ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১ সেকেন্ড

ঢাকা শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১

বিনোদন, মিডিয়া, লিড নিউজ শমী কায়সারকে সাংবাদিক সমাজের আল্টিমেটাম

শমী কায়সারকে সাংবাদিক সমাজের আল্টিমেটাম

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, নিরাপদ নিউজ: সাংবাদিকদের নাজেহাল, অপমান ও চোর বলায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিএফইউজে (উভয় অংশ), ডিইউজে (উভয় অংশ), ডিআরইউ, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতিসহ সাবেক ও বর্তমান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন শমী কায়সার যে অপরাধ করেছেন তা ক্ষমার অযোগ্য। তার কৃতকর্মের জন্য অবশ্যই তাকে সমাধান করতে হবে। আর জন্য সময় ২৪ ঘন্টা থেকে ৪৮ ঘন্টা। ইতিমধ্যে শমী কায়সারকে জাতীয় প্রেস ক্লাব আঙ্গিনাসহ সংবাদিকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। শমী কায়সার এবং তার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকেও বয়কট করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। এমনকি বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে শমী কায়সার কোন পদক্ষেপ না নিলে সাংবাদিক সমাজ তার নেতিবাচক সকল সংবাদ অনুসন্ধান করে তুলে আনবে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রচার করবে বলেও ঘোষণা এসেছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের অপমান ও তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় অভিনেত্রী শমী কায়সারের আচরণের প্রতি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। যেহেতু শমী কায়সার প্রেস ক্লাবেই বসে সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করেছেন তাই তার প্রতি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের এই হুশিয়ারী। আজ ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টা ৪৯ মিনিটে ফেসবুকের ব্যক্তিগত একাউন্টে এই ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে স্ট্যাটাস দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ওই স্ট্যাটাসে প্রেস ক্লাবে ঘটনাটি ঘটলেও প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে শমী কায়সারের ‘চোর’ মন্তব্য এবং সাংবাদিকদের দেহ তল্লাশির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফরিদা ইয়াসমিন লিখেছেন, ‘জাতীয় প্রেস ক্লাবে গতকাল বুধবার একটি অনুষ্ঠান চলার সময় বিশিষ্ট অভিনেত্রী শমী কায়সারের ফোন সেট হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি দুঃখজনক। প্রেস ক্লাবে ঘটনাটি ঘটলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। এটাও জানতে পারি অনুষ্ঠানে কেক দিতে আসা লোকেরা ফোন নিয়ে যায়। অথচ শমীর লোকেরা সাংবাদিকদের দেহ তল্লাশি করেছে। বিষয়টি সাংবদিকদের সম্মানও মর্যাদার সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনার তীব্র নিন্দাও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই।’
উল্লেখ্য গতকাল ২৪ এপ্রিল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান চলাকালে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও অভিনেত্রী শমী কায়সার হঠাৎ লক্ষ্য করেন তার দুটো ফোন সেটই খোয়া গেছে। এর পরপরই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রেস ক্লাবের হলকক্ষ বন্ধ করে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সবার দেহ তল্লাশির নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় যাদের দেহ তল্লাশি হয়েছে তাদের কেউ কেউ পেশাগত কাজে বের হতে চাইলে তার উদ্দেশে ‘চোর’ বলে ওঠেন তিনি। এমনকি তার বডিগার্ডদের আচরণও ছিল আপত্তিকর। পরে অনুষ্ঠানে থাকা ক্যামেরা পারসনদের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক দিতে আসা লোকদের কেউ একজন তার ফোন নিয়ে চলে গেছে। ঘটনাস্থলে শমী ‘স্যরি’ বললেও এরপর থেকেই সাংবাদিকদের মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শমী কায়সারের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নিন্দার ঝড় বইছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)