সংবাদ শিরোনাম

১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং

00:00:00 শুক্রবার, ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , শীতকাল, ৩রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
জীবনযাপন, লিড নিউজ সব কিছু শেষ করে দিয়েছে একটি সড়ক দুর্ঘটনা: সন্তানের লাশের অপেক্ষায় বাকরুদ্ধ পিতা

সব কিছু শেষ করে দিয়েছে একটি সড়ক দুর্ঘটনা: সন্তানের লাশের অপেক্ষায় বাকরুদ্ধ পিতা

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০১৮ , ৩:০১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জীবনযাপন,লিড নিউজ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির মধ্যে নিহত মতিউর রহমান বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীর ছেলে

নিরাপদনিউজ : অনেক স্বপ্ন ছিল। ছেলে বিদেশ গিয়ে টাকা পাঠাবে। সংসারে আর দুঃখ কষ্ট থাকবে না। ছেলের টাকায় চিকিৎসা হবে। এতে বড় ছেলের নষ্ট হয়ে যাওয়া দুটি চোখ স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরে পাবে। তাই সাড়ে সাত লাখ টাকা ঋণ করে আদরের সন্তানকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন বৃদ্ধ বাবা।  কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। বাকরুদ্ধ পিতা এখন সন্তানের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির মধ্যে নিহত মতিউর রহমান বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তার পাসপোর্ট নাম্বার এএফ ৮২৯৭৯২৮। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বারদীর আনন্দবাজার, নুনেরটেক গ্রামে। মতিউরের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। মতিউর রহমান ২৩ মাস আগে আল ফাহাদ কোম্পানিতে মাসিক ৬০০ রিয়েল বেতনে সৌদি আরবে গিয়েছিল। অসচ্ছল পরিবারকে সহায়তা করতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠান বৃদ্ধ বাবা মোহাম্মদ আলী। বিদেশে যাওয়ার পর মতিউর নিজের খরচে খেয়ে পরে দেশে অল্প কিছু টাকা পাঠাতে পারতো। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধ না হওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা যায়।

৬ই জানুয়ারি সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে ইয়ামেন সীমান্ত এলাকার জিজান প্রদেশে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে মতিউর রহমান নিহত হন। সে জিজান প্রদেশের আল ফাহাদ কোম্পানির পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। নিহত অন্যদের সঙ্গে মতিউরের লাশ জিজানের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রমতে, ৫ ভাই বোনের মধ্যে মতিউর রহমান সবার ছোট। তার আয়ের টাকায় তাদের সংসার চলতো। তার বাবা মোহাম্মদ আলী বৃদ্ধ, তার বড় ভাই রোশন আলীর একটি চোখ নষ্ট। চিকিৎসার অভাবে দুটি চোখই নষ্ট হওয়ার পথে। অপর ভাই কাজ করতে পারে না বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। নিহত মতিউরের বাবা মোহাম্মদ আলীর একটাই দাবি, তার ছেলের লাশটি যেন ফিরে পান। মতিউরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা ও আর্থিক সাহায্য কামনা করেন তিনি। কিন্তু ঋণের টাকা পরিশোধের দায়িত্ব কে নেবে, সংসারই বা চলবে কিভাবে? এই চিন্তায় নিহত মতিউরের বৃদ্ধ মা বাবা অনেকটা বাকরুদ্ধ।

সরজমিনে মতিউরের গ্রামের বাড়ি নুনেরটেক গ্রামে গিয়ে দেখা যায় পুরো বাড়ি জুড়ে শোকের ছায়া। স্বজনদের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। কথা হয় মতিউরের বাবা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন মতিউর। তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। বড় ছেলে রওশন আলীর একটি চোখ নষ্ট। বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী বলেন স্ত্রী, সন্তান, নাতি নাতনিদের নিয়ে কি করে সংসার চলবে। কিভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবো। বাড়ির দলিল দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো কোনো উপায় দেখছি না। একটু সুখের আশায় ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন আমাদের সামনে শুধুই অন্ধকার।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us