ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ৯, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০

চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ রাস্তার বেহাল দশা, ভেঙে যাচ্ছে যুবক-যুবতীর বিয়ে!

রাস্তার বেহাল দশা, ভেঙে যাচ্ছে যুবক-যুবতীর বিয়ে!

নিরাপদ নিউজ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রাস্তা পাকাকরণের নামে দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা খুঁড়ে রাখায় মারাত্মক জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাঁদায় ভরে যাওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাঁদা হয় রাস্তায়।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারের নিকট বার বার দাবি জানালেও কর্ণপাত করছেন না সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

গত বছরের ২১ মে স্থানীয় সাংসদ বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এমপি, নূরপুর-মসলেন্দপুর সড়ক উন্নয়ন (১৬০০) মিটার কাজের রাস্তা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তার কাজ এখনও শেষ করছে না। গ্রামীণ এই সড়কের বেহাল দশা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে (অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ আওতায়) ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় পাকাকরণের জন্য খুঁড়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন রাস্তাটি খুঁড়ে রাখায় পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তায় চলাচল করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চার হতে পাঁচ হাজার মানুষ চলাচল করে।

নূরপুর গ্রামের মো. মোকাম্মেল হক বলেন, আমাদের নূরপুর গ্রামের ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। এই গ্রামের কোনও কৃষক ধান বিক্রি করতে পারছে না। ধানের পাইকার আসলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কেউ ধান কিনতে চায় না। আমি ৫ কোটি টাকা খরচ করে মৎস্য খামার করেছি। যোগাযোগের সুবিধা না থাকায় পুকুরের মাছ বিক্রি করতে পারিছি না। তাই বাধ্য হয়ে মৎস্য প্রকল্প ছেড়ে দিয়েছি।

একই গ্রামের মো. দিদার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থা দেখে আমার বিয়ে ভেঙে গেছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছুদিন পূর্বে আমার বিয়ের বিষয়ে কথা হয়। পরে কনে পক্ষ আমার বাড়িতে আসলে রাস্তার অবস্থা দেখে তারা বিয়ে ভেঙে দেয়। এই গ্রামের আরও পাঁচটি বিয়ে ভেঙে গেছে শুধু মাত্র রাস্তার কারণে। এই রাস্তা প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছে অনেক নারী পুরুষ।

ষাটোর্ধ আক্কাস ও মুকদুস মিয়া বলেন, গর্ভবতী মহিলাদের এ রাস্তা দিয়ে নেওয়া যায় না। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে পারছে না। কি কারণে এ রাস্তার কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন।

রাস্তাটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম রানা বিল্ডার্স। তবে কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার। স্থানীয় ঠিকাদার মো. আরিফ জানান, এলাকার লোকজন তাদের বাড়ি-ঘরের পানি রাস্তার উপর ছেড়ে দিয়েছে। তাই রাস্তায় পানি জমে আছে।

নাসিরনগর উপসহকারী প্রকৌললী মো. ইছাক মিয়া জানান, রাস্তার কাজ চলমান আছে। নিয়ম মেনেই সঠিক সময়ে কাজ শেষ হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)