ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১০ মিনিট ১৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

কৃষি, খুলনা লবণাক্ত জমিতে নীরব বিপ্লব: সাতক্ষীরা কলারোয়ায় সমন্বিত হলুদ চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি

লবণাক্ত জমিতে নীরব বিপ্লব: সাতক্ষীরা কলারোয়ায় সমন্বিত হলুদ চাষে কৃষকের মুখে হাঁসি

সরদার কালাম,নিরাপদনিউজ: সাতক্ষীরা কলারোয়ায় জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারনে বিগত দিনে হলুদের ফলন কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা নতুন উদ্দোমে চলতি বছর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে সমন্বিত হলুদ চাষ করে লাভবান হয়ে মুখে হাঁসি ফুটেছে প্রান্তিক হলুদচাষীদের। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে উপজেলায় কৃষকেরা সমন্বিত হলুদ চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মহাসীন আলী বলেন,সমন্বিত হলুদ চাষে কৃষকদের উৎসাহ,প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কৃষি অফিসের সাথে সমন্বয়ের ফলে এবছর উপজেলায় হলুদের আবাদ ভালো হয়েছে।একই সাথে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে,চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১০৯ হেক্টর জমিতে।যা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রও ছড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন ।
উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের মোঃ কবিরুল ইসলাম কবির,মোঃ আবুল হোসেন,সোনাবাড়ীয় এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলাম,চান মিয়াসহ চন্দনপুর, হেলাতলা,জালালাবাদ ইউনিয়নের কৃষকরা জানান,আমরা এর আগে হলুদের আবাদ করেছি কিন্তু ফলন ভালো না হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া বর্তমানে  জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর উৎপাদন হচ্ছেনা।ফলে হলুদ আবাদ করে ভালো ফলন না পাওয়ায় আমরা প্রান্তি কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এসব কৃষকরা আরও বলেন,গত কয়েক বছর যাবত হলুদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে হলুদ চাষে আগ্রহী হয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সমন্বিতভাবে(হলুদের সাথে বিভিন্ন সবজি ও তরকারি চাষ)হলুদ আবাদ করা হয়।
কৃষক আবুল হোসেন বলেন,কৃষি অফিসের পরামর্শে সমন্বিত চাষের মাধ্যমে একই জমিতে হলুদের সাথে কয়েক ধরণের সবজির চাষ করেছি। এর ফলে তদারকি সহ হলুদ চাষে খরচ অনেক কম হয়েছে। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মহাসীন আলী জানান,উপজেলার কৃষকরা হলুদ চাষে আগ্রহ হারিয়ে আবাদ বন্ধ করে দিয়েছিলো।
বর্তমানে হলুদের দাম বেশী হওয়ায় আমরা কৃষকদের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন পরামর্শ ও সমন্বিত ভাবে একই জমিতে হলুদের পাশাপশি বিভিন্ন সবজির চাষের পরামর্শ দিয়ে হলুদের উৎপাদন ব্যায় কমিয়ে লাভবান ও হলুদ আবাদে তাদের আগ্রহী করছি।তরুন কৃষিবীদ মহাসীন আলী আরো বলেন,চলতি মৌসুমে হলুদের ভালো ফলন ও লাভবান হওয়ায় আগামীতে উপজেলায় হলুদের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশা ব্যাক্ত করেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান,উপকূলীয় জেলা হওয়ার কারণে কয়েক বছর ধরে জেলার আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারন করছে।যার ফলে হলুদের আবাদ ভালো না হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।তিনি কৃষকদের লাভবান হতে আশার বাণী নিয়ে বলেন,আমরা কৃষকদের হলুদ আবাদের ক্ষেত্রে সবসময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করছি এবং আগামীতেও করব বলে তিনি জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)