ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ২৯, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৩ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪০

ভ্রমন রাজস্থানে সুসজ্জিত হাতিতে চড়ে আম্বর ফোর্ট ভ্রমণ

রাজস্থানে সুসজ্জিত হাতিতে চড়ে আম্বর ফোর্ট ভ্রমণ

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদ নিউজ :  সুন্দর মসৃণ পিচঢালা পরিচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে রাজস্থানের দিকে যত এগিয়ে চলছি, ততটা রুক্ষতা ও তাপ অনুভব করলাম না। লক্ষ্য করলাম, প্রশস্ত রাস্তার মধ্যভাগের সুদীর্ঘ আইল্যান্ডটি লতা ও ছোট বৃক্ষ দ্বারা শোভিত। ভেবেছিলাম, রাজস্থান তো মরুভূমি, গাছপালা হয়তো চোখেই পড়বে না, কিন্তু রাজস্থানীদের মরুজ উদ্ভিদের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ দেখে মুগ্ধ হলাম। রাজস্থানে পৌঁছেই বুঝলাম, এ রাজ্যের অনেক কিছুই রাজকীয় এবং বর্ণিল। আয়তনের দিক থেকে রাজস্থান ভারতের সর্ববৃহৎ রাজ্য।

প্রাচীনকালে এই রাজ্যে রাজপুতদের বাস ছিল, তাঁরাই রাজকীয়ভাবে এই রাজ্য শাসন করতেন। ভারতের সর্ববৃহৎ মরুভূমি। বিশ্বের প্রাচীনতম পর্বতমালা আরাভিলি রেঞ্জ ও আম্বর ফোর্ট রাজস্থানেই অবস্থিত।

যাচ্ছি রাজস্থানের জয়পুরের আম্বর-ফোর্টে, যত এগিয়ে যাচ্ছি, তত চোখে পড়তে লাগল পাথরের অসংখ্য উঁচু-নিচু পাহাড়। পাথরের গা খোদাই করে কারুকার্যময় শিল্পকলা প্রত্যক্ষ করে আমরা গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ের গা ঘেঁষে দাঁড়ালাম। দেখলাম, পাথরের গাত্র খোদাই করে হাতি-ঘোড়া-বাঘ ও মূর্তি অপরূপ ভাবে তৈরি করে নগরীকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করার কি কঠিন প্রয়াস! আমরা বেশ কটা স্ন্যাপ নিলাম। আম্বর-ফোর্টে এসে আমরা দু’পাশে পাথরের প্রাচীরের মধ্য দিয়ে পাথরের তৈরি উঁচু রাস্তা দিয়ে দুর্গের দিকে এগোলাম। জয়পুরে ট্যুরিস্টদের আকর্ষণীয় স্থান হল ‘আম্বর-ফোর্ট’। মাথার ওপর সূর্য, তারই মাঝে অসংখ্য বিদেশী পর্যটক হাতে-গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে চোখে রোদ-চশমা ও পায়ে কেডস পরে এগিয়ে চলেছে।

ট্রাফিক আইন নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় অটোমোবাইল অ্যসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ এবং ভারতের দর্শনীয় স্থানগুলো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে পরিদর্শনে যাওয়া হয়। সেই সাথে তাদের আহবানে ভারতের এ দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আজ চোখের সামনে ঐতিহাসিক সে স্থাপত্যগুলো দেখে মুহূর্তেই মনটা খুশিতে ভরে উঠল। সেখানের দর্শনীয় স্থাপনাগুলো প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা মনে থাকবে আজীবন। আবার যাওয়া যাক মূল বিষয় রাজস্থানের অসাধারণ স্থাপনা জয়পুরের নজর কাড়া আম্বর-ফোর্ট প্রসঙ্গে।

১৫৯২ সালে আম্বর-ফোর্টের নির্মাণ কাজ শুরু করেন রাজা মানসিংহ। এর অপরূপ স্থাপত্য ও প্রাচীরের পেইন্টিংগুলো রাজপুতদের উন্নত সংস্কৃতিমনা বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে এবং প্রতিফলিত করে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিকে। আম্বর-ফোর্টে পাথরে খোদাই করা মূর্তি ও সূক্ষ্ম আয়নার কারুকাজ সত্যিই বিস্ময়কর! আম্বর-ফোর্ট উজ্জ্বল চকচকে সাদা মার্বেল পাথর ও লাল সেন্ড-স্টোন দিয়ে তৈরি। ফোর্টের সামনে রয়েছে একটি হ্রদ। হ্রদের স্থির পানিতে দুর্গের স্বচ্ছ আয়নার ন্যায় প্রতিচ্ছবি দেখায় ভারি সুন্দর।

দুর্গের ভিতরে দেয়াল ও সিলিংয়ের সূক্ষ্ম আয়নার শৈল্পিক কারুকাজ ফুটিয়ে তুলেছে হলঘরের রাজকীয় ভাব। চারপাশের বিশাল প্রাচীর বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়েছিল। এখানে দেখা মেলে অসংখ্য সুসজ্জিত হাতির দল। হাতির পিঠে বিভিন্ন বর্ণের আসন, যা ছোট আয়না ও এমব্রয়ডারি করা।

ফোর্টটি চারটি অংশে বিভক্ত। এখানে জাগ্রত কালী মন্দির, যা শীলামন্দির নামেও পরিচিত, ফোর্টের-ই একটি অংশ। বড় বড় সিলভারের সিংহ মূর্তি ও দরজা বহন করে চলেছে প্রাচীন ঐতিহ্য। হাতিতে চড়ে রাজকীয়ভাবে ফোর্ট দেখে খুব আনন্দ পেলাম। আম্বর-ফোর্ট দর্শন ব্যতিরেকে জয়পুর ভ্রমণ নিঃসন্দেহে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

লেখক : শফিক আহমেদ সাজীব, সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)