ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ১৫, ২০১৮

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৮ সফর, ১৪৪০

চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ যানজটে রেকর্ড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

যানজটে রেকর্ড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ:  দুই দিনে ১৪০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট। বুধবার রাত ১২টা থেকে লাগাতার যানজট। এই ঘটনা দেশের লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক যুগের মধ্যে এটা যানজটের রেকর্ড। অনেকে বলছেন, ফোর লেন উদ্বোধন হওয়ার পর বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবার। কেন এই যানজট। এর শুরু কোথায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেনীর ফতেহপুর রেলগেট থেকে এই যানজটের সৃষ্টি। ফেনীর নির্মাণাধীন রেল ওভারপাস এলাকায় ভাঙা ও অপ্রশস্ত সড়কই এর জন্য দায়ী। যানজট একদিকে মীরসরাই উপজেলা পেরিয়ে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে। অপরদিকে গেছে কুমিল্লা পর্যন্ত। দুদিকে ১৪০ কিলোমিটার জুড়ে এই যানজট দ্রুত নিরসন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ফেনীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রেজাউল মজিদ। তিনি বলেন, এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, ফেনীর নির্মাণাধীন রেল ওভারপাস এলাকার ভাঙা, সংকীর্ণ সড়কের কারণে এই যানজট। সরেজমিনে দেখা যায়, যানজটের কারণে দূর দূরান্তের যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেকে বিকল্প উপায়ে রেলস্টেশন গিয়ে রেলে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ পথে আশ্রয় খুঁজে নেন। ভুক্তভোগীদের কাছে জানা গেছে, কেউ কেউ শতাধিক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। অবর্ণনীয় দুর্ভোগে মহিলা ও শিশুরা। খাবার ও সৌচাগার সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। পশু বহনকারীরা পশু নামিয়ে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেছেন। এক দল গরু নিয়ে মীরসরাই সদর এলাকা পার হওয়া সায়দুল হক বলেন, নোয়াখালী থেকে গরু নিয়ে দুদিন আগে রওনা হই। সেই গরু ট্রাক থেকে নামিয়ে ফেনী থেকে হেঁটে আজ মীরসরাই পার হচ্ছি। চট্টগ্রাম পৌঁছাতে রাত হতে পারে। তিনি পথে নাস্তা খেয়েছেন। গরুগুলোকেও রাস্তার পাশে খাওয়াচ্ছেন। কুমিল্লা রওনা হওয়া মীরসরাইয়ের সায়েফ উল্লাহ ১৫ মিনিটের পথ ৮ ঘণ্টায় পার হয়ে অবশেষে উল্টো পথে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। এদিকে যানজটের কারণে কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য গন্তব্যে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ঢাকা থেকে গার্মেন্টস পণ্যও যথাসময়ে বন্দরে পৌঁছতে না পারায় রফতানির শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। হাইওয়ে পুলিশের জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার জানান, ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণ এলাকায় কিছু গর্ত আছে। সেখানে ভারী ট্রাক বিকল হয়ে যায়। ট্রাক অপসারণে দেরি হওয়ায় যানজট দীর্ঘ হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ মহাসড়ক সচল রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু এত বেশি যানবাহন ও মালবাহী গাড়ি, যানজট কমানো সম্ভব হয়নি। যানজটের কারণে মহাসড়কে দুর্ভোগে নাকাল দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা।

থেমে থেমে বৃষ্টি ও ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণ কাজের স্থলে বিকল্প সড়কটির অপ্রশস্ততার কারণে যানজট দীর্ঘ হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চট্টমেট্রো ট–০৪–০৪৯৭ এর চালক বাবুল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে বের হয়ে বড়দারোগারহাট এলে রাত ১২টায় যানজটে পড়ি। শুক্রবার বিকাল নাগাদ বড়তাকিয়া এলাকায় পৌঁছি। তারা কয়েকজন চালক রাস্তায় বসে গল্প করছিলেন। তিনি জানান, ফেনী রেলগেট এখন এই রুটে যানজটের একমাত্র কারণ। এখানে প্রায়ই যানজট হয়। বড় করে অস্থায়ী রাস্তা করলে এমনটা হত না। জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, অনাকাঙিক্ষত এই দুর্ভোগ নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সাথে জোরারগঞ্জ ও মীরসরাই থানার পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। প্রতিটি ইউটার্নে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, দুদিনের টানা এই দুর্ভোগ মোকাবেলায় সকল গাড়িকে ইতোমধ্যে শৃংখলায় আনা হয়েছে। রাতের মধ্যে পুরো মহাসড়ক যানজটমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভয়াবহ এই যানজটের বিষয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম ফোর লেনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, আমি বিভিন্ন পয়েন্টে খোঁজ নিয়েছি। কয়েকটি ট্রাক ফেনীর উৎপত্তিস্থলে বিকল হওয়ায় এবং বুধ ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে অতিরিক্ত ট্রাক ঢাকামুখী থাকায় এমন যানজট হয়েছে। তবে শীঘ্রই মহাসড়ক সচল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ফেনীর ফতেহপুর রেল ক্রসিংয়ে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ব্রিগেডিয়ার রেজাউল মজিদ বলেন, ফ্লাইওভারটির কাজ দ্রুত চলছে। বিকল্প সড়কটি টু লেন বলে অনেক গাড়ি ফেনী শহরের বিকল্প সড়ক হয়ে পারাপার হত। কিন্তু সেদিকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল বলে গাড়িগুলো এখান দিয়েই পারাপার হতে হয়। আবার আসন্ন রমজানের কারণে মালবাহি গাড়ি সড়কে বেড়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। তবে সেনা সদস্যরা দিন–রাত কাজ করছেন। আশা করছি শীঘ্রই এই সংকট কেটে যাবে। তিনি বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা সকল কাজ শেষ করে উদ্বোধন করার আশা করছি। রেলওয়ে ওভারপাসটির দৈর্ঘ্য ৮৪৫ মিটার, প্রস্থ ২২ মিটার। ২০১২ সালে ওভারপাসটির কাজ শুরু করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিপু পিবিএল। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। সরকার ২০১৬ সালে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীকে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)