ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কুমিল্লায়

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কুমিল্লায়

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ: নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য বড় পরীক্ষা ছিল কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে শুধু দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ১১১টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশিত হয়েছে। মেয়র পদে সার্বিক ফলাফলে ওই দুই কেন্দ্রের ফল কোনো প্রভাব ফেলবে না। ভোটগ্রহণের দিনটি ছিল উরবমুখর। তেমন বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের পর ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সবার আস্থা অর্জনে কমিশন শতভাগ সফল হয়েছে।

অন্যদিকে বিজয়ী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু দাবি করেছেন, সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি আরো বেশি ভোটে জিততেন। পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা ভোটের ফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা খুব একটা লক্ষ করা যায় না। কুমিল্লার নির্বাচনে সীমা সেই কাজটি করে দেখালেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি ছিল গোটা দেশের মানুষের।

নবগঠিত ইসির প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই। নতুন কমিশন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব সম্পাদন করতে পারে কি না, তা দেখার ছিল। সাধারণত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়। ভোটের দিন পেশিশক্তি ব্যবহারের চেষ্টাও হয়ে থাকে। কিন্তু সেদিক থেকে ব্যতিক্রম বলতে হবে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন। মানতে হবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ নির্বাচনে কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। ভোটের ফল সরকারি দলও স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছে। দলের মুখপাত্র এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উরবমুখর পরিবেশ ছিল। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল প্রার্থী দেওয়ায় শুরু থেকেই জমে উঠেছিল নির্বাচন।

মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ভোটের উত্তাপ। প্রার্থীদের প্রচারে কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়নি। শালীনতা লঙ্ঘিত হয়নি। জঙ্গি আতঙ্ক ছাপিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল ভোটের দিন। তবে ভোট প্রদানের হার গতবারের মতো হয়নি। এবার ভোটের হার ৬৫ শতাংশ। কুমিল্লায় যে উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে।

আগামী যেকোনো নির্বাচন এভাবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা ফিরে পাবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন প্রতিটি নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)