আপডেট ১ মিনিট ২০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৯ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪০

রাজনীতি লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে ফখরুলের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল

লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে ফখরুলের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

ঢাকা, ২৬ নভেম্বর, নিরাপদনিউজ : গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লতিফ সিদ্দিকী দেশে এসেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এর পর বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় তিনি বলেন, জনগণের চাপে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে নিতে সরকার বাধ্য হয়েছে। তার এ মন্তব্যই প্রমাণ করে যে লতিফ সিদ্দিকী দেশে এসেছেন সেটা তাদের বিশ্বস হয়েছে।
দুপুরে মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাকে নিয়ে সরকার নতুন করে পুরোনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের ঘণ্টা দেড়েকের মাথায় লতিফ সিদ্দিকী থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তিনি বলেন, পিয়াস করিমের মৃত্যুর পর তথাকথিত স্বাধীনতার ধারক-বাহক দাবিদার কিছু মানুষ যেভাবে কথা বলেছেন, দেশের মানুষ একদিন তার সমুচিত জবাব দেবে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে ধর্মপ্রাণ মানুষের ক্ষোভকে উস্কে দিয়ে সরকার বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় লতিফ সিদ্দকী আসলেই দেশে ফিরেছেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে তিনি আসলেই ফিরেছেন কিনা। যদি তিনি ফিরে থাকেন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করা হলো না কেন। সরকার লতিফের বিষয়টি গোপন করছেন কেন!
লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে হরতালের হুমকি দিয়ে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট। বিএনপির পক্ষ থেকেও সাবেক এ মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। হেফাজত ও ইসলামসহ ইসলামী দলগুলোর হরতালের হুমকিতে বিএনপির সায় নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেছেন, আমরা এ ব্যাপারে কাউকে কোনো সমর্থন জানাইনি। কোনো বক্তব্যও দেইনি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের যুগ্মমহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের আসন্ন ঢাকা সফরের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ওই সফর সামনে রেখে লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উস্কে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে-এটা প্রমাণ করে বিদেশিদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এটা করেছে বলে অভিযোগ তার। হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য মন্ত্রিত্ব ও আওয়ামী লীগের সদস্য পদ হারানো লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরেছেন কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে দলের অবস্থান জানাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরার ছবি কোনো সাংবাদিক তুলতে পারেনি। তিনি আদৌও দেশে ফিরেছেন কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। কারণ তার বিরুদ্ধে অনেক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কেন বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, কেন নির্বিঘ্নে চলে যেতে দেওয়া হলো- এটা রহস্যজনক।
লতিফকে নিয়ে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে সরকার নতুন করে পুরনো ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করেছে। তার দেশে ফেরার ঘটনাটি রহস্যে ঘেরা। তার দেশে ফেরা নিয়ে তারা (সরকার) নতুন নাটক তৈরি করে রাজনৈতিক ফয়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য একটাই- ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কে দিয়ে দেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যাতে বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে, এটি প্রমাণ করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিসওয়ালের ঢাকা সফরের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- কোনো বিদেশি যখনই বাংলাদেশে আসেন তার আগ মুহূর্তে দেশে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় যাতে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে বলে প্রমাণ করা যায়। এই জঙ্গিবাদ কেবল এ সরকারই দমন করতে পারবে বলে বিদেশিদের বোঝাতে চায়। সেজন্য এটা সাজানো নাটক কি না এ নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)