আপডেট ৪২ মিনিট ২৮ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

রাজনীতি, লিড নিউজ ‘সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দোয়ার সব সময় খোলা আছে’

‘সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দোয়ার সব সময় খোলা আছে’

নিরাপদ নিউজ: সংলাপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোয়ার সব সময় খোলা আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা আছে ওবায়দুল কাদেরের এমন এক বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার দরজা কারো জন্য কখনো বন্ধ ছিল না, শেখ হাসিনার দরজা সবার জন্য সব সময় খোলা থাকবে। কেউ কোনো বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তার কাছে নিয়মমাফিকভাবে আলোচনা করতে চান, আলাপ করতে চান আমাদের নেত্রী দুয়ার খোলা আছে-আমি এটা বলেছি।”

গণভবনে চা চক্রের নামে তামাশা হয়েছে বিএনপির এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপি আসলে নেতিবাচক রাজনীতিতে গভীর খাদের কিনারায় চলে এসেছে। তাদের এখন খাদে পড়তে আর বেশি বাকি নাই। এ অবস্থায় তারা বেসামাল হয়ে, বেপরোয়া হয়ে যখন যা খুশি তাই বলছে। এখানে কোন যুক্তি নেই, এখানে কোন বাস্তবতা নেই।কারণ এই নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে এই মুহূর্তে কোন প্রশ্ন নেই।

“দুনিয়ার সব সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ গুলো এই নির্বাচনে বিপুল জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করার কথা, স্বয়ং জাতিসংঘ থেকেও উচ্চারিত হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোথাও কোন প্রশ্ন নেই, কোথাও কোন বিতর্ক নেই এবং দেশ ও জনগণের মাঝে কোন প্রকার বিরূপ সমালোচনা নেই। একমাত্র বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতারাই আজকে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। কাজেই তারা কে কি বলল তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। কারণ এটা ব্যর্থ বিএনপির অসংলগ্ন প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।”

বিএনপির আন্দোলনের হুমকির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাদের বলেন, “বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি লিগাল বিষয়। লিগেল ব্যাটেল করে তারা যদি তাদের নেত্রীকে মুক্ত করে তাহলে তাদেরকে স্বাগতম। এটা আইনের বিষয়ে আইনগতভাবে সমাধান হবে। এখন আন্দোলন করে বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়াকে মুক্ত করবে, এটা এখন আর দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। কারণ তাদের আন্দোলন আষাঢ়ের তর্জন গর্জনেই সার। এর কোন আবেদন নেই।”

আপনাদের গঠনতন্ত্র স্পষ্টভাবে বলা আছে উপজেলার বর্ধিত সভার মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদটি মনোনয়ন দিতে হবে। কিন্তু অনেক জায়গা অভিযোগ আসছে এমপি তাদের প্রভাব খাটিয়ে একক নাম পাঠাচ্ছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের বলেন, “সে রকম অভিযোগ আসতে পারে। এখন এককভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে যদি কোনো নাম বা তালিকা আসে সেজন্য তো আমাদের মনোনয়ন বোর্ড আছে। কেউ কোন অনিয়ম করলো কিনা সেটা দেখার জন্য আমাদের এই বোর্ড। তৃণমূলের নামগুলো সঠিক ভাবে আসছো কিনা সেটা দেখার জন্যই তো আমাদের এই মনোনয়ন বোর্ড।

“সঠিকভাবে নাম না আসলে, সঠিকভাবে কি করতে হবে সেখানে সার্ভে রিপোর্টও আছে। সব মিলিয়ে আমরা মমনোনয়ন দিবো। শুধুমাত্র তৃণমূলের রিপোর্টের উপর আমরা ভিত্তি করব না। কারণ তৃণমূলের রিপোর্টে যদি কোনরকম ম্যানিপুলেশন হয় সে অবস্থায় সার্ভে রিপোর্ট আমাদের কাজে দিবে।”

কিন্তু যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যাদের নাম তৃণমূল থেকে আসবে শুধুমাত্র তাদের কাছে ফরম বিক্রি করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “আমরা মনোনয়ন দেব কাকে সেটা মনোনয়ন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু ফরম বিক্রির ব্যাপারে আমরা যদি মনে করি কাউকে দেওয়া উচিত, ফরম বিক্রি করা দরকার, অনেক জায়গা ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান অনেকেরই নাম নেই, অনেকে হয়তো বা অভিযোগ করেছে আমার নামটি অন্যায় ভাবে পাঠায়নি, এই ধরনের অবস্থায় ফরম বিক্রি করতে তো কোনো অসুবিধা নেই-ফরম আমরা দিয়ে দিব। এরপর বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে মনোনয়ন কাকে দেবে।”

অনেক এমপি এবং মন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতারা তাদের নিজ এলাকার প্রার্থীর নাম এককভাবে পাঠাচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, “শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে যে মনোনয়ন বোর্ড বসবে সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে যাচাই-বাছাই করে জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই আমরা সিলেক্ট করব।”

বিএনপি বলছে জাতীয় নির্বাচনে যেমন ভোট ডাকাতি হয়েছে, ডাকসু নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “নির্বাচনের আগেই তারা হেরে যাচ্ছে এটা তো তাদের পুরনো অভ্যাস। এটা তাদের স্বভাব সুলভ বক্তব্য, নালিশের রাজনীতি তাদের নতুন নয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)