আপডেট ৩৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০

বিনোদন, সাক্ষাৎকার রাজ্জাক মরেও চির ওমর হয়ে থাকবে

রাজ্জাক মরেও চির ওমর হয়ে থাকবে

প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাককের সঙ্গে নিরাপদ নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার নাসিম রুমি

নাসিম রুমি, ২২ আগষ্ট ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা পেশায় আসার পর রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। আমার এই দীর্ঘ বছরের সাংবাদিকতা রাজ্জাক ভাইয়ের বিভিন্ন সময় অসংখ্য সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছি। আমার এখনো মনে আছে, যতবার উনার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে গিয়েছিলাম ২/৩ বার ছাড়া প্রতিবারই বলতেন, কবরীর প্রসঙ্গে কিছু প্রশ্ন করবে কি? আমি বলতাম হ্যাঁ।তখন তিনি বলতেন,কবরীর প্রসঙ্গে তো তোমাকে অনেকবার বলেছি। রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে আমার কিছু স্মৃতি আছে,যা কখনো ভুলতে পারবোনা। রাজ্জাক অনেক সাক্ষাতকারের মধ্যে একটি সাক্ষাৎকার শিরোনাম করেছিলাম। ‘রাজ্জাক বিহীন দেশীয় চলচ্চিত্র মাঝি বিহীন নৌকার মত’।এই সাক্ষাৎকারটিতোমার ভাবীরও ভালো লেগেছে। তখন তিনি আমাকে আরো বলেন, এখন তোমাকে এফডিসিতে দেখিনা কেন ? আমার জীবনের প্রথম ছবি উপভোগকরি রাজ্জাক-কবরী অভিনীত “ময়নামতি”। ছবিটি একাধিকবার দেখেছিলাম। সত্যি রাজ্জাক অত্যন্ত বড়মাপের অভিনেতা।তার অভিনয়ের গুনাবলী লিখে শেষ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রাজ্জাক আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। একটা সময় সম্পর্ক বেশ গভীর হয়েছিল।তার ছোট কন্যা ময়নার বিয়েতে আমাকে এবং চিত্রালির ফটো সাংবাদিক বেলাল ভাইকে বললেন, তোমরা দু’জন মেয়েকে বিদায় দেওয়ার পর যাবে। আমি রাজ্জাক ভাইয়ের কথা রেখেছিলাম। বিয়ের অনেক ছবি আমি তুলেছিলাম। সেই ছবিগুলো রাজ্জাক ভাইকে আমি উপহার দিয়েছিলাম তিনি খুবই খুশী হয়েছিলেন। শেষ ছবিটা তুলেছিলাম ময়না যখন বিদায় নিল তখন লক্ষী ভাবি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং রাজ্জাক ভাইয়ের বুকে মাথা রাখেন। এই ছবিটি রাজ্জাক ভাইয়ের অধিক পছন্দ হয়েছিল। আরও একটি স্মৃতির কথা বলছি রাজ্জাক ভাই ‘প্রফেসর’ ছবি নির্মাণ করছেন দেড়যুগ আগে আমাকে এফডিসির এক নম্বর ফ্লোরে আসার আমন্ত্রণ জানান। আমি সকাল এগারোটার সময় এক নম্বর ফ্লোরে উপস্থিত হলাম।

চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে-খ্যাত চিত্রনায়িকা সারাহ্ বেগম কবরী ও নায়করাজ রাজ্জাক

কৌশল বিনিময়ের পর বললেন দুপুরে খাওয়া এক সঙ্গে খাবো। আমি মনে করেছিলাম ২টার মধ্যে খাওয়া-দাওয়া শেষ হবে। অন্যান্য সাংবাদিকরা ২টার সময় কাওয়া শুরু করেছিল। কিন্তু আমার শুটিং শেষে বিকেল পাঁচটার সময় খেতে হলো। রাজ্জাক ভাই, ববিতা ও বাপ্পার সঙ্গে খেলাম। কিন্তু এদিকে ক্ষুধায় আমার অবস্থা নাজুক। কিন্তু রাজ্জাক ভাইকের কথাটা বলতে পারছিনা। কারণ তিনি বলেছিলেন আমার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করবো। খাওয়া সময় রাজ্জাক ভাই বললেন তোমাকে আমি বেশী পছন্দ করি বলেই আমার সাথে খেতে বলেছিলাম। বুঝতে পেরেছি তোমার এখন অনেক ক্ষুধা এখন নিজের ইচ্ছে মত যা খুশী খেয়ে নেও। ৯০ দশকের পর রাজ্জাক ভাই যে সকল ছবি নির্মাণ করেছেন অধিক ছবির মুক্তির আগে সাংবাদিকদের ঢাকা ক্লাবে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানাতেন। আমি রাজ্জাক ভাইয়ের আমন্ত্রণ সর্বদা রক্ষা করেছি। সেখানেও কিছু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। পুনরায় বলছি রাজ্জাক বিহীন দেশীয় চলচ্চিত্র আমি বিহীন নৌকার মত। তার অভাব কখনো পূরণ হবার নয়। তিনি শুধু তার মেধা কিংবা দক্ষতা দিয়ে নায়ক রাজ রাজ্জাক হননি। তিনি অনেক শ্রম দিয়েছেন। অনেক কষ্ট করেছেন। তার পর আকাশ ছোয়া জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। গত দেড় মাস আগে রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা হয় এফডিসিতে অনেক কথা হয়। তিনি বলেন,যে কয়টা দিন বেঁচে থাকবো সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে চাই।আমি রাজ্জাক ভাইকে বললাম, এ জীবনে বিভিন্ন সময়ে আপনার সঙ্গে ছবি তুলেছি। আরেক বার ছবি তুলতে চাই। তিনি আমাকে তার পাশে বসালেন এবং বললেন ছবি তুলো আমাকে আর বেশি দিন পাবেনা।গত দেড় মাস আগের ছবিটি আমার কাছে এখন সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে রইলো। শেষ বারের মত আজকে সকাল ১১ঃ২০ মিনিটে এফডিসিতে উনার লাশ দেখলাম এবং জানাযায় অংশ গ্রহন করলাম।নায়ক রাজ মরেও চির ওমর হয়ে সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন।

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)