ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ৩১, ২০১৮

ঢাকা রবিবার, ৬ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১০ সফর, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আন্দোলনের সাথে ইলিয়াস কাঞ্চনের একাত্মতা ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আন্দোলনের সাথে ইলিয়াস কাঞ্চনের একাত্মতা ঘোষণা

নিরাপদ নিউজ: বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদে উত্তাল সারাদেশ। দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের শাস্তির দাবিতে এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছিলো শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রীকে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তারা।

সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী শাহীন সিফাত সংবাদ সম্মেলন করে আলটিমেটাম ঘোষণা করেন। তাদের আলটিমেটামে ৯ দফা দাবির মধ্যে আছে, বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং ঘাতক চালকদের ফাঁসির বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে, নৌপরিবহন মন্ত্রীর নিঃশ্বর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এমইএস ফুট ওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিহত হওয়ার দায়ভার সরকারকে নিতে হবে, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে, শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া যাবে না এবং বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে পরক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে যেন একাত্মতা প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বস্তরের সচেতন জনসাধারন।

৩ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গতকাল তাৎক্ষণিক গভীর শোক প্রকাশ এবং মাননীয় মন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিকেও সমর্থন দিয়ে তাদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি ক্ষোবকে শক্তিতে পরিনত করে দুর্ঘটনা নিরোসনে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তার নিয়মতান্ত্রিক পথে, পাশাপাশি দেশকে সড়কের মড়ক থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে আগামী ৩ অাগষ্ট শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এক মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেন তিনি।

সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পায়েলের মর্মান্তিক মৃত্যু ও গতকাল ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক অকাল মৃত্যুতে এবং দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীন বক্তব্যের প্রতিবাদেই এই মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর একটি পরিবার কী ধরণের শোক ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তা ভূক্তভোগী ছাড়া কাউকে বোঝানো সম্ভব না। এদেশে কারণে অকারণে প্রতিবাদ হয়, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রতিবাদ হয়, কেউ গ্রেফতার হলে প্রতিবাদ হয়, মানুষ খুন হলে প্রতিবাদ হয়, কিন্তু প্রতিদিন একই কায়দায় সড়কে মানুষ খুন হলেও সবাই চুপ থাকে। এ নিয়ে প্রতিবাদের মানুষ নেই।

সড়ক দুর্ঘটনা কিন্তু প্রাকৃতিক নয়। মানবসৃষ্ট কারণেই প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সে হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা পরোক্ষভাবে হত্যারই শিকার হন। কিন্তু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য কাংখিত উদ্যোগ নেই। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা না কমে জ্যামিতিক হারেই বেড়ে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে দেখা যায় কোনো বিশিষ্ট নাগরিক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যসহ পরিচিত কেউ কখনও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হলে নিহতদের স্বজন-শুভাকাঙ্খীরা মাঝে মাঝে আন্দোলন-অবরোধের পথ বেছে নেয়, তখন বেশ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ পায়। তবে দুদিন পর তা আবার থেমে যায়। এছাড়া সারাদেশে নীরবে ঘটে যাওয়া পরিবহন অব্যবস্থাপনার শিকার হওয়া হতভাগ্যদের নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা-ঘটনার বিচার কিছুই হয় না। সব ধামা চাপাই পড়ে যায়।

ইলিয়াস কাঞ্চন শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন তোমরা তোমাদের সহপাঠীর জন্য যে আন্দোলনে নেমেছ তা সত্যি প্রসংশনীয়। আমাদের সবার প্রতিবাদি হতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের মেরুদন্ড। আজ সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের মেরুদন্ড ভেঙে যাচ্ছে যা সত্যিই দু:জনক। অসতর্কতা আর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে হওয়া একটা সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বহু মা হারাচ্ছেন তাদের সন্তানকে। অপমৃত্যু ঘটছে বহু সম্ভাবনার। তিনি শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে দেশের সকল পর্যায়ের জনসাধারনকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান।  সেই সেথে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন আজ তোমরা যে দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছ তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের লড়াই করে যেতে হবে তিনি তার সংগঠনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি নিসচা আন্দোলন দীর্ঘ ২৫বছর ধরে করে আসছি আজও থামিনি যতদিন দেশের সড়ক ব্যবস্থা নিরাপদ না হবে ততদিন আমার এই আন্দোলন চলবে।

দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই। নিসচা বিশ্বাস করে এদেশের মানুষ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং প্রতিবাদী কণ্ঠ, যা অবশ্য নিয়মতান্ত্রিক পথেই এগুবে। নিসচা এদেশের মানুষের জন্য কাজ করছে তেমনি এদেশের মানুষও নিসচার পাশে থাকবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবার আগে আইনের প্রয়োগ জরুরি। তবে অনেক সময় শুধু আইন প্রয়োগ করেও সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যায় না,তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালক, মালিক, শ্রমিক, পথচারী, যাত্রী,  নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে তাহলেই দেশের সড়ক দুর্ঘটনা একদিন কাংখিত লক্ষ্যে পৌছবে। সেই সাথে আইন নিয়ন্ত্রকারী সংস্থা বিশেষ করে সরকার এবং রাজনীতিবিদ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)