ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১১ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৯ আষাঢ়, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৮ শাওয়াল, ১৪৩৯

বিনোদন, লিড নিউজ, শোক সংবাদ শক্তিমান অভিনেতা মিজু আহমেদ আর নেই

শক্তিমান অভিনেতা মিজু আহমেদ আর নেই

মিজু আহমেদ আর নেই

নিরাপদনিউজ : শক্তিমান অভিনেতা মিজু আহম্মেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহে ….রাজিউন)। দিনাজপুরে সুটিং স্পটে যাবার সময় কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার পর ট্রেনের ভেতর তিনি স্ট্রোক করেন বলে জানা গেছে। এরপর দ্রুত তাকে বিমানবন্দর স্টেশনে নামিয়ে ক্যান্টনম্যান্টস্থ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মিজু আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ইলিয়াস কাঞ্চনকে সেল ফোনে জানান চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,  ছবির শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে সোমবার ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন মিজু আহমেদ। ট্রেনে পরিচালক কাজী হায়াৎ ও অভিনেত্রী রেহানা জলিও ছিলেন। রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলস্টেশনে পৌঁছলে মিজু আহমেদ বুকে ব্যাথা অনুভব করেন। এরপর পরই তাকে দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য ক্যান্টনম্যান্টস্থ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

চলচ্চিত্র জগতে ইলিয়াস কাঞ্চনের খুব কম সংখ্যক বন্ধু আছেন তাদের ভেতর মিজু আহমেদ অন্যতম বন্ধু ছিলেন বলে জানান তিনি। মিজু আহমেদ একাধারে অসংখ্য সিনেমাতে ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে কাজ করেছেন সেই সাথে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শক্তিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা মিজু আহমেদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। দেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সামাজিক এই আন্দোলনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে থেকে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং সংগঠনকে গতিশীল করার অবদান রেখেছেন। বর্তমানে তিনি নিসচা’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন বলে জানান ইলিয়াস কাঞ্চন।

মিজু আহমেদের মৃত্যুতে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে নিরাপদ সড়ক চাই একজন দক্ষ ও সফল যোদ্ধাকে হারিয়েছে, চলচ্চিত্র হারিয়েছে একজন গুণী অভিনেতাকে।
ইলিয়াস কাঞ্চন আরো জানান, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনারোধে মিজু আহমেদ নিজেকে আত্মনিবেদিত রেখেছিলেন। এই সংগঠনের সকল কর্মকান্ডে সর্বাঘ্রে অবস্থান ছিল তাঁর। মিজু আহমেদ ছিলো আমার খুব কাছের একজন বন্ধু, আজ আমি আমার একজন বন্ধুকে হারালাম, একজন সহযোদ্ধাকে হারালাম আমি।

ইলিয়াস কাঞ্চন মিজু আহমেদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান সেই সাথে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

মিজু আহমেদের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন নিসচা মহাসচিব শামীম আলম দীপেনসহ কার্যকরি কমিটির নেতৃবৃন্দ ও দেশ বিদেশের বিভিন্ন শাখার কর্মিবৃন্দ (শোক প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে)।

মিজু আহমেদের মৃত্যুতে আরো শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ হল মালিক ও প্রদর্শক সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নাম লেখান মিজু আহমেদ। শৈশব থেকেই অভিনয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে জড়িত ছিলেন এই বড় পর্দার অভিনেতা। অভিনয়ের পাশাপাশি একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস মুভিজ। এ পর্যন্ত ৮০০-এর অধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনিত উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে তৃষ্ণা, চাকর, ত্যাগ, বশিরা, হাঙর নদী গ্রেনেড, কুলি, লাঠি, কষ্ট, ইতিহাস ও ক্রাইম রোড।

তৃঞ্চা ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। মিজু আহমেদের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায়। স্ত্রী পারভীন আহমেদ, দুই মেয়ে কেয়া ও মৌ এবং ছেলে হারশাতকে নিয়ে তার পরিবার।

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)