আপডেট জুন ৯, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৫ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৫ শাওয়াল, ১৪৪০

এক্সক্লুসিভ, রাজশাহী রাণীনগরে অলৌকিক ভাবে দাঁড়িয়ে গেছে ঝড়ে উপরে পড়া বটগাছ!

রাণীনগরে অলৌকিক ভাবে দাঁড়িয়ে গেছে ঝড়ে উপরে পড়া বটগাছ!

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি,নিরাপদ নিউজ: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নওগাঁর রাণীনগরে ঝড়ে উপরে পরা একটি বট গাছ অলৌকিক ভাবে অবিকল দাঁড়িয়ে গেছে। বটগাছটি কাটার সময় দিনের বেলায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে। ঘটনার পর থেকে প্রতিদিনই উৎসক জনতা গাছটি এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত যদু প্রামানিক ছোট বেলা থেকেই জ্বিন এর প্রতি আশক্ত ছিলেন। মাঝে মধ্যেই তার উপর ভর করতো জ্বিন ! প্রায় অর্ধশত বছর আগে মাদারে ভর করা অবস্থায় যদু প্রামানিক ছোট একটি বট গাছ নিয়ে এসে রোপণ করেন। ধীরে ধীরে গাছটি বড় হতে থাকলে ‘মাদার’র গাছ হিসেবে পরিচিতি পায় বটগাছটি। জ্বিন বা মাদারের স্বরণে প্রতি বছর সেখানে মাদারের পালা গানের আসরও বসে। এছাড়া দুর দুরান্তরের লোকজন নানা রোগবালায়ে আক্রান্ত ব্যাধি দূর করতে ওই গাছে মানত করতো।

অনেকের দাবি এই গাছে মানত করে অনেক লোকজন রোগ থেকে মুক্তিও পেয়েছে । গত মাসে সারাদেশে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে গাছটি উপরে পরে পার্শ্বে একটি পাকা ভবনের উপর পড়ে। এতে ওই ভবনের সিড়ি রুম এবং ছাদের কিছু অংশে ক্ষতিও হয়েছে। কিন্তু গাছটি উপরে পড়ে গেলেও মাদারের ভয়ে কেউ ডালপালা পর্যন্ত কাটতে সাহস পায়নি ফলে মাস খানেক ধরে গাছটি ওই অবস্থায় পড়ে থাকে।

রোজার একদিন আগে গাছ কাটা শ্রমিক নিয়ে এসে গাছের ডালপালা কাটতে থাকে। গাছের মাথার অংশ কাটার সময় হঠাৎ করেই গাছটি অবিশ্বাস্য ভাবে অবিকল পূর্বের ন্যায় দাঁড়িয়ে যায়। প্রত্যক্ষ দর্শিরা জানান, পড়ে থাকা গাছের উপর একজন শ্রমিক পানির বদনা হাতে দাঁড়িয়ে কাজ করছিল।

কিন্তু গাছ দাঁড়িয়ে গেলেও লোকটি গাছ থেকে পড়েও যায়নি এমনকি তার এতটুকু ক্ষতিও হয়নি। ঘটনা জানাজানি হবার পর থেকেই প্রতিদিনই উৎসক জনতা ছুটে আসছেন গাছটি এক নজর দেখার জন্য। অনেকে মনে করছেন, গাছটি উপরে যাবার সময় ডালপালার কারণে মাথার অংশ অনেক ভারী ছিল। সেগুলো কেটে দিলে গোরার অংশ ভারী হওয়ায় গাছটি হয়তো দাঁড়িয়ে গেছে। তবে একদম আগের ন্যায় অবিকল দাঁড়িয়ে যাওয়া, গাছের শিকর, গোড়ালি মিলে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন তারা।

গাছের পার্শ্বের বাড়ীর সুফিয়া বেওয়া (৫৫) জানান, বিয়ের পর থেকে তিনি এই গাছ দেখছেন, গাছের পার্শ্বে টয়লেট ছিল তাদের। রাত-বিরাত পর্যন্ত সেখানে চলাচল করলেও কোন আলামত দেখতে পাননি তারা। তবে সেখানে লোকজন মানত করতো, প্রতি বছর মাদারের পালা গান বসে। বৃদ্ধ হেকমত আলী (৬০) জানান, গাছটি অবিকল দাঁড়িয়ে যাওয়াটা একদম অস্বাভাবিক এবং অলৌকিক।

গাছের তদারকিকারী ও মাদারের পালা গানের আয়োজক সুরজান বেওয়া (৭৫) ও পুটি বেওয়া (৬২) জানান, ওই গাছে মাদার (জ্বিন) বাস করে। প্রতি বছরই গাছের নিচে মাদার স্বরণে পালা গান করতে হয়, না করলে অনেক সমস্যা হয়। তারা যুক্তি দিয়ে বলেন, একশত জন লোক এসে গাছটি খাড়া করতে পারবে না। যদিও পারে তাহলে অবিকল দাঁড়িয়ে রাখার ক্ষমতা নেই। তাদের পূর্ণ বিশ্বাস, গাছটি মাদারই (জ্বিন) দ্বার করে রেখেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)