আপডেট ১৩ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০

রংপুর লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী

নিরাপদ নিউজ: ৫ দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ সেন্টিমিটার বেশি। স্বাভাবিক প্রবাহ হচ্ছে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ৫ দিনের ভারি বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এর সঙ্গে বুধবার (১০ জুলাই) দিনগত মধ্যরাত থেকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুর থেকে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নৌকা বা ভেলা ছাড়া চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধেয়ে আসছে পানির স্রোত। এতে বড় সমস্যায় পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। চার দিকে অথৈ পানির কারণে গবাদি পশু-পাখি নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা।

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

এদিকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি রক্ষায় বালির বস্তা দিয়ে রাতভর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে নিরন্তর চেষ্টা চালাছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন। এছাড়াও জেলার তিস্তার তীরবর্তী বেশ কিছু বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

হঠাৎ বন্যায় শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন চরাঞ্চলের পানিবন্দী খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তিনদিন পানিবন্দী থাকলেও শেষ এ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার পৌঁছানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পানিবন্দীরা।

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় জেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

গোবর্দ্ধন চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজি শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে ডুবে গেছে শ্রেণি কক্ষ। তাই তিনদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে না। এ কারণে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী গ্রামের কলিমুদ্দিন ও শাহিনুর বলেন, দুই দিন ধরে পানিবন্দী থাকার পর বুধবার মধ্যরাতে হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। টানা তিনদিন থেকে পানিবন্দী অবস্থায় আছি। কোনো প্রকার ত্রাণ সহায়তা পাইনি।

সিন্দুর্না ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ত্রাণের জন্য তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, জেলা ত্রাণ তহবিলে এক হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৫০ টন জিআর চাল ও আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। উপজেলা থেকে তালিকা পেলে বরাদ্দ দেয়া হবে।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, পানি প্রবাহ সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে জেলার নিম্ন ও চরাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)