আপডেট ১৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৬ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২১ সফর, ১৪৪১

খুলনা, নারী ও শিশু সংবাদ সন্তানের স্বীকৃতি পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তরুণী!

সন্তানের স্বীকৃতি পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তরুণী!

নিরাপদ নিউজ: ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীর (১৯) সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিন সন্তানের জনক স্থানীয় প্রভাবশালী মনির মোল্লা। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই তরুণী। দেড় মাস আগে ওই তরুণী এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ওই সন্তানের স্বীকৃতি দিচ্ছেন না মনির মোল্লা। সন্তানের স্বীকৃতি পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই তরুণী। উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের ছোট পাইককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত মনির মোল্লা ছোট পাইককান্দি গ্রামের মৃত রাশেদ মোল্লার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট পাইককান্দি গ্রামের ওই তরুণীর বাবা অন্যের জমিতে কামলা দেন এবং মা জুলেখা বেগম বিভিন্ন বাড়িকে কাজ করেন। তিনি তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ এবং বোনদের মধ্যে বড়। তাদের কোনো জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে ঘর তুলে সেখানে বসবাস করেন তারা। পুরাতন টিনের ভাঙা দোচালা ঘরের চার পাশে পাট কাঠির বেড়া। এমন একটি ছোট ঘরই তাদের পরিবারের ৭ সদস্যের মাথা গুজার শেষ ভরসা।

প্রতিবেশী তিন কন্যা সন্তানের জনক মনির মোল্লা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি তিনি মনিরকে জানালে মনির তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। এরপর মনির যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি ওই তরুণী স্থানীয়দের জানালে মনির প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিছুদিন পর ছেলে সন্তান প্রসব করেন ওই তরুণী। সন্তান জন্মের দেড় মাস পার হলেও মনির সন্তানের স্বীকৃতি দিচ্ছে না।

হতদরিদ্র ওই তরুণী বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মনির আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে আমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মনির বিয়ে করবে বলে। কিন্তু কিছুদিন পর সে সবকিছু অস্বীকার করছে।

তিনি বলেন, মনির আমার সন্তানের জন্মদাতা। কিন্তু মনির মোল্লা কিছুতেই শিশুটির স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছে না। শিশুটির বর্তমান বয়স দেড় মাস। নাম রাখা হয়েছে নুর হাসান। এলাকার মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ বিষয়ে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো সমাধান করা হয়নি। দরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে তাদের ভরণপোষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে অভিযুক্ত মনির মোল্লা বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি যে ওই শিশুর জন্মদাতা এর কোনো প্রমাণ নেই।

কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)