ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৯ রমযান, ১৪৪০

লিড নিউজ, সংস্কৃতি নগরী সংবাদ শজিমেক হাসপাতালে কর্মবিরতি, রংপুর মেডিকেলের সংহতি

শজিমেক হাসপাতালে কর্মবিরতি, রংপুর মেডিকেলের সংহতি

শনিবার সকাল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন করছেন।

০৪ মার্চ ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : এক রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী চার ইন্টার্ন চিকিৎসককে শাস্তি দেয়ায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় দিনের মতো কাজ করছেন না তার সহকর্মীরা।শনিবার সকাল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন করছেন।

তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কর্মবরিতি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।শনিবার সকাল ৮টা থেকে তারা কর্মবিরতিসহ হাসপাতালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

রংপুর ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ফারহান রহমান জানান, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের শাস্তি প্রত্যাহারসহ তাদের নিজেদের কর্মস্থলে বহাল রাখার দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ঠিক রাখতে শনিবার সকালে সব বিভাগের চিকিৎসকরা বৈঠকে বসেছেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের শাস্তির ঘোষণা আসার পরপরই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এই অঘোষিত কর্মবিরতি শুরু করেন।

হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে বিরতি শুরু করেছেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য হাসপাতালের পরিচালক মহোদয় চেষ্টা করছেন।

নার্সরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে শাস্তির বিষয়টি জানাজানি হলে ইন্টার্নদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ১৩০ ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে রাত থেকেই অনেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২০০ নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখেন। শুক্রবার সকাল থেকে সব ইন্টার্ন অঘোষিতভাবে কর্মবিরত শুরু করেন।

শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তুচ্ছ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের কোনাগাতি থেকে আসা আলাউদ্দিন সরকার নামে এক রোগীর ছেলে আবদুর রউফকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মারধর করেন।

তাকে কানধরে ওঠবোস করানো হয়। তার ভাই ও দুই নারী স্বজনকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছিল। মারধর ও কান ধরিয়ে ওঠবোস করানোর ওই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকদের নিয়ে সমালোচনা ওঠে।

এ ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে। ওই কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার চার চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

শাস্তি শেষে তাদের চারটি ভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।

শাস্তিপ্রাপ্ত ইন্টার্নরা হলেন- ছাত্রলীগ শজিমেক শাখার সভাপতি ডা. এমএ আল মামুন, সহ-সভাপতি ডা. আশিকুজ্জামান আসিফ, সাবেক সহ-সভাপতি ডা. কুতুব উদ্দিন ও ডা. নূরজাহান বিনতে ইসলাম নাজ।

এদের মধ্যে ডা. মামুনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ডা. আসিফকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ডা. কুতুব উদ্দিনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ডা. নাজকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)