ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২০ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ১২ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ২২ শাওয়াল, ১৪৪০

কৃষি, রাজশাহী রাণীনগরে শিম চাষে সফল চাষি তুফান মিঞা

রাণীনগরে শিম চাষে সফল চাষি তুফান মিঞা

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি,নিরাপদ নিউজ :  দেশের উত্তর জনপদের ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় অন্যান্য কৃষি ফসলের পাশাপাশি চলতি শীত মৌসুমে সুস্বাদু পুষ্টিকর তরকারি ও আমিষের ভান্ডার বলে খ্যাত সবুজ রঙের শিম বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করছেন সফল চাষি তুফান মিঞা। শিম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুড়াতে শুরু করেছেন উপজেলার বেতগাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে তুফান মিঞা (৪৬)। তার এই সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবকরাও অন্যান্য সবজি চাষের পাশাপাশি শিম চাষে আগ্রহ হয়ে উঠছেন। তুফান মিঞা’র শিমের ক্ষেতে গেলে সবুজ বেগুনী ফুলের রঙে চোখ ফিরাতে মন চায় না। ছোট ছোট বেগুনি রঙের ফুলে প্রায় প্রতিটি ডোগায় সারি সারি শিমের থোকা গাছের নিচ থেকে কান্ড পর্যন্ত ধরে ঝুলে আছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই আকৃতিতে শিম বড় হয়ে ওজন বাড়ার সাথে মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্বাদু পুষ্টিকর এই শিম স্থানীয় বাজার সহ এলাকার বিভন্ন হাটে-বাজারে ব্যাপক চাহিদার সাথে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তুফানের ক্ষেতে শিম ফল ভালো হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর লাভের পরিমাণ বেশি হবে বলে তিনি মনে করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রায় সব ধরণের মাটিতে শিম চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জাতের শিমের বীজ বপন করতে পারলে এবং নিবিড় পরিচর্যায় শিমের ফলন সবচে ভালো হয়।

শিম চাষের শুরুতেই চাষি তুফান মিঞা খুব ভাল করতে না পারলেও হাল ছেড়ে না দিয়ে এর চাষের প্রসার বৃদ্ধি করে বেশি লাভের আশায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু করেছেন তিনি। ১৯৮৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীন্ন হওয়ার পর কলেজে ভর্তি হয়ে লেখা-পড়ার পাশাপাশি বাড়ির পার্শ্বে পৈতিক জমিতে স্বল্প পরিমাণে নানান জাতের সবজি ও ফলদ জাতীয় বৃক্ষের চাষ শুরু করেন। ১৯৯০ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর চার ভাই বোনের সংসারের পুরো দ্বায়িত্ব তার কাধে পড়ে। এক পর্যায়ে লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে যায়। সংসারের কিছু আয়ের জন্য বেকার বসে না থেকে কৃষি অফিসের পরামর্শে বানিজ্যিক ভাবে প্রায় এক একর জমির উপর বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি ও ফল-মূল যেমন- পেঁপে, করলা, ঢেঁড়শ, পেয়ারাসহ নানান জাতের ফসলের আবাদ শুরু করলে ভাল ফলন ও উপযুক্ত দাম পেয়ে লাভবান হতে থাকে।

সবজি চাষে কোন রকমে পুঁজি ফেরত পেলেও ২০১৬ সালের শেষের দিকে তার নিজের আরো এক একর জমির উপর শিম চাষ শুরু করে। এই ব্যবসায় লাভবান হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে শিম চাষের সফল চাষি হিসেবে আখ্যায়িত করে। ভাল ফলন পেয়ে প্রতি বছরেই আশানুরুপ লাভ করে তুফান মিঞা এখন স্বাবলম্বী। বর্তমানে তার প্রায় তিন একর জমিতে শিম সহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও সবজি চাষ পুরোদমে চলছে। প্রতি বিঘায় শিম চাষে খরচ ১৪ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। দেশী জাতের শিম হওয়ায় পুরো মৌসুমে এর ফলন হয়। ইতিমধ্যেই শিম ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি শিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: শহিদুল ইসলাম জানান, তুফান মিঞার শিম ক্ষেত খুব ভাল হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক যথাযথ পরামর্শ, যথা সময়ে ভাল পরিচর্চা করার ফলে রোগ-বালাই কম হওয়ায় দেশী জাতের শিম চাষে ভাল ফলন হচ্ছে এবং বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ভাল দাম পেয়ে তিনি আরো স্বাবলম্বী হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)