ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৮ শাওয়াল, ১৪৩৯

রাজশাহী, সড়ক সংবাদ রাণীনগরে উড়াল সেতু: সংস্কার করা হবে! হচ্ছে! কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসই যাত্রীদের শেষ ভরসা

রাণীনগরে উড়াল সেতু: সংস্কার করা হবে! হচ্ছে! কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসই যাত্রীদের শেষ ভরসা

সাইদুজ্জামান সাগর, নিরাপদনিউজ:  দেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম শহর-বন্দরে কর্মরত সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ স্বজনদের সাথে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও গত ২ জুন থেকে বাস-ট্রেনের অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু হয়। এবারে সড়ক পথের চেয়ে রেল পথে ভ্রমন করতে যাত্রীদের বেশি আগ্রহী। ট্রেন যাত্রীরা রেলওয়ে ষ্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে সকাল থেকে রাত অবদি দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে এরিয়া অর্থাৎ উত্তর অঞ্চলের ট্রেনে ভ্রমণরত যাত্রীদের মৃত্যু ফাঁদ নামক স্থান রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশনের ‘উড়াল সেতু’। বিভিন্ন ধর্মালম্ভী মানুষ তাদের প্রিয় স্বজনদের সাথে পূজা-পাবর্ন ও বছরে দুই ঈদের ছুটি কাটাবেন বলে টিকিট কেটেও ছিট না পেয়ে আবার অনেকেই টিকিট ছাড়াই বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে শত শত যাত্রী। এসময় গুলোতে যাত্রীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ছাদে ভ্রমণরত যাত্রীরা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে অসাবধানতা বসত রাণীনগরের উড়াল সেতুর রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে কিছু যাত্রীর ঈদ আনন্দ শোকে পরিনত হয়।

প্রায়শ দূর্ঘটনায় আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখা না গেলেও এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উক্ত উড়াল সেতু’র রেলিং এর সাথে গত দুই দিন আগে সচেতনতা মূলক একটি সাইন বোর্ড বেঁধে দেয় কর্তৃপক্ষ। সাইন বোর্ডটি লাগানোর জায়গা নিয়েও এলাকায় চলছে নানা বিতর্ক। স্থানীয়রা বলছেন, সচেতনতা মূলক এই সাইন বোর্ড যাত্রীদের নজরে পড়ার মত না, যদিও নজরে পড়ে তাহলে সাইন বোর্ড দেখতে বা পড়তে গিয়ে যাত্রীরা আরো বেশি দূর্ঘটনার শিকার হবে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, যখননিই দূর্ঘটনা ঘটে তখনই উড়াল সেতুটি সংস্কার করা হবে! এই হচ্ছে! কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসই ট্রেন যাত্রীদের শেষ ভরসা!

জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে’র নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সদরে অবস্থিত রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন উড়াল সেতুটি যাত্রী ও সর্ব সাধারণের রেল লাইন পারাপারের সুবিধার্থে নিমার্ণ করা হয়। যাত্রী ও সর্ব সাধারণের সুবিধার জন্য নির্মিত সেতুটি বর্তমানে মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ট্রেন গুলো নির্ধারিত গতিতে নিবিঘেœ চলাচলের জন্য সময়ের প্রয়োজনে রেললাইন মাঝে মাঝে সংস্কার করায় রেলের পাটাতনের উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি হলেও উড়াল সেতুটি আগের মত থাকার কারণে বাধ্য হয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকারী যাত্রীরা অসাবধানতা বসত প্রায়ই উড়াল সেতুর রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে গুরুত্বর আহত সহ নিহতের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। প্রতি বছরই মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারীর অভাবে সেতুর রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে নিহতদের তালিকা দিনদিন ভারী হচ্ছে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় দুই উৎসব সহ বিভিন্ন পূজা-পার্বনে রেলের যাত্রী বৃদ্ধি পাওয়ায় এক শ্রেণীর যাত্রীরা অনেকটা বাধ্য হয়েই ট্রেনের ছাদে চরে নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করে। দিনাজপুর, সৈয়দপুর, চিলাহাটী, পার্বতীপুর, নিলফামারী, সান্তাহার সহ উত্তর জনপদের বিভিন্ন রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ঈশ্বরদী, যশোর, খুলনা, যমুনা সেতু পাড় হয়ে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত দিন রাতে আন্ত:নগর ও মেইল ট্রেন সহ প্রায় ১১ টি ট্রেন নিয়মিত রাণীনগর রেলওয়ে ষ্টেশন হয়ে চলাচল করে। রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলে ষ্টেশনের ক্যাটাগরি মোতাবেক অধিকাংশ স্থানে উড়াল সেতু আছে সেই সব সেতুর সাথে ধাক্কা লেগে প্রাণহানীর ঘটনা কম-বেশি থাকলেও রাণীনগর রেল ষ্টেশনে স্থাপিত উড়াল সেতুর রেলিং এর সাথে ধাক্কা খেয়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা যাত্রীদের প্রতি মাসেই প্রায় আহত-নিহতর ঘটনা লেগেই আছে।

বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, যদিও ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। ছাদে ভ্রমণে যাত্রীদের আমরা বারবার নিষেধ করলেও এক শ্রেণীর যাত্রীরা নিষেধ না মানার কারণে রাণীনগরের উড়াল সেতুর সাথে ধাক্কা খেয়ে প্রাণহানীর মত ঘটনা বেরেই চলেছে। বিট্রিশ আমলে নির্মিত রেলগুলো সময়ের প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণ কিংবা সংস্কার করায় পাটাতনের উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি হওয়ার ফলে উড়াল সেতুর রেলিং এর সাথে অসাবধানতা বসত ছাদে ভ্রমণ যাত্রীদের দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। স্বাভাবিক ভাবে প্রতিটি উড়াল সেতু প্রায় ১৭ ফিট থেকে সাড়ে ১৭ ফিট উঁচু হয়। কিন্তু রাণীনগরে রেল লাইন থেকে উড়াল সেতুর উচ্চতা মাপ মোতাবেক ১৫ ফিট ৩ ইঞ্চি এবং ট্রেনের উচ্চতা ১৩ ফিট ৬ ইঞ্চি। তাই ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা যখন বাধ্য হয়ে ভ্রমণ করে তখন উড়াল সেতুর রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে প্রায়ই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। বেশ কিছু দিন আগে রাণীনগর রেল ষ্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মরত ষ্টেশন মাষ্টার না থাকায় নজরদারী কমে যাওয়ায় দূর্ঘটনার মাত্রা বেড়েই চলছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ২০ তারিখে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুর গামী দ্রুতযান আন্ত:নগর ট্রেনের ছাদে ভ্রমণরত যাত্রীদের মধ্যে ৭ জন যাত্রী উড়াল সেতুর সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই ৪ জন যাত্রী মারা যায় এবং আরো ৩ জন গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুই জন যাত্রী রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘটনার পরেদিন মারা যায়। রাণীনগরে ৬ জন যাত্রী মারা যাওয়ার পর রেল বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে মৃত্যু ফাঁদ এই উড়াল সেতু সংস্কারের আশ্বাস দিলেও প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও রেল কর্তৃপক্ষ উড়াল সেতু সংস্কারের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নজরে আনতে পাড়েনি। অনতিবিলম্বে এই উড়াল সেতুর সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার দাবি জানান এলাকাবাসি।

নিরাপদ সড়ক চাই রাণীনগর উপজেলা শাখা’র সভাপতি সাইদুজ্জামান সাগর জানান, একই স্থানে বারবার অনেক প্রানহানির মতো ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ সেতুটি সংস্কার বা পূর্ণস্থাপন না করে শুধু মাত্র দায়সারা একটি সাইন বোর্ড ঝুলে দিয়েছে। সাইন বোর্ড নয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা মৃত্যু ফাঁদ নামক এই উড়াল সেতুটির সংস্কার চাই।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্রীজ প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান মোবাইল ফোনে জানান, রাণীনগর ষ্টেশনের উড়াল সেতুটি সংস্কারের মাধ্যমে উঁচু করার কাজ অফিসিয়ালী প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষের দিকে। আশা করছি আগামী ২/৩ মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারবো।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)