ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারী ৭, ২০১৫

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শিল্প-সংস্কৃতি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

sekri
ঢাকা, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, নিরাপদনিউজ : হরেক রকমের পিঠা। ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা, চুঙ্গা পিঠা, তালের পিঠা, দুধ চিতই কত কী বিচিত্র সব পিঠার নাম! গ্রামীণ সমাজ-সংস্কৃতিতে প্রচলিত লোকখাদ্যের এ স্বাদ রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও নগরের বাসিন্দারাও পেলেন। এ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পিঠার ধরন বিভিন্ন। স্বাদের রয়েছে ভিন্নতা। গ্রামবাংলার কিছু ঐতিহ্যবাহী পিঠা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজন করেছিল এই পিঠা উৎসব। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভীড়। সন্ধ্যা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিচু তলায় উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা পিঠা উৎসব-২০১৫ এর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্যের পতœী, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কর্সের পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটি আহ্বায়ক মো: রমিজ উদ্দিন এবং সদস্য সচিব মো: কাওসার আলম নাদিম।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা বলেন, আবহমান বাংলার পিঠাপুলির ঐতিহ্য শহুরে মানুষের কাছে অনেকটা লুপ্তপ্রায়। এটি কেবল উৎসব নয়, বরং প্রকৃতি বন্দনার এক মহোৎসব। গ্রামীণ বাঙালির সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে শহরে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এ প্রয়াস অভিনন্দনযোগ্য। উদ্বোধনের পর পরই পড়ে যায় পিঠা খাওয়ার ধুম। এবারের পিঠা উৎসবে ৬ টি স্টলে প্রায় একশ  প্রকারের পিঠার সম্ভার ঘটান আয়োজকরা। দামও খুব চড়া ছিলো না। প্রতিটি পিঠা ১০-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।একদিকে পিঠা খাওয়ার ধুম অন্যদিকে বাঙ্গালী সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশীয় সংগীত, কৌতুক ও নাটক পরিবেশন করা হয়। আহবায়ক মো: রমিজ উদ্দিন বলেন, বাঙ্গালীর এ ঐতিহ্যকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এ আয়োজন।
মেলার আসার দশনার্থী জান্নাত চৌধুরী ও আশিক মাহমুদ বলেন, সব কটি স্টলে ঘুরলাম, কিছু পিঠা খেলাম বন্ধুরা মিলে, এর মাঝে ‘ডিবেটিং সোসাইটি’ এর স্টলের স্পেশাল আইটেম ছিল পুডিং, ক্ষীর, পাটিসাপটা পিঠা। এর সাথে গরম কফিও পাওয়া যাচ্ছিল । ‘বন্ধু সভা’র স্টল থেকে পছন্দ হয়েছে বরফি, সেমাই, পাকান । ‘কিষাণ থিয়েটার’র স্টলে খেয়ছি শামুক পিঠা। আমার বেশী ভাল লেগেছে ‘ফ্রেশ মাশরুম জোন’র মাশরুম সুপ, এছাড়া ‘এগ্রি রোভার্স’ এবং ‘স্বপ্ন সিঁড়ি’র স্টলে ও নানা আইটেমের পিঠার সমারোহ ছিল। সব মিলিয়ে বেশ ভাল একটি উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল ক্যাম্পাসে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে, তাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়েছেন দশনার্থী।
শেকৃবির ছয়টি সংগঠন এ পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করছে। সংগঠনগুলো হচ্ছে- শেকৃবি প্রথম আলো বন্ধুসভা, স্বপ্নসিঁড়ি, কিষাণ থিয়েটার, শেকৃবি ডিবেটিং সোসাইটি, শেকৃবি রোভার স্কাউট ও ফ্রেশ জোন মাশরুম হাউস। উৎসবটি শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শনিবার বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টা থেকে এক মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)