আপডেট ১৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০

পরিবেশ, সিলেট শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে কালনাগিনী

শ্রীমঙ্গলের লোকালয়ে কালনাগিনী

নিরাপদ নিউজ: যে কোনো সাপের নাম শুনলেই ভয় লাগে। দেখলে গা শিউরে ওঠে। আর সেই সাপটি যদি হয় কালনাগিনি তাহলে তো কথাই নেই। বাংলার চিরায়ত গাথা, কল্পকাহিনী, পালা, কীর্তন আর উপাখ্যানে এ সাপকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই তো মানুষের মুখে মুখে কালনাগিনি এত পরিচিত। তবে গল্প-গাথায় এ সাপকে যতটা ভয়ঙ্কররূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে তা নয়। এ সাপটি খুব নিরীহ, দেখতে সুন্দর। গবেষকরা বলছেন, কালনাগিনির দাঁতে কোনো বিষ নেই। গতকাল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি কালনাগিনি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরের ডাকবাংলো পাড়ে পৌর মেয়রের বাড়ির দেয়াল থেকে সাপটি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাপ গবেষকরা জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এ সাপ দেখা যায়।

এ সাপের ইংরেজি নাম Ornate Flying Snake। বৈজ্ঞানিক নাম  Chrysopelea Ornate । এ সাপ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, হংকং, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে বসবাস করে। এ সাপটি বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায়ই দেখা যায়। আগে শুধু সিলেট ও চট্টগ্রামের বনাঞ্চল ও সুন্দরবনে বেশি দেখা যেত। কালনাগিনির কোনো বিষ নেই। এরা ভয়ঙ্কররকম জেদি আর প্রতিহিংসাপরায়ণ নয়। বরং এ সাপ অনুমানের চেয়ে একটু বেশি ভীতু আর নার্ভাস। এ সাপের মাথা ছোট ও চ্যাপ্টা; গলা চিকন। দেখতে অনেক সুন্দর। সাপটি দেখতে সাদা বা সবুজাভ হলুদ, দেহের ওপর কালো ডোরাকাটা। এর পিঠজুড়ে লাল আর কমলা রঙের ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। এরা চঞ্চল প্রকৃতির। অন্য সাপ যখন এদের শিকারের জন্য তাড়া করে তখন কালনাগিনি গাছের মগডালে উঠে পড়ে। এতেও যদি প্রাণ রক্ষা না হয় তাহলে তারা উড়ে গিয়ে এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলে যায়; যা অন্য সাপ করতে পারে না। গাছের এক ডাল থেকে আরেক ডালে দ্রুত যেতে পারে। তাদের পছন্দের খাবার টিকটিকি, বাদুড়, ইঁদুর ও কাঠবিড়ালি । ইঁদুর শিকার করার জন্য কখনো কখনো বাড়িঘরে এরা ঢুকে পড়ে। অনেক সময় এদের ফসলের খেতে, বাড়ির ফুলের বাগানেও দেখা যায়।

বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ আসিফ বলেন, ‘কালনাগিনি অসম্ভব একটি সুন্দর সাপ। এ সাপটি এখন আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ সাপুড়েদের হাতে ধরা পড়া। কালনাগিনিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আগে সাপুড়েদের পেশা বদল করে ভিন্ন পেশায় নিতে হবে। কারণ, কালনাগিনি সাপুড়েদের খুব পছন্দের একটি সাপ।’

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)