ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ১ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১

খুলনা শরীয়তপুরে জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ!

শরীয়তপুরে জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ!

নিরাপদ নিউজ: শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জোরপূর্বক ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা ও দপ্তরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনরা।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে আজ সোমবার অভিযোগের তদন্তে বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউল আজম হিরক। দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সরেজমিন ঘুড়ে জানা যায়, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে অবস্থিত ২৯ নং ডিএমখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার ৫ম শ্রেণির ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী জুমান। জুমান চুল কাটতে আসলে ছাত্রীরা বারবার নিষেধ করে কিন্তু প্রধান শিক্ষক কাবেরী গোপ চুল কাটার হুকুম দেন। জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটে জুমান। এতে ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করে। আশপাশ থেকে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি। পরে এ খবর জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় ভেঙে পড়ে ছাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি জানিয়েছে।

ভূক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবা দেলোয়ার বেপারী বলেন, আমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে। কিছু দিন পড়ে হাই স্কুলে যাবে। একজন পুরুষ ছেলে দিয়ে আমার মেয়ের চুল কাটার সাহস প্রধান শিক্ষক পেল কোথায়? চুল হলো মেয়েদের অলংকার। এখন মেয়ে স্কুলে যায় না। ঘর থেকে লজ্জায় বের হয় না। আমি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার চাই।

স্থানীয় আব্দুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষিকা কিভাবে ছেলে দপ্তরী দিয়ে এই বড় মেয়েদের চুল কাটার হুকুম দিতে পারে আমি বুঝি না। চুল মেয়েদের সুন্দর্যের একটি অংশ। চুলগুলো যেভাবে কেটেছে দেখলে যে কারো কষ্ট লাগবে। চুলের জন্য মেয়েরা যেভাবে কান্না করেছে তাতেও শিক্ষিকার মন গলেনি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। আমি তাদের শাস্তি চাই।

ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী জুমান বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষিকা চুল কাটতে বলেছেন। আমি বিদ্যালয়ে থাকা কাচি দিয়ে চুল কেটেছি। আমার কোনো দোষ নাই।

প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন, আমি মাস খানেক আগে মা সমাবেশে মেয়েদের চুল সেটিংস করে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝেনি। তাই আমরা উপস্থিত থেকে দপ্তরীকে দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে মেয়েদের চুল কেটেছি। এ নিয়ে কিছু লোক প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করতে বলেছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক। প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)