ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ১ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১

সম্পাদকীয় শোক ও আত্মপ্রচারের লজ্জাহীন অসুস্থ্য প্রদর্শনী!

শোক ও আত্মপ্রচারের লজ্জাহীন অসুস্থ্য প্রদর্শনী!

নিরাপদ নিউজ: মানুষ এখন অনেক বেশী রাজনীতি সচেতন, অনেক বেশী আত্মপ্রচারমূখী। কালের বিবর্তন আর প্রযুক্তির আশীর্বাদের কারণে মানুষের আত্মপ্রচারের অভিলাষ বা ঢংটাও বেশ ডিজিটালাইজড হয়েছে। নিজে কোন বিশেষ দলের একনিষ্ঠ কর্মী বা সমর্থক তা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে তুলে ধরতেই হবে।

বা সামনে কোন পদ প্রত্যাশী সেটাও তুলে ধরতে হবে জনসম্মুখে। কিন্তু সেটা কতটা মার্জিত বা শুভনীয় উপায়ে হবে, সেই বিবেচনাবোধটাই আমাদের নব্য পদপ্রত্যাশী বা কর্মী-সমর্থকদের মাথায় অনুপস্থিত থেকে যায়। সবকিছুর উর্ধ্বে এসব প্রচারের জন্য চাই একটা রাজনৈতিক উপলক্ষ। এজন্য বর্তমানে জন্ম থেকে মৃত্যুদিন, কোনটাই বাদ যায় না, সবই রাজনৈতিক কর্মসূচী।

প্রসঙ্গক্রমে গণমাধ্যমে কিছু ছবি ও প্রতিবেদন পড়ে কিছু আত্মোপলব্ধি হলো, অনুশোচনা আর বিবেচনাবোধে একটা ধাক্কা খেলাম। এছাড়া প্রতিবেদনগুলোতে ব্যবহৃত ছবির কারণে সহজেই ভালবাসা ও আত্মপ্রচারের পার্থক্যটা অনুভব করলাম। বাংলাদেশে কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্মেছিলেন। যাদের আত্মত্যাগের কথা বলে শেষ করা যাবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তেমনি এক মানবীয় উপাখ্যান, উজ্জ্বল নক্ষত্র। যারা নিজের আত্মপ্রচার করে আজ সাধারণ মানুষের মানসলোকের উজ্জ্বল তারা নয়, মানুষের জন্য আত্মোৎস্বর্গ করার মধ্য দিয়েই উজ্জ্বল হয়ে আছেন। কিন্তু বর্তমান আত্মপ্রচার অভিলাষী মানুষের মাঝে এ অনুভূতিটিই যেন উপেক্ষিত।

আমরা কেমন করে যেন কোন বিষয়ের মূল ধারা থেকে সহজেই বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছি। জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে শোক ও আত্মপ্রচারের এই বিকৃত সংস্কৃতি শুধু এ দিবসের ভাব-গাম্ভীর্যকেই ক্ষুন্ন করে না, প্রকাশ করে আত্মপ্রচার অভিলাষী মানুষগুলোর হীন মানসিকতাকেও! তাই, সবক্ষেত্রেই অবশ্যই উদ্যাপন ও প্রচারের প্রয়োজনীতা আছে, তবে তা যেন দিবসের তাৎপর্যকে ম্লান করে না দেয়, যেন তা আমাদের আত্মপ্রচারের লজ্জাহীন অসুস্থ্য প্রদর্শনী না হয়!

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)