ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৭ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৫ মুহাররম, ১৪৪১

বরিশাল, ব্যবসা-বাণিজ্য শখ থেকে কোয়েল চাষে স্বপ্ন পূরণ: কলাপাড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে খামার

শখ থেকে কোয়েল চাষে স্বপ্ন পূরণ: কলাপাড়ায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে খামার

রাসেল কবির মুরাদ, নিরাপদ নিউজ: কলাপাড়ায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখির খামার চালু হয়েছে। অনেকটা শখের বশেই বাড়িতে কোয়েল পালন শুরু করেন শিক্ষিত যুবক মাহাবুবুল আলম নাঈম। মাত্র নয় মাস যেতে না যেতেই তিনি দেখেন লাভের মুখ। এর পর পৌর শহরের সিকদার সড়কে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন নূর জাহান লাইভস্টক অ্যান্ড এগ্রো নামের একটি খামার।

শুধু কোয়েল পাখি নয় তার খামারে রয়েছে দেশী হাঁস, মুরগী, কবুতর। এছাড়াও সে নিজ পুকুরে পাঙ্গাস মাছ চাষ করছেন। তবে কোয়েল পাখি পালন লাভজনক হওয়ায় সে বাণিজ্যিক ভাবে এর যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে কোয়েলের ডিম বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের জন্য উপযোগী এবং কোয়েলের মাংস ও ডিম মুরগির মাংস ও ডিমের মত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। এটি গৃহপালিত পাখি। কোয়েল পাখির আদি জন্ম স্থান জাপানে। পরবর্তীতে এটা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ বাংলাদেশেও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কোয়েল খামারী নাঈম জানান, মাত্র নয় মাস আগে নরসিংদীর একটি খামার থেকে ৬’শ বাচ্চা পাখি ক্রয় করে আনা হয়। তখন স্থানীয়রা বলে ওই বাচ্চা গুলো রাখতে পারবেনা, মরে যাবে। তখন তাদের কথা শুনে কষ্ট হয়ে ছিল। যখন একটু বড় হয়েছে। আর ডিম পাড়া শুরু করেছে তখন সেই কষ্ট দূর হয়ে গেছে। এতে তার সর্ব মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন তার খামারে ১২’শ কোয়ের পাখি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮’শ ডিম দেয়। এ ডিম গুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

তবে দিন দিন কোয়েলের ডিম ও মাংসের চাহিদা বাড়ছে। তিনি বলেন, আর নয় বেকারত্ব আপনিও সাথী হন পথ চলার। কম পুঁজি নিয়ে কোয়েলের খামার তৈরি করা যায়। কোয়েলের আকার ছোট বলে এদের লালন পালনের জন্য জায়গাও কম লাগে। একটি মুরগি পালনের স্থানে মোটামুটিভাবে ১০ থেকে ১২টি কোয়েল পালন করা যায়। এ পাখির রোগব্যাধি নেই বলেই চলে। সাধারণত ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ বয়সেই একটি কোয়েল ডিম দিতে শুরু করে। এরা ৩৬৫ দিনে ৩২০ ডিম দিয়ে থাকে।

নাঈম’র পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, সে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে মাষ্টার পাশ করেছে। এর পর সে একটি ইন্টারন্যাশনাল এনজিওতে প্রজেক্টের আওতায় চাকুরীও করেছেন। সেখান থেকে বাড়ি আসার পর সে বেকার হয়ে পড়ে। বাজার থেকে শখ করে মাত্র দু’টি কোয়েল পাখি ক্রয় করে লালন পালন শুরু করেন।

এক পর্যায় তার মাথা ঢুকে যায় অধিক হারে এ পাখি পালন করলে এটি দিয়ে লাভ করা সম্ভব। সেই থেকেই তার পথ চলা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকানুল ইসলাম জানান, তার কোয়েল চাষ দেখে অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এ পাখির ডিম ও মাংস পুষ্টিকর হওয়ায় এলাকার আনেক লোকজন খাওয়ার জন্য বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া দামও খুব কম। নতুন নতুন যারা কোয়েল পাখি চাষ করতে চায় তাদেরও পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে তার মত কোয়েলের খামার করে বেকার যুবকেরা কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক মো.কামরুজ্জামান জানান, কোয়েলের ডিম ও মাংসে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। কোয়েলের ডিম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো.হাবিবুর রহমান বলেন, নাঈম তার খামারের বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসে। তবে অল্প পুঁজি ও স্বল্প পরিসরে কোয়েল পালন করা যায়। এর মাংস, ডিম সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। এ কারণে দিন দিন কোয়েল পালনে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)