ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট নভেম্বর ২৮, ২০১৭

ঢাকা শনিবার, ৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটুক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটুক

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ :  সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুর ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার-বাংলাদেশ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরামর্শক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চির দলীয় কার্যালয়ে উভয়দেশের নেতারা চুক্তিতে সই করেন। জানা যায়, নতুন করে নিধনযজ্ঞ শুরম্ন হওয়ার পর পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এই চুক্তি কার্যকর হবে। চুক্তির আওতায় ৭ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিবেচনা করা হতে পারে। মিয়ানমার যে শেষ পর্যন্ত্ম রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে, সেটিকে গুরত্বপূর্ণ বিবেচনা করছেন সরকার সংশিস্নষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা। তথ্য মতে, ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতির ভিত্তিতে মিয়ানমার আগ্রহী না হলেও সেই বিবৃতি অনুসরণ করেই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে, যার বাস্তবায়ন হবে মিয়ানমারে। সই হওয়া চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে তেমনিভাবে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। এখন দেখার বিষয় মিয়ানমার কতটুকু তাদের প্রতিশ্রম্নতি পালনে আন্ত্মরিকতা প্রদর্শন করে।  বিশেস্নষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই এ সংকটের সমাধান পুরোপুরি হবে না। মিয়ানমার যদি সত্যি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায়, তবে দেশটিকে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়ার ঘোষণা থাকা দরকার। ব্যাপক নিধন কার্যক্রমের পর সে দেশে ফিরে যেতে রোহিঙ্গাদের আস্থা সৃষ্টির দায়িত্বটি মিয়ানমারকেই, এ কথা অস্বীকারের সুযোগ থাকে না। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কয়েক বারই পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছে। ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে মিয়ানমার কতটা আন্ত্মরিকতা দেখাবে- সে বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। চুক্তির বাস্তবায়নকালে এ বিষয়টির ওপর বাংলাদেশ সরকারকে অধিক গুরম্নত্ব দিতে হবে বলেও অনেকে মনে করছেন। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনার পর মিয়ানমারের আচরণ, বক্তব্য-বিবৃতি সন্দেহজনক, যা বলা হয়তো বাহুল্য নয়। আর এসব বিষয়াদি বিবেচনায় রেখেই কেউ কেউ মন্ত্মব্য করেছেন মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরেই এখানে খেলছে। আবার চীন সম্পৃক্ত হয়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানে দূতিয়ালি করেছে। ফলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ সমস্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা হওয়া উচিত হতে পারে না।  বিশেস্নষকরা মনে করছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিঃসন্দেহে সরকারের জন্যও একটি শুভ দিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্ত্মর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার হয়েছেন। এখন চুক্তি পরবর্তী প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কারিগরি যে বিষয়গুলো আছে সেগুলোরও সমাধান জরম্নরি ভিত্তিতে সম্পাদন করতে হবে। জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে। আর সেখানে ভারত ও চীন তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে। আমরা মনে করি, বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী ফিরিয়ে নেয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে চলাফেরার স্বাধীনতার উদ্যোগ নিতে মিয়ানমার সব ধরনের উদ্যোগ নেবে- এমনটি চুক্তিতে উলেস্নখ করা হয়েছে। নিয়মটি যাতে মিয়ানমার যথাযথ পালন করে সেজন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং জাতিসংঘের চাপ অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই বলেই প্রতীয়মান হয়।  মিয়ানমার বারবারই রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু দাবি করে এসেছে। সুতরাং এ বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো ধরনের উৎকণ্ঠা সৃষ্টির অবকাশ না থাকে সে ব্যাপারে বাংলাদেশকে সজাগ থাকতে হবে। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ জারি রাখতে হবে। আমরা মনে করি, চুক্তি একটি সঠিক উদ্যোগ হলেও ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে মিয়ানমারের সদিচ্ছার ঘাটতি দেখা গেছে। ফলে মিয়ানমারকে পুরোপুরি আস্থায় না নিয়ে বরং চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপের যে কৌশলের কথা বিশেষজ্ঞরা উলেস্নখ করেছেন, আমরা মনে করি এ ব্যাপারে সরকার তার তৎপরতা অব্যাহত রাখবে। রোহিঙ্গাদের শান্ত্মিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই আমরা প্রত্যাশা করি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)