সংবাদ শিরোনাম

২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

00:00:00 শুক্রবার, ১১ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ৭ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী
ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজশাহী রাণীনগরে আখের বাজার জমজমাট

রাণীনগরে আখের বাজার জমজমাট

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭ , ২:৫৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ব্যবসা-বাণিজ্য,রাজশাহী

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চালান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে

সাইদুজ্জামান সাগর , ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : নওগাঁর রাণীনগরে আখের বাজার জুমে উঠেছে। উপজেলা সদরের রেলগেট নামক স্থানে প্রতিদিন ভোর থেকে আখ চাষীরা তাদের উৎপাদিত রসালো উন্নত মানের আখ বিক্রয়ের জন্য এই বাজারে নিয়ে আসে। মূহুর্তের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা কিনে নিয়ে স্থানীয় হাট-বাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি লাভের আশাই চালান করছে। নওগাঁ জেলায় চিনি কল না থাকলেও শুধুমাত্র আখের রস সেবনের জন্যই এর কদর অনেক বেশি। কিশোর-কিশোরী মাঝ বয়সের মানুষের অতীব পছন্দনীয় এই রসালো মিষ্টি আখ লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষীরা আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বেচা-কিনা ভাল হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি হাতে পাওয়ায় চাষিরাও বেজায় খুশি।

জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের এলাকা ভেদে কম বেশি আখ চাষ হলেও সদর ইউনিয়ন ও কাশিমপুর ইউনিয়নে উর্বর উচু জমি বেশি থাকায় অন্য ফসলের পাশাপাশি আখ চাষ সুবিধা ও লাভজনক হওয়ায় আখ চাষের প্রতি দিনদিন এই এলাকার কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৩/৪ বছর বন্যার কারণে রোপা-আমন ধান, অন্যান্য ফসল ও শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বছরের এই সময়ে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবিরা ও কৃষকদের কাজকর্ম না থাকায় তারা চরম অর্থ সংকটের কবলে পরে। এখান থেকে কিছুটা উত্তোরনের জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ ক্রমে অপদ কালীন অর্থকারি ফসল হিসেবে অনেক কৃষকই আচা-ফ্যারাম ও বাবুলাল জাতের আখ চাষে মনযোগী হয়ে উঠছে। বন্যার পানি যখন রাণীনগর উপজেলায় থৈ থৈ করছে তখন অন্য চাষিদের চেয়ে আখ চাষিদের উৎপাদিত রসালো আখ বিক্রয়ের ধুম পড়ায় কিছু নতুন পয়সা হাতে আশায় চোখে-মুখে তাদের আনন্দের ছাপ দেখা যায়।

যদিও আখ চাষ ধানের চেয়ে বেশি সময় লাগে এবং তুলনামূলক ভাবে লাভ কম হয় কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবল থেকে একটু রেহাই পাওয়ার জন্য উপজেলার কৃষকরা আখ চাষে ঝোকে পড়ছেন। বছরের জুন হতে নভেস্বর মাস পর্যন্ত জমি হতে আখ কেটে বিক্রয় করার মৌসুম। আর এই সময়ে প্রতিদিন ভোর হতে সকাল ১১ টা পর্যন্ত উপজেলার রেলগেটে আখের বাজারে চলে জমজমাট বেচা-কিনা। খুচরা আখ ব্যবসায়ীরা বছরের এই সময়ে প্রায় ছয় মাস জমজমাট ব্যবসা করলোও বছরের অন্য সময়ে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি কাজে জরিয়ে জীবন-যাপন করে। খুচরা ভাবে আখ বিক্রয়ে দ্বিগুন লাভ হওয়াই বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই ব্যবসা করছেন। বাজারে পাইকারি হিসেবে ভাল মানের এক জোরা আখ ১৩ টাকা করে ক্রয় করা হলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা এক জোরা ভালমানের আখ ২০-২২ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা আখ কিনে স্থানীয় হাট-বাজার ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি লাভের আশাই চালান করছে এই এলাকার সুস্বাদু রসালো আখ।

উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের মৌসুমী আখ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক (৩৩) জানান, আমি প্রতি বছরই এই সময় রেলগেটের পাইকারি বাজার থেকে আখ কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবারে বিক্রয় করি। এতে আমার প্রতিদিন ভালই লাভ হয়। এখানকার আখ গুলো ভালমানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারা আখ কিনতে আসে। কাক ডাকা ভোর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা আখ বিক্রয়ের জন্য এখানে নিয়ে আসে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আচাফ্যারাম ও বাবুলাল জাতের ননমিল আখের চাষ হয়েছে। নিবির পরিচর্চা কৃষি অফিস থেকে চাষি পর্যায়ে পরামর্শ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবছর আখের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছে।

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInEmail this to someone

comments

Bangla Converter | Career | About Us