আপডেট ৮ মিনিট ১৪ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১৬ রজব, ১৪৪০

সম্পাদকীয় যানজটে নাভিশ্বাস: নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নিন

যানজটে নাভিশ্বাস: নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নিন

নিরাপদ নিউজ: ঢাকার যানজট বিশ্বখ্যাত। বহু গবেষণায় উঠে এসেছে এই যানজটের পরিধি, বিস্তৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। যানজট কমানোর বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল মিলছে না, বরং অপরিকল্পিত নানা উদ্যোগ এবং হুটহাট নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত যানজটের পরিধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে সম্প্রতি যানজট যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তাতে ঢাকাবাসীর রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার রাস্তার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে ছোট বা ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। এর পরও প্রতিদিনই কয়েক শ নতুন গাড়ি নামছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা, যার বেশির ভাগ চালকই কোনো নিয়ম-কানুন মানে না। অযান্ত্রিক যানবাহন কখনো কখনো পুড়ো সড়কের দখল নিয়ে নেয়। বাসগুলোকে নিয়ম মানানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। যত্রতত্র, এমনকি মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো নিয়মিত চিত্র। পেছনে শত শত গাড়ির লাইন পড়ে যায়। এমনিতে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা সরু, তার ওপর অবৈধ পার্কিংয়ের অন্ত নেই। কোথাও কোথাও একাধিক সারিতে পার্কিং থাকে।

ফলে রাস্তা আরো সরু হয়ে যায় এবং যানজট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। আগে ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলের যেখানে দিনে দুটি বা তিনটি ট্রিপ হতো, রাইড শেয়ারিং চালু হওয়ায় সেখানে ট্রিপ সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এটি রাস্তার ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এত সব প্রতিকূলতার পর গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত উন্নয়নের চাপ।

কয়েক দিন ধরে মহানগরীর মধ্যাঞ্চলে অস্বাভাবিক যানজট লেগে আছে। এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তার একটি বড় অংশ মেট্রো রেলের কাজের জন্য ঘেরাও দিয়ে রাখা। ঘেরাও দেওয়ার আগেই এ রাস্তার যানবাহনের চাপ মোকাবেলায় বিকল্প কিছু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এ রাস্তার অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ ঘেরাও দেওয়া যেত কি না, ভেবে দেখা প্রয়োজন ছিল। ঘেরাওয়ের ভেতরে কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে।

এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আমরা জানি না, মেট্রো রেল প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতরা কিংবা ট্রাফিক বিভাগ বিষয়গুলো নিয়ে যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করেছিল কি না। কিন্তু বাস্তবে আমরা তার প্রমাণ পাচ্ছি না। এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন সংস্থার ধারাবাহিক খোঁড়াখুঁড়িও একই সঙ্গে চলছে।

যানজটের বর্তমান অবস্থায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তিন-চার ঘণ্টাও লেগে যাচ্ছে। আমরা চাই, এই নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)