ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ সফর, ১৪৪১

অপরাধ, বরিশাল যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

নিরাপদ নিউজ: যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় নুসরাত জাহান মীম (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যা করে মরদেহ শাড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের লেজপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী।

নিহত গৃহবধূ দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের লেজপাতা গ্রামের কবির হাওলাদারের মেয়ে ও উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের গুমানি গ্রামের মো. মনির হোসেনের স্ত্রী ছিলেন।

গৃহবধূকে হত্যার বিচার দাবিতে রোববার দুপুরে ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে মীমের পরিবারের সদস্যরা ভোলা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

নিহত গৃহবধূর বড় ভাই মো. আকবর হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে মীমের সঙ্গে মনিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য মীমের ওপর নির্যাতন করতো মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা। মীমের ১১ মাসের ছেলে সন্তান রয়েছে। তারপরও তাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত তারা। এ নিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে ও এলাকার গণমান্য লোকজন নিয়ে সমাধ‌ানে বসেছি। কিন্তু সমাধান হয়নি।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মীমকে যৌতুকের জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে মরদেহ শাড়ি দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাই আমরা।

তবে মীমের শ্বশুর জেবল হক ও ননদ ফাহিনুর বলেন, শুক্রবার দুপুরে ঘরের পেছনের একটি রুমের আড়ার সঙ্গে মীমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার মরদেহ শাড়ি কেটে নিচে নামানো হয়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। মীম আত্মহত্যা করেছে।

দৌলতখান থানা পুলিশের ওসি মো. এনায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলে বোঝা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)