ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১০, ২০১৪

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০

অপরাধ, আইন-আদালত সচিব শওকতের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতি পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত

সচিব শওকতের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতি পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত

dudokঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০১৪, নিরাপদনিউজ : প্লট জালিয়াতির অভিযোগে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে করা তিন মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য ইতিমধ্যে কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বুধবার দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মামলাটি আবার তদন্ত করতে দুদকের উপপরিচালক জয়নাল আবেদীন শিবলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. বেলাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। ৯ ডিসেম্বর সংস্থাটির উপপরিচালক মো. বেনজীর আহমেদের সই করা এক চিঠিতে তাদের এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২২ এপ্রিল মতিঝিল থানায় করা (মামলা নং-৮, ৯ ও ১০) মামলাগুলো পুনঃ তদন্তের নিমিত্তে দুদকের উপপরিচালক জয়নাল আবেদীন শিবলীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পরিচালক মো. বেলাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক যতন কুমার রায়ের নিকট হতে মামলাগুলোর যাবতীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহপূর্বক বিধি মোতাবেক মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নিদের্শক্রমে অনুরোধ করা হলো।
অভিযোগ রয়েছে, অবসরে যাওয়ার আগে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক যতন কুমার রায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিটের পরিবর্তে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের সুপারিশ রেখেছেন। তিনি গত ৯ নভেম্বর ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের অনুমতি চেয়েছিলেন।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে চার্জশিট দাখিলের পক্ষে অবস্থান নেন এক কমিশনার। তিন সদস্যের কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিধান রয়েছে। অপর কমিশনার আবার তদন্তের পক্ষে অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে কমিশনের চেয়ারম্যান পুনঃ তদন্তের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।
গত ৩০ নভেম্বর ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর এক বৈঠকে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে প্লট জালিয়াতির তিন মামলার আবার তদন্ত করা হবে।
নামে-বেনামে একাধিক প্লট নেয়া এবং বেআইনিভাবে প্লটের আয়তন বাড়ানোর অভিযোগে গত ২২ এপ্রিল প্রবাসীকল্যাণ-সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক। এসব মামলা তদন্ত করেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক যতন কুমার রায়। তিনি টানা ছয় মাস তদন্ত শেষে গত ৯ নভেম্বর ড. খোন্দকার শওকত হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিলের অনুমতি চান।
সচিব শওকত তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে উত্তরা সম্প্রসারিত প্রকল্পে প্লট নেন এবং পরে প্লটের আকার বাড়িয়ে তা বিক্রি করেন। স্ত্রী আয়েশা খানমের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুই দফা আকার বাড়ান, যা ১৯৪৭ সালের ২ নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ৪৭৭(ক)/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)