ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১২ রজব, ১৪৪০

ভ্রমন শীতে বিছনা কান্দির সোন্দর্য্য

শীতে বিছনা কান্দির সোন্দর্য্য

বিছনা কান্দির সোন্দর্য্য

নাসিম রুমি, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, নিরাপদনিউজ : সিলেট শহর থেকে ৩৫ কি:পথ অতিক্রম করে বিছানা কান্দিতে পৌঁছাইলাম। সড়কের অবস্থা তেমন ভালনা। তাই এই ৩৫ কি:পথ অতিক্রম করতে দুই ঘন্টার সময় লেগেছে। তবে হলেও বিছানা কান্দিতে এসে সবার মনটা আনন্দে ভরে উঠে। কারণ সত্যিই বিছানা কান্দির সৌন্দর্য্য তুলনাহীন। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রস্তুমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা এ জায়গা এখন পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পাথর বিছানো বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপরে বয়ে চলা মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনাধারা বিছনাকান্দির মূল আকর্ষণ।

বিছনা কান্দিতে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

যারা একবার গেছেন, মুগ্ধ হয়ে বার বার ছুটে আসছেন বিছানাকান্দির কূলে। সারা বছরই রূপ মেলে থাকে বিছনাকান্দি। বর্ষার ভরাট জলে তার মায়াজাল আরও বেশি বিস্তৃত হয়। তবে শুকনো মৌসুমেও হতাশ হতে হয় না পর্যটকদের। ছড়িয়ে থাকা পাথরে মেলে ধরা রূপে তাকে বিস্মিত হতেই হয়। বিছনাকান্দি যাবার আগেই উঁচু পাহাড় স্বাগত জানাতে জানাতে ধীরে ধীরে যেনো কাছে চলে আসে।
ভারতের পাহাড় থেকে বাংলাদেশের বুকে জল গড়িয়ে আসছে। এই অগভীর জলের নীচে আছে পাথরের প্রলেপ। প্রকৃতি এতো সুন্দর করে পাথর বিছাতে পারে, সেটা এখানে না এলে বোঝা যেতো না। স্বচ্ছ জলে ডুব দিলে সাগরতলের মত সবকিছু দেখা যায়। যা সত্যিই রোমাঞ্চকর।

বিছনা কান্দি

চারপাশের সৌন্দর্য্যের সব দৃশ্য দেখতে দেখতে এক সময় এই পাহাড়ের কোলে এসে চোখে পড়বে বিস্তীর্ণ পাথর কেয়ারি। বর্ষায় পাথর কেয়ারি পানিতে ডুবু ডুবু। এখান থেকে একটু সামনেই সীমান্ত ঘেঁষা পাথর-জলের বিছনাকান্দি।
বিছনাকান্দিতে পাথর-জলের বিছানা মুগ্ধ হওয়ার মতো। এখানে পাথরের বিছানার উপরে পাশের পাহাড় থেকে অনবরত স্বচ্ছ পানির ধারা বহমান। এ সময়ে মূল ধারায় স্রোত অনেক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এখন প্রতি সপ্তায় ভারতের সীমান্তে ২ দিন হাট বসে বাংলাদেশের পর্যটকরা বৈধভাবে সব ধরনের জিনিস ক্রয় করতে পারে।

বিছনাকান্দির বিছানা বাংলাদেশ আর ভারত মিলিয়ে। স্বাভাবিক ভাবে সীমানা চিহ্ণিত করা নেই এখানে। বিছনাকান্দি জায়গাটি আসলে নো ম্যানস ল্যান্ড ঘেঁষা। সীমান্তে চলাচলের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। সীমান্ত যাতে অতিক্রম না করেন সেদিকে নজর রাখুন।

কিভাবে যাবেন বিছনাকান্দিতে?

ঢাকা থেকে সিলেটে আপনি ট্রেনে বা বাসে করে যেতে পারেন। সিলেট শহরের যে কোন প্রান্ত থেকে রিজার্ভ করা সিএনজি নিয়ে জেতে হবে হাদার পার বাজার, ভাড়া নেবে বড়জোর যাওয়া-আসা ১৫০০ টাকা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)