আপডেট ১২ মিনিট ৪১ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১

লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ রাজধানীতে যানজটের দুর্ভোগ

রাজধানীতে যানজটের দুর্ভোগ

trafic jam

 

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০১৫, নিরাপদনিউজ : প্রায় ২ মাস পর হরতাল থেকে মুক্তি মিললেও রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ফিরে এসেছে যানজটের দুর্ভোগ। কয়েকদিন ধরে রাজপথে বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপ বুধবার তীব্র আকার ধারণ করে।
সকাল থেকেই গুলিস্তান, শাহবাগ, ফার্মগেইট, বিজয় সরণী, মহাখালী, মগবাজার ও সদরঘাট এলাকায় যানবাহনের ভিড় দেখা দেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সড়ক যানজটে কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবরোধ এবং ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সপ্তাহের ছুটি ছাড়া প্রতিদিনই হরতাল করে আসছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এরমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের পর বিজয় মিছিলের জন্য একদিন হরতাল ১২ ঘণ্টা শিথিল করা হলেও অবরোধ চালিয়ে যায় আগাম নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা দলটি।
প্রায় তিনমাস ধরে চলা এসব কর্মসূচিতে যানবাহন লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার কারণে শুরুর দিকে জনমনে আতঙ্ক ও চলাচলে অস্বস্তি কাজ করলেও মাসখানেক আগে থেকে পরিস্থিত পাল্টাতে থাকে।
জনজীবনে হরতালের তেমন কোনো প্রভাব না থাকায় রাস্তায় যান চলাচল বাড়তে শুরু করে এবং প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরকেও একদিন কিছু সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়।

প্রায় ২ মাস পর হরতাল থেকে মুক্তি মিললেও রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ফিরে এসেছে যানজটের দুর্ভোগ।

প্রায় ২ মাস পর হরতাল থেকে মুক্তি মিললেও রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ফিরে এসেছে যানজটের দুর্ভোগ।

এতোদিন অজ্ঞাত স্থান থেকে বিএনপির নামে বিবৃতি পাঠিয়ে রোববার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হরতাল ডেকে পরে তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে মঙ্গলবার বিএনপির বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলুর নামে যে বিবৃতি পাঠানো হয় তাতে হরতাল এড়িয়ে অবরোধ ও মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর হরতালমুক্ত একটি কর্মদিবস পেয়ে বুধবার সকাল থেকে অস্বস্তি ছাড়াই রাস্তায় বেরিয়ে আসে রাজধানীবাসী। সকাল সোয়া ৮টার দিকে শাহবাগ থেকে বাসে  মহাখালী পৌঁছাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।
একজন যাত্রী বলেন, সোনারগাঁও মোড়, বাংলামটর, পান্থপথ, ফার্মগেইটসহ প্রায় সবকটি চৌরাস্তায় গাড়ির জট। পুরো রাস্তায়ই গাড়ি চলছে খুব ধীর গতিতে।
জানা যায়, সকাল ৯ টায় মিরপুর সাড়ে ১১ থেকে যাত্রা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টার বেশি। পথে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, বিজয় সরণী, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ ও গুলিস্তান এলাকায় তীব্র যানজটের মুখে পড়েছে গাড়ি।
গুলিস্তান থেকে সদরঘাট এবং সদরঘাট থেকে গুলিস্তানমুখী সড়ক, নয়া বাজার, রায় সাহেব বাজারের সড়কগুলোতেও সকাল থেকে তীব্র যানজট দেখা যায় বলে জানা যায়।
গুলিস্তান ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সার্জেন্ট মশিউর রহমান বলেন, অন্য দিনের তুলনায় রাস্তায় গাড়ির চাপ একটু বেশি বলেই মনে হচ্ছে।
টঙ্গীর আব্দুল্লাপুর থেকে সদরঘাটের পথে চলাচলকারী আজমেরী পরিবহনের চালক সেন্টু মিয়া জানান, হরতালের মধ্যেও তিনি গাড়ি চালিয়েছেন। তবে বুধবার গাড়ির চাপ অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি।
পুরান ঢাকার একজন ব্যবসায়ী বলেন, আজ হরতাল নেই, এ কথাটা ভাবতে ভালো লাগছে। দীর্ঘদিন ধরে অলিগলিতে হাতবোমা বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন ও অন্যান্য নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে মানুষ চলাফেরা করেছে। এখন সেই আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় সবাই নির্বিঘ্নে রাস্তায় বেরিয়েছে।
অবশ্য পুরান ঢাকার অরেক ব্যবসায়ী বলেন, এতোদিন হরতাল থাকার বিষয়টি তিনি আমলেই নেননি। নিজের মতো করেই স্বাভাবিক জীবন যাপনের চেষ্টা করে গেছেন।
হরতাল না থাকলেও বিএনপি জোটের অবরোধ এখনো আছে। তাই পুলিশ অন্যান্য দিনের মতোই সতর্ক রয়েছে বলে জানালেন বংশাল থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস ফকির।
-(সংগৃহীত)

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)