলেজে ভর্তি হয়েছে কিন্তু বই কিনতে পারেনি। সহায়তা করার কেউ নেই । হয়তো থেমে যাব এখানেই । এতো কষ্ট করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া যেন বৃথাই।

মীমের মা জাকিয়া বেগম বলেন, এতো কষ্ট করে ক্লাস ফাইভ পাশ করার পর সিক্সে ভর্তি করতে পারিনি টাকার অভাবে। দুই বছর ঢাকায় সুতার কারখানার চাকরী করে ১০ বছর বয়সে সংসারের হাল ধরে । ভালো পাশ করেছে, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে মীম। আমি যেখানে মৃত্যুশয্যায়, টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারছি না, সেখানে মীমকে পড়াবো কীভাবে, কারো সহায়তা না পেলে মীমের লেখাপড়া এখানেই বন্ধ হয়ে যাবে।

চাপলী গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. নুরুন্নবী জানান, মীম খুবই মেধাবী। কিন্তু ওর পরিবারে যখন ঠিকমতো চুলো জ্বলেনা, সেখানে মীমকে কীভাবে। আর্থিক সহায়তা ছাড়া মীম কীভাবে পড়বে ? বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে মীম সেখানে অনেক খরচ। মানুষের সহায়তাই পারে মীমের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)