ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৮ মিনিট ১৩ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ শাওয়াল, ১৪৪০

চট্টগ্রাম, মানবাধিকার সংবাদ শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাতে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে: দুদক চেয়ারম্যান

শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাতে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে: দুদক চেয়ারম্যান

শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাতে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে

শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাতে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে

শফিক আহমেদ সাজীব,  ২৭ মে, ২০১৬, নিরাপদনিউজ :দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারীদের রেহাই নেই। ব্যাংকের অর্থ লোপাটকারী যেই হোক, জনগণের অর্থ যারা নিয়ে গেছে তাদের ছাড়া যাবে না। ছাড়বো না, এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ব্যাংকিং খাতে দুদক ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করবে বলেও ঘোষণা দেন।

তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই। জনগণের আমানত যারা খেয়ানত করে, সেই খেয়ানতকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ। অর্থ লোপাটকারীরা কেমন ক্ষমতাধর ব্যক্তি, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আত্মসম্মানবোধ আর ভালো-খারাপ বুঝবার ক্ষমতা অর্থাৎ মান আর হুঁশ এ দুটো মিলেই মানুষ। যারা দুর্নীতি করেন, তাদের আত্মসম্মানবোধ থাকে? আমার মনে হয় থাকে না। দুর্নীতি মানে অন্যের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া। দুর্নীতি সমাজে আছে, কিন্তু সমাজ চলছে কিভাবে? কারণ সমাজে এখনো মান আর হুঁশওয়ালা মানুষ আছে।

জনগণের আমানত খেয়ানতকারীদের রক্ষা নেই বলে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শুধু ব্যাংকিং খাতেই খেয়ানত হচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে হচ্ছে। তাই জনগণকে সাথে নিয়েই আমাদের এগোতে হবে। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করাও আমানতের খেয়ানত।

শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার মান কমে গেছে। এর পেছনেও দুর্নীতি। এটি জীবন-মরণ প্রশ্ন, দেশ রক্ষার প্রশ্ন, জাতি রক্ষার প্রশ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগের ভর্তি পরীক্ষার উদাহরণ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এটি দুর্ভাগ্য। নির্বাচনী পরীক্ষায় সব বিষয়ে পাশ না করলে কাউকে পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত না করার নির্দেশনা রয়েছে। অথচ সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। আমরা নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা এক বছর সংরক্ষণ করতে বলেছি। যাতে প্রয়োজনে খাতা পরীক্ষা করতে পারি। আমরা ক্রাশ প্রোগ্রাম নিচ্ছি। শিক্ষাঙ্গনে এভাবে দুর্নীতি চলতে দেয়া যায় না।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল আমিন, নগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুদক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়া। দুদকের মহাপরিচালক ড. শামসুল আরেফিন বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সমাজে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারে, দৃঢ় আস্থা ও অবস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তবে দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত হবে। বিনা বেতনে স্বেচ্ছাশ্রমে কমিটির সদস্যরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ২০১৫ সালে পুরস্কার না পেলেও ব্যাপক কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির চট্টগ্রাম মহানগরীর সদস্যা অধ্যাপিকা ফাতেমা জেবুন্নেসা, কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য বদরুল হুদা জেনু, বাঁশখালী উপজেলা কমিটির সভাপতি তাপস কুমার নন্দী, চকরিয়ার উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নোমান ও কসবা উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতি মো. সোলায়মান খান।

বাঁশখালী, কসবা, চকরিয়া উপজেলা ও কুমিল্লা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের ‘শ্রেষ্ঠ’ পুরস্কার তুলে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। ২০১৫ সালের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)