সংবাদ শিরোনাম

২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং

00:00:00 শনিবার, ৭ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বর্ষাকাল, ২৯শে শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী
লিড নিউজ, সাক্ষাৎকার সবাইকে সচেতন করা না গেলে সড়ক নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাবে না: ইলিয়াস কাঞ্চন

সবাইকে সচেতন করা না গেলে সড়ক নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাবে না: ইলিয়াস কাঞ্চন

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২১, ২০১৭ , ১:১৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: লিড নিউজ,সাক্ষাৎকার

সবাইকে সচেতন করা না গেলে সড়ক নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাবে না

নিরাপদ নিউজ: জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন । সামাজিক আন্দোলন নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিশেষ ভুমিকা পালন করছেন তিনি। তার সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই আজ দেশ বিদেশে সব খানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সবার দাবি এখন একটাই নিরাপদ সড়ক চাই। সম্প্রতি চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের দেয়া সাক্ষাতকারটি পাঠক আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো।

এম এ খালেক: আপনি অনেক দিন ধরেই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের সফলতা-ব্যর্থতা সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবেন কি?

ইলিয়াস কাঞ্চন: আমি অনেক দিন ধরেই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করছি। কিন্তু এই আন্দোলনের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে সেভাবে কোনো মূল্যায়ন কখনো করিনি। আমরা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে কতটা সফল হয়েছি বা ব্যর্থ হয়েছি তার মূল্যায়ন তো করবে সাধারণ মানুষ। কোনো আন্দোলনই তো ব্যর্থতার জন্য হয় না। সবাই সফল হবার জন্যই আন্দোলন করে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সম্পর্কে যদি বলতে চাই তাহলে বলবো, এত বছরের আন্দোলনে আমরা যা করতে চেয়েছি তা হয়তো করতে পারিনি। আমাদের আরো অনেক কিছু পাবার কথা ছিল তা পাইনি। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, নিরাপদ সড়ক চাই যতটা সফল হওয়া উচিৎ ছিল ততটা হয়নি। এই ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতা আমাদের নয়, আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি কিন্তু যাদের পরামর্শ গ্রহণ করার কথা তারা তা গ্রহণ করেন নি। আমাদের পরামর্শ যদি গ্রহণ করা হতো তাহলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমান অবস্থায় থাকতো না। সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসতো। এক সময় বাংলাদেশ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে ছিল। এখন সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে র‌্যাংকিং এ বাংলাদেশের অবস্থান অনেক দেশের চেয়ে নিচে রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ভারত, ব্যাঙ্কক, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ইত্যাদি দেশগুলো আমাদের চেয়ে অনেক উপরে অবস্থান করছে। অবশ্য এতে উল্লসিত হবার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে এখনো প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় যে বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে অনেক দেশে যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায় না। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হলে মহাসড়কে এই মৃত্যুর মিছিল পুরোপুরি বন্ধ না করা গেলেও অনেকটাই কমানো যেতো। আমরা ২৪ বছর ধরে এই আন্দোলন করছি। এখনো পর্যন্ত কোনো আইন প্রণীত হয়নি। সরকার সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে আমাদের দেয়া সাজেশনগুলো সেভাবে নেয়া হয় নি।

এম এ খালেক: প্রস্তাবিত আইনের নামকরণ নিয়ে আপনাদের আপত্তি আছে বলে শুনেছি। এই আপত্তির কারণ বলবেন কি?

ইলিয়াস কাঞ্চন: সরকার সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে আইন করতে যাচ্ছেন তার নামকরণ নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। ভারতেও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক আইন প্রণীত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের রোড সেফটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে আমি সেখানে কাজ করছি। সেই সুবাদে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে আমার অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের যে প্রধান তিনি ভারতীয়। তার মাধ্যমে জানতে পারি ভারত গত বছর ক্যাবিনেটে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন আইন পাশ করেছে। তারা সেই আইনের টাইটেল পরিবর্তন করেছে। তারা সেই আইনটি শুধু মোটর ভেহিকেলের উপর সীমাবদ্ধ রাখেনি। তারা যে আইন করেছে তার নামকরণ করেছে মোটর ভেহিকেল এন্ড সুরক্ষা আইন নামে তারা এই আইন প্রণয়ন করেছে। আমরা সরকারের নিকট প্রস্তাব করেছিলাম যে আইন প্রণীত হতে যাচ্ছে তার নামকরণ করা হোক, ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন।’ সড়ক পরিবহন আইন এবং সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, সড়ক পরিবহন আইনের মধ্যে আসবে চালক যদি ভুল-ত্রুটি করে তাহলে তাকে জরিমানা করা, ক্ষতিপূরণ আদায় ইত্যাদি বিষয় থাকবে। কিন্তু আমরা জানি সড়ক দুঘটনার জন্য শুধু চালক এককভাবে দায়ি নয়। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার পুরোটাই এলোমেলো অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সেই সিস্টেমের প্রত্যেকেকেই যদি আইনের আওতায় আনা না যায় তাহলে সড়ক পরিবহন আইন হবে কিন্তু দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। সড়ক নিরাপত্তা আইনটি যখন হবে তখন নিরাপত্তার জন্য কি কি করা দরকার এই বিষয়গুলো উঠে আসবে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা আবশ্যক তাহলো, সড়কের নিরাপত্তার জন্য সরকারি ভাবে কোনো বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় না। সড়ক নিরাপত্তা আইন যখন প্রণীত হবে তখন সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখানে বাজেট বরাদ্দও দিতে হবে। আইনে হয়তো বলে দেয়া হলো যে, গাড়ি চালক যেনো ফেক ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি না চালায়। আপনি হয়তো আইন করে দিলেন যে, ফেক ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালালে চালকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। কিন্তু এই সেক্টরের উন্নয়নেরও তো দরকার আছে। আইন করলেন, ফেক ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে, একজন ড্রাইভার যেনো কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সঠিক ডাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করার সুযোগ পায়। শুধু সড়ক পরিবহন আইন করা হলে সেখানে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। আমাদের আপত্তির বিষয়টি এখানেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গাড়ি চালক রাস্তায় চলার সময় যদি আইন লঙ্ঘন কওে তাহলে তাকে দু’টি অপশন দেয়া হয়। বলা হয়, তুমি কি ১০০ ডলার বা ২০০ ডলার জারিমানা দেবে নাকি তোমার নিজের খরচে ৭দিনের নিরাপদ ড্রাইভিং কোর্স করবে? যদি চালক যদি নিরাপদ ড্রাইভিং কোর্স করতে সম্মত হয় তাহলে কোর্ট থেকেই বলে দেয়া হবে কোথায় গিয়ে তিনি কোর্সটি করবেন। শুধু আইন করলেই হবে না যিনি আইন মানবেন তাতে স্কিলড করে তুলতে হবে। একজন চালককে জানাতে হবে নিরাপদ ড্রাইভিং জিনিষটি আসলে কি? একজন গাড়ি চালক নিশ্চয় মানুষ মারার জন্য সড়কে গাড়ি বের করেন না। চালকের অজ্ঞতা বা অদক্ষতার কারণেই সাধারণত দুর্ঘটনা সংঘঠিত হয়ে থাকে। আপনি একটি সুন্দর আইন প্রণয়ন করলেন কিন্তু যার জন্য সেই আইন তিনি সে সম্পর্কে কিছুই জানলেন না বা সেই আইন মেনে চলার মতো সামর্থ তার থাকলো না তাহলে আইন কখনোই কার্যকর হতে পারে না। আপনি আইন করে দিলেন কিন্তু সেই আইন চলার মতো উপযুক্ততা অর্জনের ব্যবস্থা করলেন না তাহলে দেখা যাবে চালকের সংখ্যা কমে যাবে। এমনিতেই দেশে গাড়ির তুলনায় চালকের সংখ্যা কম। আইন করার ফলে চালকের সংখ্যা আরো কমে গেলো। তাতে সমস্যা আরো বাড়বে। ডিম্যান্ড এন্ড সাপ্লাইয়ের মধ্যে যদি আপনি সমন্বয় করতে না পারেন তাহলে দুর্নীতি আরো বৃদ্ধি পাবে। আমাদের চাওয়াটা হলো সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন। সরকার সড়ক নিরাপত্তা আইন সংক্রান্ত যে খসড়া আমাদের দিয়েছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমরা চার দিনের সেমিনার করে আমাদের সাজেশনগুলো দিয়েছিলাম। আমাদের সাজেশন গ্রহণ করা হলো কি হলো না বা কতটা গ্রহণ করা হলো তা আমরা জানতেও পারিনি। এখানে সুক্ষ কিছু বিষয় আছে যেগুলো আইন প্রতিফলিত না হলে শুধু আইন করে কোনো লাভ হবে না। তারপরও স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর সরকার সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ অতীতে কোনো সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নেয় নি।

এম এ খালেক: সড়ক নিরাপত্তা আইন যদি প্রণীত না হল তাহলে কি ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করেন?

ইলিয়াস কাঞ্চন: সড়ক নিরাপত্তা আইন যদি না হয় তাহলে আমরা যে দাবি করেছি স্কুলের পাঠ্য সূচিতে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হতে পারে। উল্লেখ্য,সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকরা একা দায়ি নন। এখানে যাত্রীদেরও দায়ভার রয়েছে। পথচারি আছেন,যারা সড়ক অতিক্রম করছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে। সবাইকে সচেতন করা না গেলে সড়ক নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাবে না। আইনটি যদি ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’ নামে অভিহিত করা হয় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট সবাই এর আওতাভুক্ত হবে। মহাসড়কে নছিমন,করিমন নামে যে সব বাহন চলাচল করে তাদের নিয়ন্ত্রণে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সরকারের নিকট একটি প্রস্তাব দিয়েছে ১৮০০কিলোমিটার সড়ক তাদের একটি পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসার হয়েছে। আরো ২৫০ কিলোমিটার সড়ককে পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। মহাসড়কের দুই পাশে এসব যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে। এদের ক্রসিং হবে মহাসড়কের নিচ দিয়ে,যাতে এরা কোনোভাবেই মহাসড়কে চলাচলকারি দ্রুত যানের সংস্পর্শে আসতে না পারে। কয়েক দিন আগেও এডিবির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তিনি বললেন, এটা করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে। অবশ্য পয়সা দিয়ে যদি এরা মহাসড়কে উঠে যায় তাহলে তো কিছু করার থাকবে না। বাংলাদেশে অত্যন্ত সুন্দর সুন্দর আইন আছে। আইন কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা রয়েছে আইনের সঠিক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে বাজার বসছে। এসব বাজার প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকের যেমন দায়িত্ব আছে। তেমনি পথচারি বা অন্যান্য যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের দায়িত্বও কম নয়। সবারই দায়িত্ব আছে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার ক্ষেত্রে। যারা রোড ডিজাইন করেন, যারা ড্রাইভিং লাইসেন্সে প্রদান করেন তারাও দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। তাই আমরা চাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেই যেনো আইনটি প্রণীত হয়।

এম এ খালেক: বাংলাদেশে নদী হারিয়ে যাচ্ছে। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

ইলিয়াস কাঞ্চন: বাংলাদেশ নদী মাতৃক একটি দেশ। কিন্তু বর্তমানে আমি খুব কষ্টে আছি নদী হারিয়ে যাবার বিষয়টি নিয়ে। নদী ভরাট ও দখলের মাধ্যমে যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে তা খুবই দু:খজনক। আমি জানি না ভবিষ্যতে কি হবে। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় এক সময় নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নদীকে ঘিরেই পরিচালিত হতো। এখন সড়ক পরিবহন খাত যোগাযোগ ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু তাই বলে কিন্তু নদীর আবশ্যকতা শেষ হয়ে যায় নি। নদী হারিয়ে গেলে জীবন হারিয়ে যাবে। নদী হারিয়ে গেলে আমাদের অবস্থা কি হবে এটা কারা মাথায় নেই। নদী সুরক্ষায় আইন আছে কিন্তু সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই। ফলে যে যেভাবে পরছে নদী দখল করে নিচ্ছে,নানা ধরনের স্থাপনা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এসব নদী পুনরুদ্ধার করা বেশ কঠিন হবে। আমাদের দেশে আইনের প্রয়োগ কোনো ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে হচ্ছে না।

এম এ খালেক: আপনার এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাবার কথা ছিল, তার কি হলো?

ইলিয়াস কাঞ্চন: নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেনি। আমরা এ ব্যাপারে একটি আবেদন করেছিলাম। জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে এটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হয়। আমাদেও আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতিসঙ্ঘ থেকে একটি পত্রের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয় যে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে আবেদন করলে হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই আবেদন প্রেরণ করতে হবে। আমরা বিষয়টি তৎকালিন সরকারকে জানাই। এরপর জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির নিকট আবেদন পত্রটি পাঠানো হলে তিনি একটি চিঠি লিখেন। যে চিঠির কারণে আমাদের উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। জাতিসঙ্ঘে বিষয়টি আর উত্থাপিত হয় নি। উনি যে কাজটি করেছিলেন তা অত্যন্ত জঘন্য এবং গর্হিত একটি কাজ। জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব ছিল ইস্যুটি জাতিসঙ্ঘে উত্থাপন করা। কিন্তু তিনি তা না করে সরকারকে একটি চিঠি লিখেন, ‘যে কোনো দিবস পালন করতে হলে বাজেটের প্রয়োজন হয়। জাতিসঙ্ঘে সবচেয়ে বড় বাজেট প্রদান করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমার সন্দেহ আছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে কোনো বাজেট দেবে কিনা।’ জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তার অনুমিত ধারনার উপর ভিত্তি করে এ ধরনের একটি নেতিবাচক চিঠি লিখে উদ্যোগটি বন্ধ করে দিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা মিজারুল কায়েস সাহেবের (যিনি সম্প্রতি ইন্তোকাল করেছেন) নিকট যাই। তিনি তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। তিনি নিজে কোনো দায়িত্ব না নিয়ে কিছু সাজেশন দিলেন। তিনি বললেন, আগে আপনার নিজের দেশে এটা গেজেট আকারে জারি করেন। তারপর সার্কে করেন তাহলেই জাতিসঙ্ঘে যাওয়া যাবে। কিন্তু এত কিছু করা লাগে না। বাংলাভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করার জন্য এত কিছু করতে হয় নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত এই মহতী উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়েছে।

এম এ খালেক: বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনার কারণে প্রচুর মানুষ মারা যায়। এতে কেমন আর্থিক ক্ষতি হয় বলে মনে করেন?

ইলিয়াস কাঞ্চন: বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রচুর মানুষ মারা যায়। জাতিসঙ্ঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় যে আর্থিক ক্ষতি হয় তা মোট জিডিপি’র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ এর পরিমাণ প্রায় ১৫ হতে ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার এই পরিসংখ্যানের কোনো প্রতিবাদ করেন নি। অর্থাৎ তারাও এই হিসাব মেনে নিয়েছেন। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে যে অকালে চলে গেলো তার কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। এটা আর্থিক ক্ষতি দ্বারা নিরূপন করাও সম্ভব নয়। দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার স্ত্রী স্বামী হারাবেন। ছেলে-মেয়েরা বাবা হারাবে। এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হবার নয়। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে বছরে একটি টাকাও ব্যয় করা হচ্ছে না। সড়ক পরিবহন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে থাকেন। সেই আয় থেকে সামান্য অংশও যদি রোড সেফটির জন্য বয় করা হতো তাহলে দুর্ঘটনা এ পর্যায়ে থাকতো না। আমরা চাই সরকার এমন একটি আইন প্রণয়ন করুক যা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাতকার গ্রহণে: এম এ খালেক

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us