ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১, ২০১৪

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য কথা মোবাইল ব্যবহারে বাড়ে মৃত্যু ঝুঁকি: গবেষণার তথ্য

মোবাইল ব্যবহারে বাড়ে মৃত্যু ঝুঁকি: গবেষণার তথ্য

মোবাইলে বাড়ে মৃত্যু ঝুঁকি

মোবাইলে বাড়ে মৃত্যু ঝুঁকি

ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর, নিরাপদনিউজ : এক নাগারে দীর্ঘদিন মোবাইল ব্যবহার করলে বিভিন্নভাবে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বিশ্বসেরা গবেষকরা এ তথ্য তুলে ধরেছেন। যেমন- স্নায়ুতন্ত্রের উপর মোবাইল ফোনের ক্ষতি নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। সবচেয়ে বড় দুটি সমীক্ষা হচ্ছে- ইন্টারফোন স্টাডি ও হার্ডেল রিসার্চ গ্রুপ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দেড় ঘণ্টা বা তার বেশি সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে ব্রেনের উপর তার খারাপ প্রভাব পড়ে।
এছাড়া ১০ বছর ধরে মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্ক কোষের অস্বাভাবিক রকমের বৃদ্ধি হতে পারে। যা থেকে পরবর্তীকালে গ্লাইওমা (সব থেকে পরিচিত ব্রেন টিউমার) ও ব্রেন ক্যানসারের আশঙ্কা থাকে। গবেষণায় ১ম জানা যায়, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের প্রভাবে মস্তিষ্কের ব্লাড ব্রেন বেরিয়ার (রক্ত ও মস্তিষ্ক কোষের মধ্যে অর্ধভেদ্য পর্দা) লিক করে।
ফলে রক্তের বিষাক্ত পদার্থ এ পর্দা ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি হয়। ৩০ মিনিটের বেশি মোবাইলে কথা বললে মস্তিষ্কের কাজের ক্ষমতা কমে যায়। মস্তিষ্কের মধ্যে রক্তপ্রবাহেও প্রভাব ফেলে ওই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্চে নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্কে। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের জন্য স্মৃতিশক্তি কমছে কমবয়সীদেরও।

ক্ষতি বেশি ‘থ্রি জি’তে
শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির সময় মাথার খুলি (স্কাল) অনেক পাতলা হয়। মাথাও আকারে অনেক ছোট হয়। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত দ্রূত মস্তিষ্কের বৃদ্ধি হতে থাকে। এ বয়সে মস্তিষ্কের কলা কোষের সংবেদনশীলতাও বেশি থাকে। ফলে এ সময় মোবাইল ব্যবহারে মস্তিষ্কের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। থ্রি জি মোবাইল ফোনে এ ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই বেশি।

ব্রেন টিউমার ও ব্রেন ক্যানসার
মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কে ‘গ্লাইওমা’ ও ‘একুইস্টিক নিউরোমা’ টিউমার হয়। একুইস্টিক নিউরোমা সাধারণত মাথার এক পাশে হয়। এ টিউমার তুলনায় কম ক্ষতিকর। যদিও কখনও কখনও এর কারণে জীবনহানি হতে পারে। গ্লাইওমা টিউমার ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডে হয়। এ টিউমারে মৃত্যু হতে পারে। কারণ এর কোষগুলো ম্যালিগন্যান্ট। একুইস্টিক নিউরোমায় আক্রান্ত রোগীর জীবনের মেয়াদ এক থেকে ৩ বছর।
যারা দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে কথা বলেন তাদের মস্তিষ্কে টেম্পোরাল লোব টিউমার প্রবণ হয়ে যায়। কুড়ি পেরনোর আগে থেকেই যারা মোবাইল বা কর্ডলেস ফোন ব্যবহার করেন তাদের এ অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেশি। মোবাইল ফোনের ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ডের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির প্রধান লক্ষ্য মস্তিষ্ক কোষ।
গবেষণায় দেখা গেছে দির্ঘসময় ধরে সব সময় দীর্ঘদিন মোবাইল ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের পাশাপাশি থাইরয়েড গ্ল্যান্ড, স্টেম সেল, ত্বক, মুখ, প্যারোটিড গ্ল্যান্ড, রক্ত কোষ, লিম্ফ নোড, স্তন, চোখেও ক্যানসার হতে পারে।

থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যানসার
পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে ক্যানসারের ফলে তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমোন ক্ষরণ বিঘ্নিত হয়। যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেহের বৃদ্ধি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হয়। গলায় থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থাকে। কানের পরেই মোবাইলের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেখা গেছে মোবাইল ফোন ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথেই থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যানসারের প্রবণতা বেড়েছে।
বিশেষ ধরনের ত্বক কোষ দিয়ে শুরু হয়ে মস্তিষ্কে মেলানোমা (ক্যানসারের) আক্রান্তের সংখ্যাও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সাথে বেড়েছে। বিতর্ক থাকলেও সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্টেম সেল ক্যানসারে আক্রান্ত ২৯ জনের মধ্যে ১১ জনই মোবাইল ফোন অত্যধিক ব্যবহার করেন।

গর্ভপাত ও বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা
অত্যধিক মোবাইলের ব্যবহারে শুক্রাণুর ক্ষতি, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব, মহিলাদের গর্ভপাতের আশঙ্কা অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়। শিশুদের ক্যানসার, ঘুমের সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, আত্মহত্যার প্রবণতা, হৃদরোগ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া, আরথ্রাইটিস, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া ও ত্বকের সমস্যাও হতে পারে।
মোবাইলের নেটওয়ার্ক প্রভাব পড়ে ক্রোমোজোমের উপরও। যার ফলে প্রজননের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন ‘সিঙ্গল’ ও ‘ডাবল-স্ট্র্যন্ড’ ডিএনএকে ভেঙে দেয়। এছাড়াও মোবাইলের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আমাদের নার্ভাস সিস্টেমের উপর এমন ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে যার ফলে স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি কোষের মৃত্যু ঘটে। অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ক্যানসারের কারণও হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)