ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

সম্পাদকীয় রেলে ১৫, ৫০০ পদ খালি,শূন্যপদে নিয়োগ দিয়ে রেল সেবা নিশ্চিত করতে হবে

রেলে ১৫, ৫০০ পদ খালি,শূন্যপদে নিয়োগ দিয়ে রেল সেবা নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর বঙ্গের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে রেলপথ। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত রেলপথের সেবায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ট। সরকার রেলসেবা নিশ্চিত করার জন্য যোগযোগ থেকে রেলপথকে আলাদা করে মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন। তবুও রেলপথের সমস্যা সমাধান হয়নি। বাড়েনি রেল সেবার মান। রেল সেবা না বাড়ার অন্যতম কারণ জনবল শূণ্যতা।
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে রেলে নিয়োগ হচ্ছে না। রেলের অনুমোদিত জনবল ৪০ হাজার ২৬৪ জনের স্থানে রয়েছে ২৪ হাজার ৭৬৪ জন। ১৫ হাজার ৫০০ পদই শূন্য। চালক থেকে শুরু করে রেলপথ ও লেভেলক্রসিংয়ের পাহারাদার- অনেক পদেই লোকের ঘাটতি। এমনকি জনবলের অভাবে শতাধিক রেলস্টেশন বন্ধও রয়েছে । দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে রেলপথ আছে ৪৪ জেলায়। সব মিলিয়ে রেলপথ আছে দুই হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার। সব রেলপথই অরক্ষিত। প্রায়ই ট্রেন লাইনচ্যুত হচ্ছে। রেলপথ পাহারা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েম্যান নেই। গত বছর বিএনপি জামায়াতের অবরোধ চলাকালে রেলপথ রক্ষার জন্য নিয়োগ করতে হয়েছিল আনসার সদস্যদের। শত শত পয়েন্টে তাঁরাই পাহারায় ছিলেন। পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে মোট দুই হাজার ৫৪১টি লেভেলক্রসিং আছে। এসবের এক হাজার ১২৮টিরই অনুমোদন নেই। প্রহরী আছে মাত্র ৩০০টিতে। রেলের সর্বশেষ হিসাবে, লেভেলক্রসিং ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে তিন বছরে ৮৭৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকছে ট্রেন চলাচল। ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ার অন্যতম একটি কারণ দুর্ঘটনা। ফলে কমছে সেবা, বাড়ছে ঝুঁকি।
রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর রেলের বিভিন্ন পদ থেকে কর্মচারীরা অবসরে যাচ্ছেন। চলতি বছর বিভিন্ন পদের দুই হাজার কর্মচারী অবসরে যাবেন। কিন্তু শূন্য হওয়া বা হতে যাওয়া পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যোগ্য চালক না পাওয়ায় অবসরে যাওয়া ১১০ জনকে দুই বছরের চুক্তিতে পুনর্নিয়োগ দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে। ২০০০ সালে ২৫৬টি ট্রেনের জন্য চালক ছিলেন ৫০০ জন। বর্তমানে ট্রেন বেড়ে হয়েছে ৩৩৪টি। অথচ চালকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৬। স্টেশনমাস্টার, পয়েন্টসম্যান, পোর্টার, গেটকিপার, বুকিং ক্লার্ক ও সিগন্যালের কর্মকর্তা ও কর্মী সংকটের কারণে শতাধিক রেলস্টেশন এখন বন্ধ। খালাসি, ট্রলিম্যান, ল্যাম্পম্যান, মোটরচালক, ট্রেন নাম্বার চেকার, মালামাল সহকারী, লেটারম্যান প্রভৃতি পদেও প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল নেই।
কয়েকবার রেলপথে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা নানা কারণে আটকে যায়। দেখা গেছে নিয়োগের ওপর মামলা হওয়ার কারণে ঝুলে পড়ে নিয়ো প্রক্রিয়া। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম আর চালানো সম্ভব হয় না। রেলের সংস্থাপন শাখা থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে পাঁচ বছরের ব্যবধানে উচ্চ আদালতে ৪৫টি রিট হয়। এর মধ্যে ৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। পাঁচ বছরে ১৩ হাজার ৬৭৫টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চার হাজার ২৫ পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মামলার কারণে ছয় হাজার ৭১৯ পদে নিয়োগ আটকে আছে। এখন ৪৬১ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী কোটায় ৪০৮ পদে প্রার্থী পাওয়া যায়নি। দুই হাজার ৬২ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
২০১০ সালের ১২ আগস্ট ৬৫ ক্যাটাগরির সাত হাজার ৪০ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় রেলওয়ে। কিন্তু ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে গেলে আদালতের স্থগিতাদেশে বন্ধ হয়ে যায় নিয়োগপ্রক্রিয়া। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ২০১২ সালে আবারও নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমাঞ্চল রেলে নিয়োগ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি করা হয়। তবে ওই কমিটি নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর পরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে যোগ্য বিবেচিত প্রায় সাত হাজার আবেদন বাতিল করে। আবার আদালতে রিট করা হয়। এভাবেই মামলায় বারবার ভেস্তে যাচ্ছে নিয়োগপ্রক্রিয়া।
রেলের সেবা নিশ্চিত করতে হলে জনবল নিয়োগ একন্ত জরুরি। কেননা জনবলের অভবেই রেলপথের সুনিশ্চিত সেবা ব্যহত হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে যে কোন উপায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন কুচক্রি মহলের হাত থাকে তাদের প্রতিহত করতে হবে। জনবলের অভাবে যোগাযোগের এই অন্যতম মাধ্যম থমকে পড়বে তা কোন ভাবেই কাম্য নয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)