ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মার্চ ১৩, ২০১৮

ঢাকা বুধবার, ১১ আশ্বিন, ১৪২৫ , শরৎকাল, ১৫ মুহাররম, ১৪৪০

কৃষি, রাজশাহী শিবগঞ্জে বিদেশি সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে মিজানুরের

শিবগঞ্জে বিদেশি সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে মিজানুরের

শিবগঞ্জে বিদেশি সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে মিজানুরের

রশিদুর রহমান রানা, নিরাপদ নিউজ : শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়া থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলা, এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদী, নদী পাড় হলেই উপজেলা রায়নগর ইউনিয়নে টেপাগাড়ী গ্রাম আঁকাবাঁকা জমির আলপথ ধরে সামনে এগিয়ে চোখ ধাধানো সবজির রাজ্য। ক্ষেতের পর ক্ষেত অষ্টোলিয়া থাইল্যান্ড ও চাইনিজ বিজে সুইট কর্ন, বেবি কর্ন, ক্যাপসিক্যাম, গ্রোকলী, ক্যাপসাইট, সিমলা চেলী, চেরি টমেটো, প্রেন্স বিন, এ্যাসপ্যাবাগাছ, রেড ক্যাবিস, থাই তুলছি, কারী লিপ, লিলা পাতা, রুটবিট, লিটুস, গ্রিন পিস, জুকুনী, থায়াদা, থাই পাতা, লিটুস পাতা, স্যালাট পাতা স্কোয়াড সহ প্রায় ২৭ প্রকারের সবজির বাগান। এসব সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন মিজানুর রহমান মিজান নামে এক যুবক। আব্দুল মান্নানের ছেলে মিজান প্রায় ১৭ বছর ধরে বিদেশী সবজি আবাদ করে আসছে। সবজি চাষ করে যেমন নিজের বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন তেমনি পারিবারিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। সরজমিনে গিয়ে মিজানুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায় দুই ভাই এক বোনের মধ্যে মিজানুর বাবা-মার বড় সন্তান ২০০১ সালে এস.এস.সি পাশ করে বাবার সংসারের অভাবের কারনে পড়াশুনা আর এগোতে পারেনি । তাই এস.এস,সি পাশ করে পারি জমান ঢাকায়। সেখানে গ্রিন হাউস পদ্ধতিতে বিদেশি সবজি চাষ করতে দেখেন। তখন থেকে তার মাথায় চেপে বসে বিদেশি সবজি চাষ করবে। সেখান থেকে মিজানুর ক্যাবেজ, লেটুস পাতা, চাইনিজ পাতা ও সুইটকর্নের কিছু বিজ কিনে এনেছিলেন।

দরিদ্র কৃষকের ছেলে মিজানুর চাষ করার জমি পাবে কোথায়, কথায় আছে প্রবল ইচ্ছা শক্তি ব্যক্তিকে লক্ষ্যে পৌছায়। এক এনজি ও থেকে ১২ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জমিতে প্রথম কয়েক ধরনের বিদেশি সবজি চাষ করেন। ফলাফল ভাল হলো কিন্তু এসব সবজি কিনবে কে? নিজে বগুড়া শহরে গিয়ে চাইনিজ রেস্তরায় বিক্রি করা শুরু করে। সবজি চাষ শুরুর আগে মিজানুর বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাক্তন-উপ পরিচালনক আব্দুর রউফ এর পরামর্শ ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষন নেন। বিগত ১৭ বছরের সেই ছোট বাগান ধিরে ধিরে বিশ বিঘা বা প্রায় ৭ একর এলাকা জুড়ে বিদেশি সবজির বিশাল বাগান গড়ে উঠেছে। হরেক রকম বিদেশি সবজির বাগান যা দেখলে যে কারো চোখ জুড়ে যাবে। করতোয়া নদীর তীরে একটি ক্যাপসিক্যাম ক্ষেতে লাল, হলুদ, সবুজ তিন ধরনের ক্যাপসিক্যাম চাষ হচ্ছে।

পাশের একটি জমিতে ফলেছে সুইটকর্ণ মিষ্টি কুমড়ার মত স্কোয়াড দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকেরা এসে তার কাছ থেকে বিদেশি সবজির বীজ ও চারা সংগ্রহ করছেন। তার হাত ধরে বিদেশি সবজির চাষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশ জুড়ে। পেয়েছেন সিটি ব্যাংক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পরিবেশ বান্ধব জৈব প্রযক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যের নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও সম্প্রসারনের জন্য বিশেষ সনদপত্র। গড়ে তুলেছেন মিজান এগ্রো ভেজিটেবল প্রডাক্টশন কৃষি ফার্ম একটি খামার। তার এ খামার থেকে উৎপাদিত সবজি গুলো বগুড়া শহরে অবস্থিত টাচ এ্যান্ড টেক নাজ গার্ডন সহ বিভিন্ন ফাস্ট ফুড ও চাইনিজ হটেলে সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে ঢাকা চিটাগং শহরে সরবরাহ কারীদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষক মিজানুর রহমান বলেন শীত কালে ৬ মাস বিদেশী সবজি চাষ হয়। লেটুস পাতা লিমন পাতা ও চাইনিজ পাতা ৪০ দিনে আর ব্রুকলি ৭০ দিনে তোলা হয়। ব্রুকলি ও রেড ক্যাবেজ চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। বিঘার খরচ বাদে লাভ হয় ৬০ হাজার টাকা। মিজানুরের বাবা আব্দুল মান্নান বলে আমার ছেলে তার প্রিয়জনের মত সবজি আদর যতœ করে থাকেন। বছর চুক্তি হিসাবে প্রতি বিঘা ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা পত্তন নেয়া হয়। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বছর সবজি বিক্রি করে ৮-১০ লক্ষ টাকা লাভ হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহম্মেদ বলেন মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা মিজানুর রহমানের বিদেশি ক্ষেত নিয়মিত পরিদর্শন ও দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)